ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
92
আতশী গল্পে নারীর ব্যক্তিত্ব
Published : Friday, 11 August, 2017 at 12:00 AM
আতশী গল্পে নারীর ব্যক্তিত্বরাজিয়া সুলতানা ইলি ।।
বাংলাদেশের ছোটগল্পের ইতিহাসে শাহেদ আলী স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। সময়ের স্বল্পতার মধ্যেও শাহেদ আলীর হাতে ছোটগল্প সমৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হয়েছে। তার লেখনীতে ছোটগল্প যতেষ্ট উৎকর্ষ এবং নতুনত্ব লাভ করেছে। আতশী গল্পটি গ্রামীণ পটভুমিতে নিতান্তই একটি দরিদ্র মেয়ের কাহিনী। ভাগ্য যাকে বারবার বঞ্চনা করেছে। অত্যন্ত কচি বয়সে মালেকা তার বাপ মাকে হারায়। এক ভাই ছিল। বছর চারেক আগে সেও জান্নাতবাসী হয়। সামান্য কিছু জমি ছিলভ গ্রামের মুসলমান মহাজন সামান্য ঋণের পরিবর্তে সেই জমিটুকু গিলে খেয়েছেন। কাজেই মালেকা এখন ঝাড়া হাত পা। এই পৃথিবীতে মালেকার নিজের বলতে কিছুই নেই। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে মালেকার প্রথম বিয়ে হয়। লেখকের ভাষায়- ‘চৌদ্দ বছর বয়স- যৌবনের পানি দেহের কিনারায় ফুলে ফেপে উঠতে চাইছে। ঠিক এমনি সময়ে প্রথম শাদি হলো মালেকার। বড় ভাই লতিফ এক কেতাব পড়া মুন্সিকে ডেকে এনে ‘দানে’ শাদি দিলো মালেকার। হাতে তাগা বেঁধে মুন্সির সঙ্গে মালেকার জীবনধারাকে যুক্ত করে দেয়া হল এক শুভমুহূর্তে। মালেকার গায়ের রং ফর্সা কালোর মাঝামাঝি। স্বাস্থ্য ভালো। বিয়ের পর মালেকা এবং মুন্সির সময়গুলো কেটে গেল ফুরফুর করে। কিন্তু তারপর অনিবার্যভাবে দেখা দিল সংঘাত। মুন্সি কিছু কিছু আরবি ফারসি পড়েছিল। সেইটুকু বিদ্যের জোরে বাড়ি বাড়ি মিলাদ আর খতম পড়ায়। এটাই তার মূল পেশা। অবসর সময়ে বসে বসে শুধু তাাবিজ লেখে। মানুষের সদকা দেয়া বকরিটা মুরগিটা নিয়ে আসে। এই সদকার মুরগি নিয়েই একদিন সংঘাত বাধল। মালেকার বয়স কম হলেও ব্যক্তিত্ব ছিল অসাধারণ। মুন্সি একদিন একটি সদকার মুরগি নিয়ে আসে। মালেকা রান্না করবে বলে মুরগিটা হাতে তুলে নিয়েছিল। মুরগির দাম জিজ্ঞেস করে সে জানতে পারে এটা সদকার মুরগী। সঙ্গে সঙ্গে তার হাত থেকে মুরগিটা পড়ে যায়। মালেকা সাফ জানিয়ে দেয়, এই মুরগি সে রান্না করতে পারবে না। পরের ময়লা সে খাবে না। সে আরো অভিযোগ করে, মুন্সির কি হাত পা নেই? সে কাজ করতে পারে না? লেখকের ভাষায় : ‘মুন্সি চটে আগুন হয়ে উঠে। আমি কাজ করতে পারি না ? ভাত কাপড় বুঝি এমনি জুটে ? মালেকা এ কথার কোন উত্তর না দেয়ায় মুন্সির আহত বিক্ষুব্ধ পৌরষ গর্জে উঠে। প্রথমে সে মালেকার চুলের মুঠি ধরে এক চোট কিল দিয়ে নেয়। তারপর একটা লতানো কঞ্চি নিয়ে তার পিঠে বেদম মারতে থাকে। কিন্তু মালেকা একটু আর্তনাদ পর্যন্ত করল না। ঠায় দাড়িয়ে নীরবে হজম করে গেল সব। মুন্সি নিজে নিজে ভাত বেড়ে খেয়ে বারান্দায় পড়ে থাকে। মালেকার সঙ্গে এক বিছানায় শোয়না। মালেকা যতদিন ক্ষমা চাইবে না, ততদিন মুন্সি মালেকার সঙ্গে ঘুমাবে না। কিন্তু এসব করে মালেকাকে নোয়ানো যায় না। তার অসম্ভব জেদ। পরদিন থেকে সে রান্না বন্ধ করে দেয়। নিজেও উপোস করতে থাকে। মুন্সি ভাবে মালেকার মাথা খারাপ কিনা। নিরুপায় হয়ে সে যা পারে, রান্না করে। তৃতীয় দিন গরম ভাতের মাড়ে মুন্সি হাত পুড়িয়ে ফেলে। কিন্তু তাতেও মালেকার কোন হেল দোল নেই। সে শুধু বিদ্রুপ করে বলে, -এই হাতে না তাবিজ লেখ? হাতটারে বাচাইতে পারলা না? মুন্সি জ্বলে ওঠে। লেখকের ভাষায়, গোস্বায় সে বা হাতে চুলির মুঠি ধরে ডান হাতে মালেকাকে মারে। বলে- হারামজাদি, বদমাইশ, জাহিল, আল্লাহর কালাম মুখে আইয়ে না। আর তার বেইজ্জতি করবার বেলা ফরফরাস। আরো কিল চড় ঘুষি দিয়ে মুন্সি মালেকাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু ততক্ষণে মালেকার মুখ দিয়ে তাজা রক্ত ঝরতে থাকে। কিন্তু অবাক কা-, সেদিনই বিকেল থেকে মালকা আবার রান্না বান্না শুরু করে। হাস মুরগিকে খাবার দেয়। শোবার সময় একেবারে মুন্সির পাশটিতে গিয়ে শুয়ে পড়ে। এবারে মুন্সি খুব সন্তুষ্ট। লেখকের ভাষায় মুন্সি মনে মনে হাসে। ওষুধে ঠিক ধরেছে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর। কিন্তু আরো কতদিন তো মেরেছে, মালেকা তো আর কখনো এমন পোষা কুকুরের মতো তার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়েনি। মুন্সির আক্কেল এবার একেবারেই গুলিয়ে যায়। তবু এই নির্জিব মাংশপিন্ডটার উপর করুণা হয় মুন্সির। একটুখানি মমতাও। কিন্তু একটু পরে মালেকার উপর তার সমস্ত করুণা এবং মমতা উবে যায়। মালেকা হঠাৎ প্রশ্ন করে, আমারে তোমার সহ্যি হয় না না? সে জবাব দেয়, -দুনিয়ায় এমন কোন মরদ নাই, যে তোরে নিয়া ঘর করতে পারে। মালেকা বলে- তা অইলে তুমি কেনে তালাক দেওনা আমারে? এই বলে আদর করার ভঙ্গিতে মুন্সির গলা চেপে ধরে। মুন্সি জোর করে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। এবার সে প্রচ- শক্তিতে মালেকার গলা টিপে ধরে। মালেকা গো গো করতে করতে একসময় নিথর হয়ে যায়। এবারে মুন্সি ভয় পেয়ে মালেকাকে ছেড়ে দিয়ে থর থর করে কাঁপতে থাকে। তারপর আল্লাহর কালাম পড়ে মালেকাকে গায়ে ফুঁ দেয়। ধীরে ধীরে মালেকার জ্ঞান ফিরে আসে। পরদিন থেকে মুন্সি আলাদা বিছানায় শোয়। মালেকা আবার থম ধরে থাকে। মুন্সি ভাবে মালেকার উপর জ্বিন পরীর আছর আছে। একদিন মুন্সি খতম পড়ে বাড়ি ফিরে দেখে তার ছনের ঘরটিতে আগুন লেগে আছে। মালেকা নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছে আগুন নিভাতে কাউকে ডাকেও নি। সেই দিনই মালেকা প্রথম ঘর ভাঙলো। পাড়ার লোকেদের এবং মুন্সির ও বিশ্বাস মালেকাই আগুন দিয়েছে ঘরে। এরপর বহুদূর সম্পর্কের এক মামার আশ্রয়ে চার পাঁচ মাস থাকার পর মামারই চেষ্টায় মুনাওয়ারের সঙ্গে বিয়ে হল মালেকার। মুনাওয়ার একা মানুষ। পাশের ঘরে থাকে তার বোন ভগ্নিপতি। বউ দেখে প্রথমে মুনাওয়ার বেশ খুুশি হল। কিন্ত অবাক কা- বউকে কিছুতেই হাসাতে পারে না মুনাওয়ার। পাড়ার বউ ঝিরাও নতুন বউয়ের সঙ্গে ভাব জমাতে ব্যর্থ হয়। কেউ কেউ মনে করে বউ দেমাগী। আবার কেউ কেউ মনে করে বউয়ের উপর জ্বিন পরীর আছর আছে। মুনাওয়ার তার জমিটুকু বর্গা দিয়ে চাকরি করত। এখন আর চাকরি করে না। দিনের বেলা তাস খেলে আড্ডা দেয়। রাতে কোথায় কোথায় চলে যায়। গভীর নিশুতি াতে এটা ওটা নিয়ে বাড়ি ফিরে। মালেকা সন্দেহ ভরা দৃষ্টিতে তাকায়। সে এসব জিনিস স্পর্শ করে না। বাধ্য হয়ে মুনাওয়ারকেই সব সামলাতে হয়। একদিন দুপুরে তাস খেলে বাড়ি ফিরে মুনাওয়ার দেখে আগের রাতে আনা জিনিসগুলো একই জায়গায় পড়ে আছে। মালেকা সামলায়নি। রাগে সে মালেকার চুলের মুঠি ধরে মারতে থাকে। মালেকার কোনপ্রতিক্রিয়া নেই। মুনাওয়ারের বোন মাজেদা এসে শেষ পর্যন্ত মালেকাকে উদ্ধার করে। মাজেদা অবাক হয়ে বলে, লেখকের ভাষায়, মাগো মা কেমন পাষাণী দেখ চাই। একবার নি এট্টু কানলো। এট্টু উহ নি করলো। এইডা কি মানুষ, না আর কিছু। বিকেলে মালেকার প্রবল জ্বর এলো। দুদিন পর্যন্ত মালেকার জ্বর ছাড়ে না।এই কয়দিন মাজেদা মুনাওয়ারকে রান্না করে দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাজেদাও বিরক্ত হয়ে যায়। অবশেষে মালেকার জ্বর ছাড়ে। সে চুপচাপ রান্না করে। কিন্তু কোন কথা বলে না। ধুম ধরে থাকে। মুনাওয়ার গভীর রাতে অন্যের জালে ধরা পাখী, হাস এসব চুরি করে আনে। মালেকাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বলে, তক্ষুণি এসব রান্না করে দিতে। কিন্তু মালেকা বলে,- লেখকের ভাষায়- রোজ রোজ তুমি মাইনষের জাল থনি পক্ষী লইয়া আইবা। আমার বুঝি আর ঘুমানি লাগে না? মুনাওয়ার প্রচ- রেগে মালেকার চুল ধরে মারতে শুরু করে। মালেকাও এই প্রথম প্রতিবাদ করে। বলে, লেখকের ভাষায়- চুল ছাড়ো। না অইলে চিলআইয়া আইজ সব জানাইয়া দিবাম মাইনষেরে। মুনাওয়ারও গর্জন করে ওঠে, হারামজাদি, বদমাইশ, কমজাত, ক, কি জানাইয়া দিবি? মালেকা বলে- তুমি চোর, তুমি বদমাইশ। মুনাওয়ার ঝাপিয়ে পড়ে মালেকার উপর। মালেকার মুখ থেকে ঝরঝর করে রক্ত পড়তে থাকে। মালেকা রক্তময় থুথুস কুলি করার মত ঢেলে দেয় মুনাওয়ারের মুখের উপর। মুনাওয়ার এবার ভয় পেয়ে মালেকাকে ছেড়ে দেয়। যদি পাড়া পড়শী জানতে পারে, বিপদ হবে। কেননা, গ্রামের অধিকাংশ চুরির সঙ্গে মুনাওয়ারের যোগ আছে। তবুও প্রায়ই মালেকা মার খায় মুনাওয়ার হাতে। এরই মধ্যে মালেকা সন্তান সম্ভবা হয়। এটা জানতে পেরেন মুনাওয়ার খুব খুশি হয়। কয়েক মাস পর মালেকার কোল জুড়ে মেয়ে আসে। মেয়েকে পেয়ে মালেকা আনন্দে বিস্ময়ে আরো কাঁদতে থাকে। এতে মুনাওয়ার অত্যন্ত বিরক্ত হয়। মেয়েকে কোলের কাছে নিয়ে মালেকা সারাদিন শুয়ে থাকে। রাতে মালেকা মুনাওয়ারকে পাহারা দেয়। সে বলে, মুনাওয়ার রাতে চুরি করতে গেলে, সে চিৎকার করে পাড়া পড়শিকে জানিয়ে দেবে। মালেকা আরো বলে- লেখকের ভাষায়- ‘তোমারে তো সাত বাঘে ও খাইয়া ফুরাইতে পারব না। এতো দামড়া। মাইনষের বাড়িতেও যদি কাম কর, আমরার দুইডা পেট চলবই। মুনাওয়ার বলে, সে মানুষের বাড়িতে কাজ করতে পারবে না। মালেকার মতো অলস, নোংরা মেয়েকে নিয়েও আর সে সংসার করবে না। মুনাওয়ার উঠানে বসে চাটাই বুনছিল। হঠাৎ রান্নাঘরে চুলার উপরের অংশে আগুন জ্বলে উঠল। মুনাওয়ার ছুটে গেল। মালেকা মেয়েকে কোলে নিয়ে গাছতলায় দাঁড়িয়ে আছে। মুনাওয়ার তার ঘরটি রক্ষা করতে পারল না। মুনাওয়ার এর বোন মাজেদার ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে গেল। সবাই বলতে লাগল মালেকাই ঘরে আগুন লাগিয়েছে। দ্বিতীয়বার মালেকার কপাল পুড়লো। মেয়েটাকে নিজের কাছে রেখে দিয়ে মুনাওয়ার মালেকাকে তালাক দিল। মালেকা এবার গ্রামের একেবারে দক্ষিণের বাড়িটিতে আশ্রয় নিল। যতদিন অন্য আশ্রয় না জুটে ততদিন এ বাড়িতেই রাতদিনের কাজ করবে। গ্রামের লোকেরা তাকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে। বলে তিন নম্বরটা কবে জুটবে। আষাঢ় মাসের শেষ দিকে মালেকার নিকার প্রস্তাব এলো। রশিদ মোড়লের তিন নম্বর বিবি হয়ে মালেকা একদিন মুনাওয়ারের গ্রাম ছেড়ে চলে গেল। এখানে মালেকার দুই সতীন এবং অনেক ছেলেমেয়ে। চাকর বাকর সব মিলিয়ে অনেক মানুষ এ বাড়িতে। রশিদ মোড়ল কাজ করাবে বলে মালেকাকে বিয়ে করেছে। বড় বিবি বিশাল মোটা চর্বির পাহাড়। কোন কাজ করতে পারে না। মেজো বিবি দিলারার সূতিকা রোগে ভুগে একেবারে হাড্ডিসার। সে এখন খরচের খাতা। এই সংসারে মালেকা উদয়াস্ত পরিশ্রম করে কিন্তু আগের মতই সে কথা প্রায় বলে না বললেই চলে। মোড়লের শুধু একটাই নেশা টাকা। টাকা দিয়ে সিন্দুক ভর্তি করবে। এই তার নেশা। এক রাতে মোড়ল মালেকাকে বলে, লেখকের ভাষায়- এত বড় সংসার। কাজ কাম চলে না। তাইতো দুই দুইটা বিবি ঘরে রাইখা ফির নিকাহ করলাম তোরে। না অইলে আমার কি বিয়ার বয়স আছে? মালেকা ও বলে বসে- বান্দী আনলে কাম চলত না তোমার? বড় বিবি আকলিমা এবং তার ছেলেরা মালেকার উপর অনেক অত্যাচার করে। কিন্তু মোড়ল এসব কথায় কান দেয় না। বড় বিবি খানদানী ঘরের মেয়ে। শাদির সময় তার নামে অনেক জমি জমা দেওয়া হয়েছে। বড় বিবির সামনে এলেই মোড়ল ভিজে বেড়াল হয়ে যায়। মালেকা একদিন মোড়লের কাছে শুয়ে আছে। হঠাৎ দুই নাক বন্ধ করে থুথু ফেলতে থাকে। এক পর্যায়ে বমি করে। বলে- লেখকের ভাষায়- সুদ খাইয়ো আরো বেশি কইরা। মুখটারে যেন টাট্টি (পায়খানা) বানাইয়া রাখছো। ঘেন্না এবং বিতৃষ্ণা ঠেলে আসে মালেকার। অপমানে মোড়ল জ্বলে ওঠে। বলে- হারামজাদি, বেত্তমিজির আর জায়গা পাইলি না বুঝি?’ তারপর ধুম ধুম করে কিলাতে থাকেব মালেকাকে। খড়ম দিয়ে ঠাসঠাস করে মারতে থাকে মালেকার মাথায়। বলে, বজ্জাত। বদমাইশ। আইজ তোরে একদিন কি আমার একদিন। তখন মালেকা মোড়লের পায়ে ধরে সর্বশক্তি দিয়ে টান মারে। টানের চোটে মোড়ল ঠাশ করে মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারায়। সমস্ত বাড়িতে হৈ চৈ পড়ে যায়। পানি ঢালতে ঢালতে মোড়লের জ্ঞান ফিরে আসে। অনেক দেন দরবারের পর মোড়ল মালেকাকে মাফ করে দেয়। কিন্তু আগের দুই বারের মত মোড়ল বাড়িতেও একদিন আগুন লাগে এবং মালেকা নিজেও গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। গল্প এখানেই শেষ। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মালেকা। এই পৃথিবীতে যার আপন বলতে কেউ নেই। তার প্রথম স্বামী মুন্সি মালেকার কোন কদর করেনি। বাড়িতে বাড়িতে খতম পড়ানো, মিলাদ পড়ানো, তাবিজ লেখা এসবই তার পেশা। মানুষ যে সদকা দেয়, সেই মুরগী বা বকরি সে নিয়ে আসে। মালেকা এই বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। সে জানিয়ে দেয় সদকার মুরগি সে রান্না করতে পারবে না তার যেই কথা সেই কাজ। সে রান্না করা পুরোপুরি বন্ধ করে দিলো। সে নিজেও উপোস করতে লাগলো। সেদিন থেকেই মুন্সির সঙ্গে তার সংঘাত। মুন্সি তার উপরে অকথ্য অত্যাচার করেও তাকে নমনীয় করতে পারেনি। যেই কাজটিকে মালেকা খারাপ বলে জেনেছে, সেই কাজ তাকে দিয়ে কোনমতেই করানো যায়নি। মালেকা গরিবের মেয়ে। কিন্তু সততা, মানবতা এসবের জন্য ধনী, গরিব বা বিদ্বান মুর্খে কোন পাথর্ক্য নেই। পৃথিবীতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অধিকাংশ মেয়েই আপোষ করে। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও অনেক কাজ করে। কিন্তু মালেকা চরিত্রটিকে লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য, নিজের নিরাপত্তার জন্য সে কখনোই আপোষ করেনি। এই প্রতিবাদী চরিত্রের জন্য সে দিনের পর দিন অত্যচারিত হয়েছে তবুও নতি স্বীকার করেনি। নতি স্বীকার করলে তার সংসার ভেঙে যেতো না। তার দ্বিতীয় স্বামী মুনাওয়ার। বিশাল দেহ। শক্তিশালী। কিন্তু সে কাজ করে খাবে না। রাতের বেলা মানুষের বাড়িত চুরি করবে। এটাও মালেকা মেনে নেয়নি। তাই মুনাওয়ারের সঙ্গেও সংঘাত বাধলো। মালেকার দ্বিতীয় সংসারও ভাঙলো। মালেকা না খেয়ে থাকবে, কিন্তু কোন অসৎ শক্তির কাছে কখনো নত হবে না। মালেকার তৃতীয় সংসারেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। তৃতীয় স্বামী মোড়ল ধনী। তবুও সে আরো টাকা চায়। টাকা দিয়ে সিন্দুক ভর্তি করে ফেলতে চায়। এইজন্য সে সুদ খায়। ইসলাম ধর্মে সুদ খাওয়া নিষেধ। মালেকা এটাও মেনে নেয়নি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রচ- মার খেয়েছে। কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে সে সামান্যতমও হেলেনি। মালেকা একটি প্রচ- প্রতিবাদী চরিত্র। তা তিনটি স্বামীই অন্যায়কারী, ঘৃণ্য। মালেকা কোনমতেই এদের সঙ্গে আপোষ করেনি। করলে হয়তো সে নিশ্চিন্তে জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারতো। এই গল্পে আর একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়। মালেকার তিনটি সংসারেই আগুন লেগেছে। কিন্তু লেখক সরাসরি দেখাননি, আগুন মালেকাই লাগিয়েছে। তবে এটা ধারণা করা যায়। এই আগুন লাগানোটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসত্যের বিরুদ্ধে মালেকার প্রতিবাদ। গল্পটির নাম আতশী। আতশী অর্থ আগ্নেয়। আতশী কাচ হচ্ছে যে কাচে সূর্যরশ্মি কেন্দ্রীভূত করলে আগুন জ্বলে ওঠে তাকেই আতশী কাচ বলে। এখানে মালেকাই আতশী তিনজন স্বামীর কোন অসৎ কাজকেই মালেকা সমর্থন করেনি। তারে বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সে সাধারণ নারী নয়। তাই অন্যায় হচ্ছে জেনেও প্রতিবাদ না করে আরামে আয়শে জীবন কাটতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে সে আত্মসমর্পণ করেছে।
মুঠোফোন: ০১৭৪১১০২১২৯








সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};