ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
414
কুমিল্লা বোর্ডের ফলাফল বিপর্যয়-------
পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ও প্রাসঙ্গিক কথা
Published : Saturday, 29 July, 2017 at 11:57 PM
পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ও প্রাসঙ্গিক কথাড. আলী হোসেন চৌধুরী ||
এক সম্ভাবনাময় যুবকের আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হলো কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি ফলাফল বিপর্যয়ের আরেক বেদনাবিধুর চিত্র। কুমিল্লার সাংবাদিক অশোক বড়–য়ার একমাত্র ছেলে অরিন্দম বড়–য়া সৈকত ফলাফল বিপর্যয়ের বলি। সৈকত ভালো ছাত্র এবং সম্ভাবনাময় যুবক অকৃতকার্য হয়। যা হওয়ার কথা ছিলোনা। তার পিতা ও মাতা স্বপ্ন দেখতো তাকে নিয়ে। সে অকৃতকার্য হলেও তারা তাকে সান্ত¦না দিয়েছে নতুন করে পরীক্ষায় উৎসাহী করেছে। সেছিলো হতাশ। জীবনের মায়া তাকে ধরে রাখতে পারেনি। ভিক্টোরিয়া কলেজের সে ভালো ছাত্র অথচ ফেল, বন্ধুরা সবাই ফলাফল করেছে এ লজ্জা তাকে বিধ্বস্ত করেছে জীবন সম্পর্কে সে সম্পূর্ণ উৎসাহ হারিয়ে ফেলছিলো। ফলাফল প্রকাশের পর দুদিন ফেসবুকে এ ধরনের স্ট্যাটাস দিয়ে আসছিলো গতকাল মঙ্গলবার সে ফাঁসি দেয়। তার এ মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে সবাইকে। এ মৃত্যুর দায়ভার কার ? এ প্রশ্ন আজকে প্রধান হয়ে উঠেছে। সম্ভাবনাময় এ যুবকের মৃত্যু যেমন হৃদয় বিদারক তেমনি একটি পরিবারের জন্য কি বিপর্যয় ডেকে আনে তা সহজেই অনুমেয়। জানা গেছে অকৃতকার্য অনেক ছাত্র-ছাত্রী হয়ে পড়েছে অপ্রকৃতিস্থ তাদের সামলাতে পিতা-মাতা হিমশিম খাচ্ছে। পরিস্থিতিটা এমন দাঁড়িয়েছে একটা বেদনার চিত্র যেন ভেসে বেড়াচ্ছে। কিছুতেই স্বাভাবিক অবস্থা নয়। এবারে আসা যাক কুমিল্লা বোর্ডের কথা নিযে।
বাংলাদেশের শিক্ষা পরিস্থিতিতে কুমিল্লা বোর্ড এখন আলোচনার বিষয়। বলা বাহুল্য এ আলোচনাটা নেতিবাচক। আর আলোচনার সূত্র কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফল। এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সে বিপর্যয় নেমে এসেছে তা এ অঞ্চলের মানুষ তথা সারা দেশে এ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফলাফলে দেখা যায় অর্ধেকের চেয়ে বেশি ফেল অর্থাৎ পাশের হার ৪৯.৫২ ঠিক ক’ মাস আগে এসএসসি পরক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে পাশের হার ৫৯.০৩ যা সারা দেশের ১০টি বোর্ডের মধ্যে সর্বনিম্ন। এইচএসসি তা বড় এক ধাপ নিচে নেমেছে এখানেও ১০টি বোর্ডর মধ্যে সর্বনিম্ন। যা অন্যান্য বোর্ডের চাইতে অনেক নিচে। এসএসসি ফলাফল নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়েছে পত্র পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে, ছাত্রদের আন্দোলনও হয়েছে। বিষয়টির নেতিবাচক প্রভাব তীব্র আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এসএসসিতেই যে অবস্থা তৈরি হয়েছে এই ফলাফলের পর আর এইচএসসি’র ফলাফল তো আরো খারাপ ন্যাক্কারজনক। এখন কি হবে? নাকি ‘অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর’ এ প্রবাদটির মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে? কারণ সবাই হতবাক এমন ফলাফল কি করে হয়? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা বোর্ডকে নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য কুমিল্লাবাসীকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। তাঁর মন্তব্যের সারকথা কুমিল্লার এতো মেধাবী অফিসার, এতো উচুঁপদে কর্মকতা অথচ ফলাফল এমন খারাপ হবে কেন? প্রধানমন্ত্রীর মতো এ জিজ্ঞাসা এখন সবার। শিক্ষক অভিভাবক ছাত্র সচেতন মানুষ সবার মনেই এ প্রশ্ন এখন ঘুরছে। এ সমস্যার ক্ষেত্রে একটা সহজ উত্তর আছে তা হলো ছেলে মেয়েরা ভালো লেখাপড়া করেনা তাই ফলাফল করেনি। এটা খুব সহজ সমাধান। যা দিয়ে সমস্ত দায় এড়ানো যায়। কিন্তু সত্যিকার অর্থে ছেলেমেয়েরা ভালো লেখাপড়া করেনি- একথাই কি চূড়ান্ত সত্য, একমাত্র উত্তর? তা কিন্তু নয়। তাহলে কুমিল্লা বোর্ডের অধীন সব পরীক্ষার্থী মেধাহীন? তাও ধোপে টেকে না। ইতিহাস বলে বৃহত্তর কুমিল্লার এ জনপদ অগ্রসর মানুষের বসবাস। তাদের মেধার স্বীকৃতি শুধু দেশ নয় আন্তর্জাতিকভাবেও প্রমাণিত। বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার তিনটি জেলার ছাত্রছাত্রীও কুমিল্লা বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত। নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষেরও মেধার কমতি আছে একথা বলার সুযোগ নেই। এ তিনটি জেলার মানুষের মেধার স্বীকৃতি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাহলে সমস্যাটি কোথায়? ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা দরকার। একথা কি বলা ঠিক হবে যে এ বোর্ডের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ভালো লেখা পড়া হয়না? ভালো এবং যোগ্য শিক্ষক নেই? পরীক্ষকদের দায়িত্বহীনতা অথবা অনভিজ্ঞ পরীক্ষক? নাকি পরীক্ষার হলে সুযোগ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়া? নাকি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বোর্ড কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ফলে পরীক্ষকরা খাতা দেখেছেন কড়াকড়িভাবে? নাকি অভিভাবকদের অবহেলা এবং সচেতন না থাকা? এমন অনেক প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে এ কোনোটাই যে একেবারে অযৌক্তিক এমনও বলা যাবে না। হয়তো উপরে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর কোনোকোনো প্রশ্ন আংশিক সত্য। শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা বলেন সরকার যথাযথভাবে খাতা মূল্যায়ন করতে বলেছেন তারা সেই নির্দেশনা দিয়েছেন পরীক্ষকরাও সেভাবে খাতা মূল্যায়ন করেছেন। তারা বলেন যথাযথভাবে সঠিক মূল্যায়ন করায় ফলাফলের এ বিপর্যয় হয়েছে। তাহলে এখন প্রশ্ন দেখা দেয় সরকারের যে নির্দেশনা তাতো সকল বোর্ডের জন্যই প্রযোজ্য ছিলো তা মান্য করাও হয়েছে সকল বোর্ডে। কিন্তু অন্যান্য বোর্ডের ফলাফল আর কুমিল্লাবোর্ডের ফলাফল এত পার্থক্য হলো কেন? দুটি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডের ফলাফল সর্বনিম্ন হলো কেন? তাও পাশের হার এত নিচে নেমে গেলো কেন? তাহলে এ বোর্ডের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে লেখাপড়া নিম্নমানের? পরীক্ষকদের দায়িত্বহীনতা নাকি বোর্ড কর্মকর্তাদের গাফলতি? অভিযোগ আছে বোর্ডের কোনো কর্মকর্তার আচরণ পরীক্ষকদের সাথে বাজে ব্যবহার। কঠিনভাবে খাতা মূল্যায়নের নির্দেশনা পরীক্ষকরা ক্ষিপ্ত হয়। যার ফলে খাতা মূল্যায়নের বেলায় তার প্রভাব পড়ে। এতে শুধু যে পাশের হার কমেছে তা নয় জিপিএ এর বেলায়ও তার প্রভাব পড়েছে। কুমিল্লার কিছু ছাত্র যারা ঢাকাসহ অন্যবোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছে তারা জিপিএ-৫ পেয়েছে অনেকে কিন্তু তাদের বন্ধুরা যারা তাদের চাইতে ভালো ছাত্র যারা কুমিল্লা বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছে কিন্তু জিপিএ-৫ পায়নি। এটাও একটি প্রণিধান যোগ্য বিষয়। সুতরাং সরকারি নির্দেশনার অজুহাতটি যথাযথ নয়। আরো কিছু আছে, আর কিছু ঘটছে। তা দেখা দরকার। কারণ যতই থাকুক হঠাৎ করে এ ফলাফল বিপর্যয় ঘটবে কেন? অভিযোগ আছে কুমিল্লা বোর্ডের প্রশ্ন কঠিন হয় অন্যান্য সব বোর্ডের চাইতে। হয়তো বোর্ড প্রশ্ন তৈরি করে না তার প্রশ্ন সেটার এবং মডারেটর  নিয়োগ দেন। কথা আছে এ নিয়োগের বেলায় যথাযথ ব্যক্তি নিয়োগ দেয়া হয়না অভিজ্ঞ ও যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের এ ক্ষেত্রে নিয়োজন প্রয়োজন তা দেখা দরকার। পরীক্ষক এবং প্রধান পরীক্ষক নিয়োজনও বোর্ড দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারে। এক্ষেত্রে সব পরীক্ষক প্রধান পরীক্ষক নিয়োগে অভিজ্ঞতা যোগ্যতার প্রাধান্য দেয়া উচিত। শুধু চেনাপরিচিত এবং তদ্বিরের ফলে এ নিয়োগ হলে দায়িত্বজ্ঞানহীন লোকের কাছে এ বিশেষ দায়িত্ব পড়বে যাঁরা এর গুরুত্ব একটা ছাত্রের জীবনের কথা ভাবে না। তারা কোনোরকম কাজ শেষ করতে চান। এক্ষেত্রে দায়িত্ব সম্পন্ন মানুষ খুঁজে আনতে হবে গুণী শিক্ষকের কাছে দায়িত্ব দিতে হবে। শুধু শিক্ষক হলেই পরীক্ষক হবে এ ধারণা বাদ দিতে হবে। যোগ্যদের সুযোগ দিতে হবে। অভিজ্ঞদের মূল্যায়ন  করতে হবে। প্রধান পরীক্ষকের বিষয়টিও বিবেচনায় আনতে হবে। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন প্রবীণ শিক্ষকদের চিন্তায় আনা বাঞ্ছনীয়। তবে এ বছর কুমিল্লা বোর্ডের নকল প্রতিরোধে ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিলো। বড় প্রয়োজন এখন সামগ্রিক দায়িত্ববোধের। কারো অবহেলা কারো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফলে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর জীবন অনিশ্চয়তায় ভরে যাবে তা ভেবে দেখা দরকার। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত টিম যদি ব্যাপারটি খতিয়ে দেখে তাহলে মূল গলদের জায়গাগুলো বেরিয়ে পড়বে। তখন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে। শুধু যে হাজার হাজার ছাত্রের ভাগ্য তা নয় এর সাথে জড়িয়ে আছে একেকটি ছাত্রের সাথে একেকটি পরিবার। বিষয়গুলোকে সামগ্রিকভাবে দেখতে হবে। সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় বিবেচনায় এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। তাই স্পর্শকাতরতাকে স্পর্শকাতর অনুভব নিয়েই বুঝতে হবে।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল স্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন শিক্ষক অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রী। ক্ষোভ এবং দু:খ পুঞ্জিভূত হচ্ছে। ক্ষোভ, দু:খ, কষ্ট ও হতাশার প্রথম ঘটনা ঘটলো অরিন্দম বড়–য়ার আত্মহননের মধ্য দিয়ে। যদিও এ আত্মহত্যা কিছুতেই সমর্থন যোগ্য নয়, কিছুতেই তা মেনে নেয়া যায় না, কিন্তু হতাশা এমনভাবে মনোবৈকল্য সৃষ্টি করেছে জীবনের কোনো মায়ার বন্ধন তাকে বেঁধে রাখতে পারেনি। আজ ভাববার বিষয়, আজ যথাযথ তদন্ত ও পদক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন। কিছু একটা ঘটেছে তা বের হওয়া দরকার। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন আশা করি।




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};