ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
70
হায় ঢাকা!
Published : Monday, 17 July, 2017 at 12:00 AM
হায় ঢাকা!মোস্তফা কামাল ||
আজমত আলীর গ্রামের বাড়ি বরিশালের অজপাড়াগাঁয়ে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত গ্রামের কলেজেই পড়েন তিনি। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন বিএম কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে। হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করেন। ঢাকা শহরে তিনি কোনো দিন আসেননি। লেখাপড়া শেষ করে বরিশালেই একটা চাকরির ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন। প্রথমে কলেজের লেকচারার হিসেবে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরে স্কুলে শিক্ষকতা করবেন বলে মনস্থির করেন। কিন্তু কোথাও কোনো চাকরির সংস্থান করতে পারলেন না।
আজমত আলীর বৃদ্ধ মা-বাবা বললেন বাবা, ঢাকায় যা। ঢাকায় গেলে একটা চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যাবে। আমাদের গ্রামের কত ছেলেপেলে ঢাকায় গেছে! সবাই তো শুনি ভালো আছে।
আজমত আলী গ্রাম ছাড়তে চান না। শহরে তাঁর ভালো লাগে না। রাজধানী শহর দেখারও ইচ্ছা জাগেনি তাঁর মনে।
আজমত আলীর স্কুলশিক্ষক বাবা আজমল আলী বলেন, তুই কেমন ছেলে রে বাবা! মাস্টার ডিগ্রি পাস করেছিস। কোথায় চাকরির জন্য ছুটে বেড়াবি, তা না; গ্রামের বাড়িতে পড়ে আছিস। তোর চাকরি করার দরকার নেই। তুই শুধু ঢাকা শহরটা দেখে আয়।
আজমত আলীর মা কহিনুর বেগমও তা-ই বললেন। ঢাকায় গিয়ে চাকরি না পেলেও দুঃখ থাকবে না। অন্তত বলতে পারব, আমার ছেলে চেষ্টা করেছে।
শেষ পর্যন্ত মা-বাবার পীড়াপীড়িতে আজমত ঢাকায় যেতে রাজি হন। পরে তিনি ঢাকার উদ্দেশে লঞ্চে ওঠেন। লঞ্চের ছাদে বিছানা পাতেন। লঞ্চ ছেড়ে কিছুদূর যাওয়ার পর আকাশে কালো মেঘের তর্জনগর্জন শুরু হলো। মুহূর্তের মধ্যে সুন্দর বিকেলের চেহারা পাল্টে যায়। অন্ধকার নেমে আসে। তারপরই শুরু হয় ঝড়। সেই সঙ্গে তুমুল বৃষ্টি।
আজমত আলী বিছানার চাদর হাতে নিয়ে দৌড়ে ডেকের ওপর থেকে নিচে নামেন। নামতে নামতেই ভিজে তিনি একাকার! চাদরটা গায়ে জড়িয়ে সিঁড়ির এক পাশে গুটিসুটি মেরে বসে থাকেন। একসময় ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সূর্য ওঠার আগেই সদরঘাটে লঞ্চ ভেড়ে। সবার সঙ্গে তিনিও লঞ্চ থেকে নামেন। নামার সময়ও বৃষ্টির ছাট তাঁর গায়ে লাগে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে লঞ্চঘাট দেখেন। আজমত আলী লঞ্চঘাট থেকে বাইরে বের হয়ে দেখেন, অথই পানি। ঢাকা শহরে পানি দেখে তাঁর টাসকি লাগার মতো অবস্থা হলো। তিনি মনে মনে বললেন, এ তো দেখছি পুরো নদী! ঘটনা কী? আর এই পানি ডিঙিয়ে যাবই বা কিভাবে? যানবাহনও তো খুব একটা দেখি না!
আজমত আলী ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি কোথায় যাবেন জানেন না। ঢাকায় আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কে কে আছেন, তা মনে করার চেষ্টা করলেন। কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর ঠিক করলেন, মিরপুরে তাঁর এক চাচাতো ভাই থাকেন। আপাতত সেখানেই উঠবেন। তারপর যা কিছু করার করবেন। কিন্তু মিরপুরে কিভাবে যাবেনজানতে চাইলেন একজন পথচারীর কাছে। তিনি জানালেন, সদরঘাট থেকে রিকশায় গুলিস্তান যেতে হবে। গুলিস্তান থেকে মিরপুরের বাস পাওয়া যাবে।
আজমত আলী চেয়ে দেখেন, বেশির ভাগ রিকশাওয়ালা রিকশার ওপর গুটিসুটি মেরে বসে আছে। তিনি রিকশাওয়ালা রিকশাওয়ালা বলে ডাকেন, কিন্তু কেউ তার ডাকে সাড়া দেয় না। আসলে এত পানি ভেঙে কেউ যেতে চায় না। অনেক ডাকাডাকির পর একজন রিকশাওয়ালা তাঁর কাছে গেল। সে যেতে রাজি হলো, তবে কিছু টাকা বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি করল। আজমত আলী তাতে আপত্তি করলেন না। তিনি রিকশায় উঠলেন।
রিকশাওয়ালা আস্তে-ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। মাঝেমধ্যে রিকশার চাকা খাদে পড়ে যায়। আর তাতে আজমত আলী ঝাঁকুনি খান। আবার সোজা হয়ে বসেন আজমত আলী। হঠাৎ রিকশা বড় একটি খাদে পড়ে একেবারে উল্টে যায়। রিকশার নিচে পড়ে আজমত আলীর নাকানি-চুবানি অবস্থা। তাঁকে ধরতে কিছু লোক ছুটে আসে তাঁর কাছে।
আজমত আলী কয়েকজন লোকের সহায়তায় সোজা হয়ে দাঁড়ান। রিকশাওয়ালা ও উল্টে যাওয়া রিকশাটাও তারা টেনে তোলে। তারপর লোকগুলো যে যার মতো চলে যায়। এরপর আজমত আলী দেখেন তাঁর ব্যাগ নেই। হাতের ঘড়ি নেই। পকেটে টাকাও নেই। পানি-কাদায় তাঁর পুরো শরীর একাকার।
আজমত আলী মনে মনে বলেন, এর নাম ঢাকা শহর! দরকার নেই আমার ঢাকায় থাকা। তারপর তিনি চিৎকার দিয়ে রিকশাওয়ালাকে ডাকেন। রিকশাওয়ালা ভাই, আমার ব্যাগ, টাকা-পয়সা সবই তো নিয়া গেছে। এর নাম উপকার! আমার কাছে তো কোনো টাকা-পয়সাও নেই। আমি আপনার ভাড়া দেব কিভাবে? আর এ অবস্থায় আমি কোথায় যাব? কার কাছে উঠব? ভাই, আমার আর ঢাকা শহরে থাকার দরকার নেই। আমারে আপনি সদরঘাটেই নিয়া যান। আমি ফিরতি লঞ্চে গ্রামে চলে যাব।
রিকশাওয়ালা তাঁর কথা শুনে অবাক! সে বলে, সত্যিই আপনে গ্রামে চইলা যাইবেন!
হ্যাঁ ভাই। আপনি আমারে সদরঘাটেই নিয়া যান!
কেন চইলা যাইবেন।
এই শহর বড় নিষ্ঠুর। দেখলেন না, আমারে উপকার করতে এসে সব কিছু নিয়া গেল! গ্রামে কি এই রকম কাজ কেউ করত? করত না।
হ, ঠিকই কইছেন। মানুষগুলা কেমন জানি। কোনো মায়া-দয়া নাই।
এই শহরে আমি থাকব না। আমার গ্রামই ভালো। মা-বাবা গালমন্দ করলেও আমি গ্রামেই থাকব।
রিকশাওয়ালা রিকশা ঘুরিয়ে আবার সদরঘাটের দিকে রওনা হলো।
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};