ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
1920
এক সপ্তাহের মধ্যে সব চালু দেখতে চাই
নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য বিভাগ নতুন নির্দেশনা জারি, জবাবদিহিতার তাগিদ
Published : Friday, 14 July, 2017 at 12:00 AM, Update: 14.07.2017 7:51:10 PM
এক সপ্তাহের মধ্যে সব চালু দেখতে চাইআবুল কাশেম হৃদয় ।।
নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সাধারণ রোগীদের সেবার মান বাড়াতে দেশের সকল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নতুন নির্দেশনা জারি করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। নতুন নির্দেশ অনুযায়ি হাসপাতালে প্রত্যেক ইউনিটের দেয়ালে টানাতে হবে কোন শিফটে কোন চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয়ের দায়িত্ব। নৈতিকতা, নিয়মানুবর্তিতা, পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য চিকিৎসকদের কাউন্সিলিংয়েরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে রোগীদের অভিভাবকদের অনুভূতি জেনে তাদের সাথে সে রকম গুরুত্ব দিয়ে কথা বলতে বলা হয়েছে। তাগিদ দেয়া হয়েছে গণমাধ্যমের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করার।
বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষ থেকে উদ্ভাবনামূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের সেবায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটনার উদ্যোগ হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ তাগিদ দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। দেশের সকল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে এ ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। দৈনিক কালের কণ্ঠে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা’ তুলের ধরার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এই ভিডিও কনফারেন্স আয়োজন করেন।
মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, হাসপাতালগুলোর প্রত্যেক বিভাগের জবাবদিহিতা দরকার। বিভাগগুলোর অব্যবস্থাপনা দেখবেন বিভাগের প্রধানরা। তারা সাপ্তাহিক সভা করে সমস্যাগুলো জানাবেন পরিচালককে। যেগুলোর সমাধান নিজেরা করা সম্ভব তারা দ্রুত নিজেরাই করে নেবেন। সব পরিচালককে দেখতে হবে কেন? বিভাগের ময়লা আবর্জনা কি তারা দেখেন না?
মহাপরিচালক বলেন, এখন থেকে হাসপাতালগুলোর প্রত্যেক বিভাগের সামনে শিফট অনুযায়ি কখন কোন চিকিৎসক, কোন নার্স, কোন ওয়ার্ড বয়, কোন কিনার দায়িত্বে তা লিখে বিভাগের দেয়ালে টানিয়ে দিতে হবে।
ভিডিও কনফারেন্সের শুরুতে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের কাউন্সিলিং দরকার। নৈতিকতা, নিয়মানুবর্তিতা সম্পর্কে কাউন্সিলিং করতে হবে। নার্স বয় কিনারদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে।
একজন রোগীর অভিভাবকদের ফিলিং বুঝতে হবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিভাবকদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তাদের বুঝাতে হবে।
তিনি বলেন, একটা চেক লিষ্ট তৈরি করতে হবে। কার কি সক্ষমতা। একজন সার্জন ১ শ’ টা অপারেশন করলো আরেকজন করলো ১টা। এটা কি হয়। ১টা যিনি করেন তিনি কেন বেশি পারেন না তা দেখতে হবে।
দু:খ প্রকাশ করে দু:খের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, কোন কোন হাসপাতালে আমরা কোটি কোটি টাকা দেই কিন্তু তারা কাজ করে না। অথচ অনেক হাসপাতাল আবার পায় না। তাই সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। যন্ত্রপাতির যতœ করতে হবে।
তিনি বলেন, সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি গণমাধ্যমের সাথেও সুসস্পর্ক তৈরি করতে হবে। গণমাধ্যমে শক্র মনে করলে হবে না। তাদের মাধ্যমে আপনাদের ইতিবাচক কর্মকান্ড তুলে ধরতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ সম্মেলন কক্ষ থেকে জনগুরুত্ব ও জনস্বার্থ বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই মতবিনিময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও অধ্যক্ষ, শহীদ সোহরওয়ার্দী হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, যশোর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজসহ বেশ কয়েকটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও পরিচালকদের সাথে কথা বলেন ও পরামর্শ দেন।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখার সময় মহাপরিচালক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন ‘আপনি কোন কথা বলবেন না। আপনার কোন কথা শুনতে চাই না। চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা সরঞ্জমাধি দেনার জন্য আপনাকে ১০ কোটি টাকা এবং রক্ষনাবেক্ষণের জন্য ৩৭ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এগুলো দিয়ে হাসপাতাল খুব ভালো চালানো যায়। এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ সব কিছু চালু করেন। আগামী সাপ্তাহে আমি সব কিছু চালু দেখতে চাই। আই ওয়ান্ট টু সি দিজ।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ দৈনিক কালের কণ্ঠ দেখিয়ে বলেন ‘কালের কণ্ঠে আপনার খবর আসছে। আপনি ঐ দিকে নজর দেন। এক সপ্তাহের মধ্যে আমি সব চালু দেখতে চাই।’  এর পর মহাপরিচালক লাইন কেটে দেন।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্স চলাকালে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মহসিনুজ্জামান উপস্থিতি ছিলেন।  
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকা থেকে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলতে এসে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের ধমক খেয়ে চুপসে যান। পরবর্তী সময় ভিডিও কনফারেন্স চলাকালে তিনি নীরবে বসে থাকেন এবং অন্যান্য জেলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও পরিচালকের কথা শোনেন।
উদ্ভাবনামূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের সেবায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটনার উদ্যোগ হিসেবে এ ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেয়াকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগের সামনে তালিকা ওরগালোগ্রাম টানাতে হবে। লোকাল প্লানিং থাকতে হবে। মেডিকেল কলেজে যাতে ভালোভাবে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। রুটিন ওয়ার্কের পাশাপাশি জবাবদিহিতা থাকতে হবে। রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে ভালো ব্যবস্থার করতে হবে। রোগীর রেকর্ড নথিপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। দৈনিক কার্যবিবরণী ও অভিযোগ বাক্স থাকতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও যন্ত্রপতি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। প্রাপ্তসম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। গণমাধ্যমের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আন্ত:সম্পর্ক অটুট রাখতে হবে। ইউনিট প্রধানদের সাথে অধিনস্তদের সমন্বয় ঘটাতে হবে। চিকনগুনিয়ার বিষয়ে প্রতিটি হাসপাতালে হেল্প ডেস্ক থাকতে হবে এবং প্রতিটি হাসপাতালে এ ব্যাপারে সেমিনার করতে হবে। ভালো কাজগুলো মিডিয়াতে তুলে ধরতে হবে।
উল্লেখ্য দেশের পাঠকপ্রিয় দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘একদিন প্রতিদিন’ শিরোনামে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপর তিনদিন ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে হাসপাতালে ব্যপক অনিয়ম তুলে ধরার পর ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ভিডিও কনফারেন্স আয়োজন করেন। তিনি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও পরিচালককে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে থাকতে বলেন। সেই সাথে দেশের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও অধ্যক্ষদেরও ভিডিও কনফারেন্সে থাকতে বলা হয়।








সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};