ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
72
আপনি কেমন আছেন?
Published : Tuesday, 20 June, 2017 at 12:00 AM
আপনি কেমন আছেন?শান্তিরঞ্জন ভৌমিক ||
মনটা নানা কারণে ভালো যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিল দিয়ে গেলো। অনেক টাকার বিল। মিটার রিডিং দেখে মিলাতে পারলাম না। শুনেছি, যারা মিটার রিডিং নেয়, তারা মিটার দেখেনা, আন্দাজ করে লিখে দেয়। আরো শুনেছি, তারা বিদ্যুতের লোক নয়। চুক্তিভিত্তিক কাজ করে, কতটা বিল লিখে দিলে কত টাকা পায়, সুতরাং তাদের সঙ্গে কথা বলে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় না। অনেকে বলছেন- বিল নিয়ে অফিসে যান, ঠিক করে  দেবে। তবে একবার বিল লেখা হয়ে গেলে তার কোনো পরিবর্তন হয় না, তা দিতে হবে, পরবর্তীতে কমিয়ে কমিয়ে সামঞ্জস্য করে দেয়া হবে, অফিস কোথায়? আসা-যাওয়ায় একশত টাকা খরচ। এখন কী করব। মনটা তাই ভালো নেই।
মাননীয় অর্থমন্ত্রী ২০১৭-১৮ সালের বাজেট দিয়েছেন। বিশাল তার পরিধি, ব্যাপক তার গতি বা উচ্চাশা, প্রকা- তার শরীর, প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। কল্পনা-স্বপ্ন-আবেগ-আমেজ সবই বাজেটে রয়েছে। শিক্ষকের দৃষ্টিতে কিছু কথা বলছি। যদি কোনো শিক্ষাবোর্ড আগেই সিদ্ধান্ত নেয় যে, এবার এসএসসি পরীক্ষায় ৯০% পাশ করাব। তবে এই উচ্চতায় পৌঁছাতে হলে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবশ্যই সহজীকরণে একটি কঠিন নির্দেশনা দেয়া থাকে। অর্থাৎ পরীক্ষায় কোনো ছাত্রকে ফেল করানো যাবে না। এরূপ আগেই যদি বাজেটের মোট অংকটা নির্ধারণ করা হয় এবং এ আদলে আয়-ব্যয় নির্ধারণ করা হয়, তবে কোনো ছাত্র যেমন ফেল করবে না, এ বিবেচনায় বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি কর না দিয়ে রক্ষা নেই। তা অনেকটা পরোক্ষ, বাকিটা প্রত্যক্ষ। একসময় লাখ টাকা-অনেক টাকা। ইংরেজ আমলে কুমিল্লায় একব্যক্তি লটারিতে এক লাখ টাকা পেয়ে যান এবং টাকা দিয়ে লাকসাম রোডে প্রচুর জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন। সে অনেক আগের কথা, এখনও আমরা এই বাড়িটাকে ‘লাকি হাউস’ বলি। এ যুগে লাখ টাকা কারো কাছে থাকলে তা উল্লেখ করার মতো নয়।
বাংলাদেশে উচ্চ পর্যায় যাঁরা চাকুরি করেন, তাদের বেতন লাখ টাকা। গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার থেকে যায় সংসদ সদস্য মন্ত্রী মহোদয়দের প্রতিটি কথা লাখ টাকায় বিক্রি হয়। এ ক্ষেত্রে মাননীয় অর্থমন্ত্রী যখন বলেন লাখ টাকা যাদের আছে তারা বিত্তবান। শুনে ভালো লাগলো। এই বিবেচনায় আমিও এখন বিত্তবান। বাংলাদেশের ৮০% লোক বিত্তবান। ধনী দেশ বলতে যা বুঝায়, হয়ত তা-ই, সুতরাং কারো ব্যাংকে লাখ টাকা থাকলে আবগারি কর দিতে হবে। একথা শুনে মাথায় হাত দিতে হলো। অভিধান খুলে দেখলাম- আবগারি হলো মাদক দ্রব্যের ব্যবসায়, মাদক দ্রব্য সংক্রান্ত রাজস্ব, মাদক খাই না, বিক্রি করি না- অথচ লাখ টাকা থাকলে মাদক দ্রব্য সংক্রান্ত রাজস্ব দিতে হবে। এবারকার বাজেটে ‘পাপ কর’ শব্দটি শুনলাম। যারা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, তারা নানা কৌশলে অনেক টাকা আত্মসাৎ (চুরি) করেছে, এ টাকা উদ্ধার করা যাচ্ছেনা, কেন? উত্তর নেই। যারা নিয়ে গেলো তাদেরকে কোনো শাস্তির ব্যবস্থা হয়েছে কি। একথা জিজ্ঞেস করে কে? যারা জিজ্ঞেসা করবে, তারা তো মামাত ভাই। কিন্তু ব্যাংকের টাকা কী হবে। সুতরাং এ পাপ কাজের জন্য যারা ব্যাংকে টাকা রাখবেন তাদের টাকা থেকে কর নিয়ে পরিশোধ করা হবে। পাপ করল কারা, পাপের শাস্তি ভোগ, দাদন দেবে কারা- এরকম অনেক বিষয় যখন মনকে পীড়া দিচ্ছে, তখন রাবিশ-বোকাস ইত্যাদি শুনে মনটা ভালো নেই।
আমার বাসা ঠাকুরপাড়া। প্রতিদিন বাসা থেকে বের হয়ে কর অফিসের সামনে দিয়ে কান্দিরপাড়ের দিকে যাই। কর অফিসটিকে মনে মনে নমস্কার জানাই। কারণ, এই অফিসটি টাকা সংগ্রহ করে সদাশয় সরকারকে দিয়ে থাকে, এ টাকা জনকল্যাণে ব্যয় করা হয়। আমার কাছে অফিসটি দেবালয়ের মতোই আবেগের স্থান। তারপর এগিয়ে অন্য জগতে চলে যাই। এ জগতটা আমার সাধনার উপকরণ, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শ্বশুর বাড়ি রাস্তার দক্ষিণ পাশে ছিল, এখন নেই। আমরা কুমিল্লাবাসী আবেগী মানসিকতায় নজরুল ইসলাম কোথায় কোথায় পদচারণা করেছেন সে স্থানগুলো চিহ্নিত করে স্মৃতিফলক স্থাপন করি, অনেক জায়গায়ই কবি গিয়েছেন, কিন্তু কান্দিরপাড়ের ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের বাড়ি তথা প্রমীলা নজরুলের  আবাস স্থানটি অনেক স্মৃতি অনেক ঘটনার সাক্ষী। সুতরাং এ জায়গাটি আমার মতো অপাংক্তেয়দের কাছে তীর্থ ক্ষেত্রের মতো। এখানে একটি সাধারণ স্মৃতিফলক ছিল, এখন এখানে একটি হাসপাতালের কাজ চলছে। সুতরাং স্মৃতি ফলকটি এখানে মানানসই নয়। কাজেই কে বা কারা তা ভেঙ্গে নিচি‎.. করে দিয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অথবা বর্তমান প্রজন্ম জেনে যাবে- এখানে প্রমীলাদের বাড়ি ছিল না, নজরুল ইসলাম এ বাড়িতে নয়মাস থাকেন নি, এখানে কোনো স্মৃতি নেই। স্মৃতি আছে কোথায়? কান্দিরপাড়ে রাস্তার উপর সিটি করপোরেশন কর্তৃক স্মৃতিফলকের জায়গায়, এখানে নজরুল হয়ত হেঁটেছেন- এ ফলক থেকে ২০০ গজ উত্তরে-ভিতরে বসন্তকুমার মজুমদারের বৈঠকখানায় নজরুল গান করেছিলেন, বাঁশি বাজিয়েছিলেন এবং বসন্তকুমার মজুমদার ও হেমপ্রভা মজুমদারের অকৃত্রিম ¯েœহ-ভালবাসা পেয়েছিলেন। রাস্তার উপর ফলকের স্থানে নয়। বরং জনগণের হাঁটা-চলার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এরুপ একটি স্মৃতিফলক কেন সিটি করপোরেশন প্রমীলাদের বাড়ির সামনে স্থাপন করলেন না তা বোধগম্য নয়। কথার অন্য সুর হলো ‘বোধ’ থাকলেও ‘গম্য’ নয়। একসময় অসহায়ের মতো উচ্চস্বরে চিৎকার করতে ইচ্ছে করে।
নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী পালিত হয় দায়সারর মতো, অথচ কথায় বলা হয় জাতীয় অনুষ্ঠান। নজরুল ইন্সটিটিউট আছে সাক্ষী গোপালের মতো। নজরুল পরিষদ ঠিকানাহীন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে, অথচ ১৯৯২ ও ২০১৫ সালে নজরুল জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঐতিহাসিক জাতীয় অনুষ্ঠান হয়েছে। মনে বড় কষ্ট, আমরা কী নজরুলকে ভুলে যাব। না, উপজেলায় পাঠিয়ে দিবো?
মনটা ভালো নেই। শতকরা দশজন চলে যানবাহনে, নব্বইজন চলে পায়ে হেঁটে, শহরে কোনো ফুটপাত নেই। তাই হাঁটতে গেলে রিক্সা-গাড়ি-অবৈধ অটো কেবল ধাক্কা দিতে চায়, বৃষ্টিতে রাস্তার কাদা ছিটায়। আমরা সামনে হাঁটছি, না পেছনে চলছি বুঝতে পারছি না। জানতে ইচ্ছে করে- আপনি কেমন আছেন?




সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};