ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
126
চাল নিয়ে মহাচাল
Published : Monday, 19 June, 2017 at 12:00 AM
চাল নিয়ে মহাচালমোস্তফা হোসেইন ||
কোনোভাবে যদি পেটে আগুন জ্বালানো যায়, তাহলে দুনিয়া পুড়ে ছাই হয়। আর এ কারণেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হলে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে খাদ্য সংকট তৈরি। এই অস্ত্রটি সত্তরের দশকে বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করেছিলো দেশের ভিতরে থাকা রাষ্ট্রবিরোধী চক্র। একইসঙ্গে বহির্বিশ্বের কিছু চিহ্নিত শক্তি। ’৭৪ এর খাদ্য সমস্যার মূলে প্রধান কারণ হিসেবে এটা চিহ্নিত।
আলামত দেখে মনে হচ্ছে, একটি চক্র মনে হয় সেই খেলাই খেলতে শুরু করেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করে সরকারের ভাবমূর্তি তলানীতে নেয়ার জন্য কিছু গণমাধ্যমও বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। গেলো গেলো রব তোলে গেলোকেই বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে যেন তারা। শনিবার দেশের প্রথম শ্রেণির একটি পত্রিকা চাল নিয়ে ফলাও করে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। পুরো সংবাদ পড়ে মনে হতে পারে, এই বুঝি দেশে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেছে। সংবাদটিতে আগাগোড়াই  নেতিবাচক তথ্য দিয়ে ভরে রাখা হয়েছে। কথিত ২৮% আবগারি শুল্কের তথ্য দেয়া হয়েছে।
বলা হচ্ছে এ কারণে বেসরকারি আমদানীকারকরা চাল আমদানিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। সেই পত্রিকার সংবাদে কোথাও উল্লেখ নেই, সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, চাল আমদানি থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে। আমদানি হচ্ছে এটুকু এমনভাবে প্রকাশ হয়েছে যাতে মনে হতে পারে, আমদানি হওয়া চালগুলো আদৌ দেশে পৌঁছায় কিনা সেটা নিয়েও মনে হয় তাদের সন্দেহ আছে।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও একই কথা বলা হচ্ছে। তারা বলছে চলমান আবগারী শুল্ক কার্যকর থাকায় আমদানীকৃত চালে প্রতি কেজিতে ৯টাকা হারে শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। যে কারণে আমদানীকারকরা চাল আমদানি করতে চায় না। তাদের বক্তব্য যুক্তি সঙ্গত। এটুকু সংবাদ পড়ার পর যে কেউ মনে করতে পারে সরকারের শুল্কনীতির কারণেই এই দশা। আর এই ভ্রান্ত শুল্কনীতি করাটাও সরকারের ঠিক হয়নি।  ইত্যাদি । প্রশ্ন হচ্ছে শুল্ক আইন কিংবা নীতির আলোকে অর্থনীতি চলবে। আর সেই নীতি বা আইন সময়ের প্রয়োজনেই পরিবর্তনও হয়। যখন এই আইনী সিদ্ধান্ত হয়েছিলো দেশে বাম্পার ফলন হয়েছিলো চালের। মজুদও ছিলো পর্যাপ্ত। স্বাভাবিক কারণেই চাল আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা সরকারের প্রয়োজন ছিলো। সেটাই কার্যত হয়েছে। আমরা দেখেছি চাল আমদানি হয়েছে অনেক কম। ফলে দেশের চালের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছিলো।
অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারি চাল মজুদ পরিস্থিতি নিয়েও ধূ¤্র্রজাল তৈরির অপচেষ্টা স্পষ্ট হয় সম্প্রতি। চাল মজুদ কমে গেছে সত্য। কিন্তু আমদানি প্রক্রিয়াধীন আছে। দ্রুত চাল দেশে আসছে। বর্তমান মজুদ শেষ হয়ে যাবে এমন কোনো আশঙ্কা নেই। কারণ আশঙ্কাজনক অবস্থায় যাওয়ার আগেই দেশে প্রয়োজনীয় পরিমাণ চাল চলে আসছে, এটা সরকারি তথ্য মাধ্যমেই জানা যায়। প্রচার মাধ্যমগুলো এই সংবাদ চেপে গিয়ে কার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করছে তো বোঝা যাচ্ছে না। এখনো সরকারি মজুদ বিপজ্জনক পর্যায়ে নয়। পাশাপাশি বেসরকারি মজুদ আছে। এমন পরিস্থিতিতে পাইপলাইনে থাকা চাল চলে এলে দেশে এমন কোনো খাদ্যাভাব তৈরি হবে না যার জন্য আমাদের হা-পিত্যেশ করতে হবে।
কথা হচ্ছে চালের দাম নিয়ে। চাল ক্রয়মূল্য বেশি হলে স্বাভাবিক কারণেই বিক্রয়মূল্য বেড়ে যাবে। যার ভার বইতে হয় প্রান্তিক পর্যায়ের ভোক্তাকে। বর্তমানে যে চাল গুদামে মজুদ আছে, সেগুলো কি বেশি মূল্যে ক্রয় করা? সোজা জবাব, সেগুলো আগের মূল্যে কিনে মজুদ করা হয়েছে। ক্রয়কালে হাওর সমস্যা তৈরি হয়নি। তাহলে কোন যুক্তিতে চালের দাম বাড়বে। মজুদ কমে যাওয়ার পর যদি অধিক মূল্যে চাল কেনা হয় তাহলে আরো পরে সেই মূল্য কার্যকর হওয়ার কথা। বাস্তবে তা হচ্ছে অনেক আগেই। তাতে স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় মূল্য বৃদ্ধির পেছনে কলকাঠি নাড়ছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। যারা জনগণকে জিম্মি করে নিজেদের পকেট স্ফীত করতে তৎপর।
ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহল থেকেও বলা হচ্ছে চলমান শুল্ক হার বহাল থাকলে চালের উর্ধ্বগতি রোধ করা যাবে না। সরকার প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে অধিক শুল্ক আরোপ করেছিলো আবার এখন যেহেতু আমদানিটা একটু জরুরি হয়ে পড়েছে বিশেষ করে দেশের বিশাল একটা জনগোষ্ঠীকে খুশি করার জন্য হলেও আমদানি শুল্ক কমিয়ে আনতে পারে। আশার কথা সরকার তাই করছে। অর্থমন্ত্রী সরাসরি বলে দিয়েছেন বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিধায় তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। এবং শুল্ক সাময়িক প্রত্যাহারেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।
তার মানে চাল আমদানিতে যে প্রতিবন্ধকতা ছিলো তা কেটে যাচ্ছে। এর ফলে বেসরকারি আমদানীকারকরা চাল আমদানি বাড়িয়ে দেবে, সরকারিভাবেও আমদানি হচ্ছেই। ফলে যেভাবে ফলাও করে খাদ্য ঘাটতির সংবাদ প্রচার করছে তা বেশিদিন টিকসই হবে না।
একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করবেই। সেক্ষেত্রে সরকারের মাথা নোয়ানোর মানে হবে ভয়াবহ সংকটে নিপতিত হওয়া। আমার মনে হয় দৃষ্টিটা শুধু স্থলে দিলেই হবে না। কারণ সরকারের শত্রু এখন শুধু স্থলে কিংবা আকাশেই নয়, সমুদ্রেও আছে। মনে থাকার কথা সত্তরের দশকের কথা। খাদ্য বহনকারী জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়ার ইতিহাস কি আর ভুলে যেতে পারি? সুতরাং সতর্কতার প্রয়োজন আছে। এমন ভাবার কারণ নেই দেশে শত্রু নেই। মাত্র বছর তিনেক আগে আগুনে সন্ত্রাস মাধ্যমে দেশকে ধংস করার যে প্রচেষ্টা আমরা দেখেছি সেটাই প্রমান করে দেয়, একটা শ্রেণি অপেক্ষায় থাকে কখন দেশকে টালমাটাল বানিয়ে দেয়া যায়। সেই চক্রটি এখনো সক্রিয়। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে- তাদের সঙ্গে দুয়েকটি গণমাধ্যমও হাত মিলাচ্ছে।
সরকারের তদারকি এবং নীতি অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ মাধ্যমে সব সংকট থেকে উত্তরণ করা সম্ভব।
লেখক- সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক। মুঠোফোন- ০১৯১৮১৮৮৯৪৮




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};