ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
199
ফেসবুক: ইতিবাচক-নেতিবাচক
Published : Wednesday, 17 May, 2017 at 12:00 AM
ফেসবুক: ইতিবাচক-নেতিবাচকড. আলী হোসেন চৌধুরী ||

ফেসবুক, হাল আমলে এক আলোচিত বিষয়। যে কোনো বিবেচনায় ফেসুবক বৃহত্তর সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। অত্যন্ত কার্যকর ও প্রাণবন্ত এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি আমাদের জীবনে সমাজে পরিবারে জীবন্ত চরিত্র হয়ে ওঠেছে। তাই এটি বয়সের সীমা রেখাকে অতিক্রম করেছে, বিত্ত বৈভব, পদ- পদবী, শ্রেণিগত তারতম্য, ক্ষমতাবান এবং অক্ষম, দুর্দ- প্রতাপশালী নিরীহ এরকম সবাইকে এব সূতায় বেঁধেছে যার ফলে এর একটি সর্বজনীন রূপ পরিগ্রহ করেছে। এটাই ‘ফেসবুক’- এর সাফল্যে মূল কথা। এখানে সবাই বন্ধু অন্তত: ফেসবুক বন্ধু। এ অভিধায় যুক্ত হচ্ছে। একে অন্যের সমব্যথী ভালোলাগা-মন্দলাগায় অংশ নিচ্ছে। তাই ‘ফেসবুক’ বাংলাদেশে বহুল আলোচিত, বহু জনপ্রিয়, বিতর্কিত নিন্দিত ও নন্দিত। ফেসবুকের অনেক ইতিবাচক দিক থাকার পরও এর নেতিবাচক দিকগুলোকেও অস্বীকার করা যাবেনা তাই খুব সহজভাবে বলতে গেলে বলতে হয় এর ‘সাইড এফেক্ট’। এ সাইড এফেক্ট ও কিন্তু কখনো কখনো বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনে। যারা ‘ফেসুবক’ প্রতিনিয়ত ব্যবহার করেন, উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী, সহজ সরল সাদামাটা, যারা সহজে মানুষকে বিশ্বাস করেন, যারা চঞ্চল অস্থির, বুঝার ক্ষমতা কম সে সব মানুষদের এ সাইড এফেক্ট বা নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে জানা থাকা দরকার এবং তাদের ফেসবুকের নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে না জানলে অনেক রকম হতে পারেন। যদিও ফেসবুক-এর ইতিবাচক দিকই বেশি। সমস্ত বিশ্বব্যাপি এ এক নতুন চাঞ্চল্য, যোগাযোগ মাধ্যমের দ্রুত সঞ্চলনশীল ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার নব দিগন্ত। ফলে নতুন এ ধারার যোগাযোগ ব্যবস্থাটি সারা বিশ্বের মানুষের কাছে সমাদৃত হয়। বিশ্বব্যাপি মানুষে মানুষে যোগাযোগ ও বন্ধনের, সন্ধান এবং প্রাপ্তির চমকপ্রদ ফলাফল সৃষ্টিকারী এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি যোগাযোগের নতুন বিস্ময় সৃষ্টি করে। লক্ষ মাইল দূরের মানুষটিকেও কাছে এনে দেয় তাৎক্ষণিক।
‘ফেসবুক’ এর যাত্রা শুরু হয়েছিলো ২০০৪ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। এর উদ্ভাবক ছিলেন মার্ক ইলিয়ট জুকার বার্গ। ২০ বছরের এ তরুণ ঐ বছর ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ এ কাজটি সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন ঐ সময় হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র। তাঁর কাজে তাঁকে সহায়তা করেন ডরমিটরিতে তাঁর রুমমেট এবং বন্ধু এদোয়ার্দো সেভারিন, এন্দ্রো ম্যাকালাম, ডাস্টিন মস্কোভস এবং খ্রিজ হিউজ। এরা সবাই ছিলেন হারভার্ড এর ছাত্র। ২০১২ সালে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ লাখের উপর। বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটির মতো হবে বলে ধারণা করা যায়। প্রযুক্তির এ নতুন চমক বিশ্বের কোটি মানুষকে আজ সংযুক্ত করেছে। জুকারবার্গ এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রভাবশালী ব্যক্তি রূপে চি?িহ্নত হয়েছেন ‘ফর্বস’ ম্যাগাজিনের মতে। জুকার বার্গের আয় এখন ইন্টরনেট থেকে প্রায় ৬০ কোটি বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফেসুবেক’র সা¤্রাজ্য ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা আমাদের নিত্যদিনে ক্রীয়াশীল। দেখা যায় অনেক ঘটনা, অনেক রটনা এবং সংবাদের অনেক রেফারেন্স এখন ‘ফেসবুক’ গণমাধ্যমগুলোর অনেক আগেই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো চলে আসছে। এটাও ফেসবুকের গুরুত্ব সৃষ্টিতে অন্যতম কারণ। আবার অনেক সময় অনেক সংবাদ মিডিয়া কিংবা সংবাদপত্রে প্রকাশিত নয় তাও দেখা যায় ফেসবুকে। অনেকের ব্যক্তিগত সংবাদ, তথ্য কিংবা কোনো ইভেন্ট পৌছে যাচ্ছে বন্ধু, স্বজন এবং শুভানুধ্যায়ীর কাছে। সৃজনশীল কাজও দেখা যায় ফেসবুক এ গল্প, কবিতা, ছড়া স্মৃতিচারণ ছবি খুব জমজমাট।
আত্মীয় কিংবা বন্ধু, যোগাযোগ নেই ২৫/৩০ বছর, কিন্তু ফেসবুক সে যোগাযোগটা ঘটিয়ে দিচ্ছে। এটা একটা বড় পাওয়া, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য। যাদের সাথে কালে ভদ্রে যোগাযোগ হয় এক শহরে থাকে অথবা ভিন্ন শহর কিংবা ভিন্ন দেশ ফেসবুক কিন্তু প্রতিনিয়ত যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়। ফলে আমাদের জীবনে ফেসবুক নানা মাত্রা যুক্ত করে প্রতিনিয়ত। সবাই হয়তো ফেসবুক ব্যবহার করেনা কিন্তু প্রতিদিন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। অতি দ্রুত গতিতেই বাড়ছে। ফেসবুকের ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে অনেক ইন্টারেস্টিং ছবি যা আনন্দদায়ক, মজার মজার দৃশ্যপট, মজার কাহিনি কার্টুন
ব্যঙ্গ হাস্য রস। অনেক দুর্লভ ফটোগ্রাফ যার মূল্য নির্ণয় করা যাবেনা। অনেক প্রামাণ্য তথ্যও সেরকমভাবে মূল্যায়ন করা যাবেনা। মানুষে মানুষে যোগযোগ সৌহার্দ্য-বন্ধুত্ব প্রেম এমনকি বিয়ে পর্যন্ত ফেসবুক ভূমিকা রাখে। যা অস্বীকার করা যায় না।
তাই ফেসবুক নানাভাবে আমাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে বাংলাদেশে বহুল আলোচিত একটি সংগঠন ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ ফেসবুকের মাধ্যমেই সংগঠিত হয়েছে। সুতরাং ফেসবুক এর শক্তি অনেক কার্যকারিতাও অনেক এটা নি:সন্দেহে বলা যায়। ফেসুবক কে অস্বীকার করা যাবেনা। বিশেষ করে অবসর এবং অলস মানুষের জন্য এক কার্যকর সঞ্চলন ক্ষেত্র, বিনোদন সময় ক্ষেপণ। তবে ফেসবুক এর বেশকিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে যার কোনো কোনোটি ভয়াবহ বিপর্যয়ও ডেকে আনতে পারে। এখানে সত্যাসত্য প্রমাণের সুযোগ নেই। কোনো সম্পাদনার বিষয় নেই ফেসবুক প্রশাসন নেই ফলে যে কোনো মিথ্যা সংবাদ নেতিবাচক ফলাফল সৃষ্টি করতে পারে। কোনো ব্যক্তির নামে কুৎসা রটনা সেই ব্যক্তির সমূহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজকাল তরুণদের মাঝে বিশেষ করে কোনো কোনো ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে ফেসবুক ম্যানিয়ার মতো হয়ে পড়েছে বুঁদ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় ঘন্টার পর ঘন্টা যার ফলে তারুণ্যকে স্থবির করে তুলছে, লেখাপড়া ও অন্যান্য সৃজনশীলতা থেকে সে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এরকম বুঁদ হয়ে থাকা তরুণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। কখনে কখনো প্রচলিত আইন সমাজ আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য পরিপন্থি পোস্টও দেখা যায়। কখনো কখনো আহবানও জানানো হয় নানা বিষয়ে যা কিছুতেই সমর্থন যোগ্য নয়। এমন কিছু কিছু পোস্ট দেয়া হতো যা খুবই অশ্লিল ও অরুচিকর বিকৃত যৌন রুচির যা আমাদের সমাজ বাস্তবতায় অত্যন্ত নোংরা ও কদাকার বিকৃত রুচির পরিচায়ক। সম্প্রতি এ ধরনের পোস্ট ও ছবি টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়ে প্রায় বন্ধ করেছে। এটা খুব ক্ষতিকর হয়ে ওঠে ছিলো। অন্যদিকে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিফলনও দেখা যায়। একে অন্যের দলকে বিষেদগার করতে গিয়ে বড় বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন যা খুবই অসুস্থতার পরিচায়ক। এ ক্ষেত্রে জাতীয় নেতা কিংবা স্থানীয় নেতাকে নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে কাঁদা ছোড়াছুড়ি কিছুতেই শোভন হয়না। এছাড়া কোনো ভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন মত এমনভাবে চলে যায় যা খিস্তি খেউরে পড়ে।
কিছু কিছু আইডি কখনো কখনো হ্যাক করা হয় যাতে ঐ ব্যক্তি নানা ভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। হ্যাক করা আইডি থেকে নানা কদর্যপূর্ণ বিশ্রি কাজ করা হয়। আরেকটি রোগ আছে তা হলো ফেক আইডি। এগুলো দিয়ে অনেক ছেলেই মেয়ের ছবি দিয়ে অ্যাকাউন্ট করে এবং সেই মেয়ের ছবি নানাভাবে ব্যবহার করে এবং কুরুচিপূর্ণ কাজে লাগায় মেয়েটি হয়তো জানেওনা। আবার অনেক আছে ছদ্মনাম ব্যবহারকারী কথা বলেন বন্ধুত্ব করেন কিন্তু নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চান। এটাও একধরনের সন্দেহ ও বিভ্রান্তি তৈরি করে।
ফেসবুক থেকে প্রেম হয় বিয়েও হয় সত্য কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রেম বন্ধুত্ব এবং পরিচয় বেশিদিন টেকেনা। খুব স্বল্প পরিচয়ে বন্ধুত্ব হয় কিংবা প্রেম কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে তার সমাপ্তি ঘটে। দেখা দেয় তীব্র মতানৈক্য একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে। ফেসবুক এ যে যার মতো করে কথা বলতে পারে তই অনেকেই রুচি সৌন্দর্যবোধের তোয়াক্কা করেনা। যা ইচ্ছা তা বলতে থাকে। তাই এ ক্ষেত্রে আরো একটু শালীন আরে একটু বিবেক বোধ সম্পন্ন হওয়া উচিত। ব্যবহারকারীদের ধৈর্যশীল, রুচিশীল হওয়া দরকার।
সবার মধ্যে দায়িত্বশীলতা থাকলে হয়তো এরকম বিষয়গুলো অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে পিতা মাতা বা অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ছাত্র-ছাত্রীদের ফেসবুক এ সীমিত করা না গেলে লেখাপড়া, মানস গঠন, সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশেষ করে লেখাপড়া ও পরীক্ষার ফলাফল। এ ব্যাপারে স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ নজরদারিতে রাখতে হবে। আরেকটি বিষয় সরকারিভাবে আলোচিত হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি, তা হলো জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে ফেসবুক এ অ্যাকাউন্ট খোলা। তা হলেও অনেকাংশে অনেক নেতিবাচক দিক রোধ হবে বলে মনে হয়।
তারপরও ফেসবুক একটি নতুন ধারা প্রযুক্তির নব উপহার। এর মধ্য দিয়ে ইতিবাচক দিক আরো বিস্তৃত হবে। জ্ঞান চর্চা ও সুন্দর বিনোদনের পরিবেশ বৃহত্তর পরিসরে সম্প্রসারিত হবে। সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত নির্মিত হবে। এ প্রত্যাশাই আমাদের থাকবে।
মতামতের জন্য- ০১৭৩৫১৬৫৫৪৪







© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};