ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
85
মা-বাবার স্নেহ-আদরে বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা
Published : Tuesday, 16 May, 2017 at 12:00 AM
মা-বাবার স্নেহ-আদরে বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলামোতাহার হোসেন মাহবুব ।।
স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মা-বাবা তাকে আদর করে ডাকতেন খোকা বলে। শৈশব-কৈশোরে এ ডাকনামটি আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে সুপরিচিতি লাভ করে। ১৯২৭ সালে খোকার বয়স যখন সাত বছর তখন তিনি স্থানীয় গিমাভাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হন। এ স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট দাদা শেখ আবদুর রশীদ। এ স্কুলে বঙ্গবন্ধু তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন।
গ্রামের প্রাকৃতিক আবহে খোকা বড় হয়ে ওঠেন, পারিবারিকভাবেও তাঁর প্রতি ছিল সকলের সযতœ দৃষ্টি। মা-বাবার ¯েœহ-আদর, ভাইবোনদের ভালোবাসায় ঋদ্ধ তো বটেই, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী সকলের কাছেই তাঁর একটি আলাদা অবস্থান সৃষ্টি হয়ে ছিল, যা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বজায় ছিল।
ছোটবেলা থেকে মায়ের পরিচর্যায় খোকার জীবন কাটে। ছেলের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের প্রতি ছিল মায়ের বিশেষ মনোযোগ। রোগা-পাতলা আর লম্বা শরীরের অধিকারী ছিলেন বলে মা তার জন্য নিজ হাতে দুধ থেকে মাখন তৈরি করে খাওয়াতেন। ভাতের সঙ্গে কৈ মাছ ছিল প্রিয়। মা সায়েরা খাতুন নিজে রান্না করতেন। খোকা খাবারের শেষ পর্যায়ে দুধ-আম দিয়ে ভাত খেতে ভালোবাসতেন। ছেলের খাবার তৈরি, পরনের পোশাক ঠিক রাখা- এসবই মা নিজের হাতে করতেন। খুব যতœ করে কাঁথা সেলাই করতেন খোকার জন্য। তার বিছানা ঠিক করা, বই খাতা গুছিয়ে রাখা- সবকিছুতেই ছিল মায়ের সতর্ক দৃষ্টি। বৃষ্টির দিনে ছেলেকে নতুন ছাতা বারবার কিনে দিতেও মা ক্লান্তিবোধ করতেন না। তাঁর ¯েœহের খোকা বন্ধু-বান্ধব ছাড়াও  অন্য ছেলেমেয়েদের নিজের ছাতাটি দিয়ে দিত, একথা শোনার পর মায়ের মনে গর্ব হতো। খোকা তার সব কথা প্রথম প্রথম মায়ের কাছে মুখ খুলে বলতো না। কিন্তু মা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করলে খোকা সব খুলে বলতো। মায়ের গোলার ধান কত মানুষকে তিনি ডালাভরে দিয়েছেন। বাবা শুনতেন, কিন্তু খোকাকে কখনো বাধা দেন নি। খোকা মনে দুঃখ পাবে, চোখের জল ফেলবে- এ কষ্ট মা-বাবা খোকাকে দিতে পারতেন না। তাঁরা মনে করতেন খোকা ভালো কাজই করেছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘আমরা আমার নানার ঘরেই থাকতাম। দাদা ও নানার ঘর পাশাপাশি। আব্বার কাছ থেকেই আমি লেখাপড়া করি। আব্বার কাছেই আমি ঘুমাতাম। তাঁর গলা ধরে রাতে না ঘুমালে আমার ঘুম আসতো না। আমি বংশের বড় ছেলে, তাই সমস্ত আদর আমারই ছিল। আমার মেঝো চাচারও কোনো ছেলেমেয়ে ছিল না। আমার ছোট দাদারও একমাত্র ছেলে আছে। (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ. ৮)
দুই.
বাবা শেখ লুৎফর রহমান ছিলেন এন্ট্রাস পাশ। গোপালগঞ্জ কোর্টের নাজির ছিলেন তিনি। টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ছিল তাঁর বসত ভিটা। কৃষিজমিও ছিল। সাধারণ মধ্যবিত্ত সচ্ছল পরিবার। বাড়িতে থাকতেন বঙ্গবন্ধুর মা সায়েরা খাতুন, বড়বোন ফাতেমা বেগম, আসিয়া বেগম, ছোটবোন আমেনা বেগম, ছোটভাই শেখ আবু নাসের ও ছোট বোন খোদেজা বেগম। ছেলেবেলায় তাঁদের সাথেই থাকতেন খোকা। বড় দু’বোনের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। আপন ভাই-বোন ছাড়াও আশ্রিত আত্মীয়-স্বজনের পরিবারের ছেলেমেয়েদের সাথেও তাঁর ছোটবেলা কাটে। বাড়িতে ভোরবেলা মৌলভী সাহেবের কাছে কোরআন শরীফ পড়তেন। গৃহ শিক্ষকের কাছে বাংলা, অংক, ইতিহাস পড়তেন। বাড়ি ও গিমাভাঙ্গা স্কুলে পড়াশোনা, ফুটবলের দল গঠন, বাড়ি বাড়ি ধান তুলে অসহায় ছাত্রদের সাহায্য করা, বাড়িতে বোনদের নিয়ে ময়না, দোয়েল, শালিক ছানা পোষা- এসব কাজ করার মধ্য দিয়ে খোকার ছোটবেলা কেটেছে। বর্ষার মেঠোপথের ধুলোবালি গায়ে মেখে ভিজতেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, “আমার মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। তিনি কোনদিন আমার আব্বার সঙ্গে শহরে থাকতেন না। তিনি সমস্ত সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন আর বলতেন, ‘আমার আব্বা আমাকে সম্পত্তি দিয়ে গেছেন। যাতে তাঁর বাড়িতে আমি থাকি। শহরে চলে গেলে এ বাড়িতে আলো জ্বলবে না, বাবা অভিশাপ দিবে।”
কৈশোরে খোকা ছিপছিপে ও পাতলা হলেও ফুটবল খেলতেন। দল নিয়ে যেতেন চিতলমারী ও মোল্লার হাটে। ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত প্রকৃতির হলেও গরিব মানুষের প্রতি তাঁর যে মানবিকবোধ তা কৈশোরেই প্রতিফলিত হয়। কৈশোরের দুরন্তপনা ঘিরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই স্বীকারোক্তি ব্যক্ত করেছেন এভাবে-
‘আমি ভীষণ একগুঁয়ে ছিলাম। আমার একটা দল ছিল। কেউ কিছু বললে আর রক্ষা ছিল না। মারপিট করতাম। আমার দলের ছেলেদের কেউ কিছু বললে একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়তাম। আমার আব্বা মাঝে মাঝে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠতেন। কারণ ছোট শহর, নালিশ হত। আব্বাকে আমি খুব ভয় করতাম।’
একবার গিমাভাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে খালে নৌকা ডুবি হয়। খোকার মায়ের অন্তর অজানা আশঙ্কায় কেঁদে ওঠে। এরপর খোকার মা তাকে পাঠিয়ে দেন বাবার কাছে। খোকার বাবা লুৎফর রহমানের অনেক স্বপ্ন। কোর্ট-কাছারিতে উকিল-মোক্তারদের ভীষণ কদর। তিনি ছেলেকে ওকালতি পড়াবেন। নামজাদা আইনজীবী হবে- এ স্বপ্ন বুকে পুষে খোকাকে সবসময় কাছে রাখেন। মাদারীপুরে খোকাকে ভর্তি করানো হলো স্থানীয় ইসলামিয়া হাই স্কুলে। স্কুলটি খোকার পছন্দ হলো। বেশি পছন্দ হলো লম্বা দিঘিটা। দিঘির পাড়ে এলে খোকার মনে হতো এটি টুঙ্গিপাড়ার মধুমতি নদীর লম্বা খাল।
মাদারীপুরে বাবার চাকুরি স্থলে খোকা বেশিদিন থাকেন নি। মাদারীপুর তাঁর খুব ভালো লাগে। আদালতের পাশেই তাঁদের বাসা। চারদিকে চোখে গাছ-পাছালি, যেনো টুঙ্গিপাড়া ও গোপালগঞ্জের মতো। কিন্তু চোখে সমস্যার কারণে সেই টুঙ্গিপাড়ায় ফিরে আসতে হয়ে। এ সময় চোখের সমস্যার জন্য তাঁকে কলকাতা যেতে হয়। প্রায় চার বছর তাঁর লেখাপড়া বন্ধ থাকে।
মাদারীপুরে থাকাকালে একদিন সন্ধ্যার পর খোকা টেবিলে বই পড়তে বসেছেন। কিন্তু বইয়ের পাতার অক্ষরগুলো খোকার চোখে ঝাপসা লাগে। সাথে সাথে খোকা বাবাকে ডাকে। পিতা শেখ লুৎফর রহমান চিন্তিত হয়ে পড়েন। তাহলে কি খোকার চোখে ছানি পড়েছে? ছেলেকে নিয়ে যান চিকিৎসকের কাছে। মাদারীপুরের বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে দেখানোর পর জানা যায়- খোকার চোখে ছানি পড়ে নি, তার বেরিবেরি রোগ হয়েছে। ভিটামিন-বি এর অভাবে এ রোগ হয়। এতে চোখের জ্যোতি কমে যায়। এটি ১৯৩৪ সালের ঘটনা। একজন চিকিৎসক খোকার বাবা শেখ লুৎফর রহমানকে কাছে ডেকে বলেন, ঢেঁকিছাটা চাল খেলে বেরিবেরি রোগ সেরে যায়। ওকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিন। কদিন ঢেঁকিছাটা চাল খাক। দেখবেন, চোখে দেখতে শুরু করেছে। প্রয়োজন হলে এরপর কলকাতা নিয়ে যাবেন।
চিকিৎসকের কথা মতো বাবা শেখ লুৎফর রহমান খোকাকে টুঙ্গিপাড়া নিয়ে আসেন। খোকার মা সায়েরা খাতুন বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন। ছোটছেলে নাসিরও পোলিওতে আক্রান্ত। ঘরে লালচাল অর্থাৎ ঢেঁকিছাটা চাল খাওয়ানো শুরু হলো। খোকা বাড়িতে এসেছে দেখে সবাই খুশি। সবচে বেশি খুশি হলেন বোনেরা। ভাইকে কাছে পেয়ে খুশি হলেও চোখের সমস্যার কথা শুনে মন কেঁদে ওঠে। বাবা শেখ লুৎফর রহমানের চিন্তার অন্ত নেই। একদিন খোকার চোখ দেখাতে নিয়ে যান কলকাতায় চিকিৎসক শিবপ্রদ ভটাচার্য ও এ কে রায় চৌধুরীর কাছে। চোখের চিকিৎসার জন্য দুবছর ব্যয় হয়।
বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘১৯৩৪ সালে আমি যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি তখন ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। ছোটসময়ে আমি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম। খেলাধুলা করতাম, গান গাইতাম এবং ভাল ব্রতচারী করতে পারতাম। হঠাৎ বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে। আব্বা আমাকে নিয়ে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে নিয়ে যান। কলকাতার বড় বড় ডাক্তার শিবপ্রদ ভটাচার্য, এ কে রায় চৌধুরী আরও অনেককেই দেখান এবং চিকিৎসা করাতে থাকেন। প্রায় দুই বছর এইভাবে চলল।’
তিন.
আগেই বলেছি, কৈশোরে খোকা পাতলা-ছিপছিপে হলেও নিয়মিত ফুটবল খেলতেন। একবার গোপালগঞ্জ শহরে মহকুমা প্রশাসক এ জেড খান ফুটবল খেলা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন এবং এ খেলায় সরকারি দলের পক্ষে খোকার বাবার দল ও খোকার দলের মধ্যে বেশ কয়েকবার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেকবারেই খেলা ড্র হয়। অবশেষে ফাইনাল খেলায় খোকার বাবার দল এ জেড খান শিল্ড জয়লাভ করে। খোকা বাবার দলের কাছে হেরেও খুশি হন। খোকার বয়স তখন মাত্র চৌদ্দ বছর। ১৯৩৬ সালে খোকা তথা শেখ মুজিবুর রহমান যখন মাদারীপুর হাই স্কুলে ভর্তি হন তখন আবার চোখে গ্লুকোমার সমস্যায় পড়েন। তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান আবার চোখের চিকিৎসার জন্য তাঁকে কলকাতায় নিয়ে যান। কলকাতার বিখ্যাত টি. আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানের দু চোখ অপারেশন করেন এবং চশমা পরার নির্দেশ দেন। সেই থেকেই বঙ্গবন্ধুর চশমা পরা শুরু।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘১৯৩৬ সালে আব্বা মাদারীপুর মহকুমায় সেরেস্তাদার হয়ে বদলি হয়ে যান। আমার অসুস্থতার জন্য মাকেও সেখানে নিয়ে আসেন। ১৯৩৬ সালে আবার আমার চক্ষু খারাপ হয়ে পড়ে। গ্লুকোমার নামে একটা রোগ হয়। ডাক্তারদের পরামর্শে আব্বা আমাকে নিয়ে আবার কলকাতায় রওয়ানা হলেন চিকিৎসার জন্য। এই সময়ে আমি মাদারীপুর হাই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলাম লেখাপড়া করার জন্য। কলকাতা যেয়ে ডাক্তার টি. আহমেদ সাহেবকে দেখালাম। আমার বোন কলকাতায় থাকতো কারণ ভগ্নিপতি এজিবিতে চাকরি করতেন। তিনি আমার মেজোবোন শেখ ফজলুল হক মণির মা।  মণির বাবা আমার দাদা হতেন। তিনিও শেখ বংশের লোক। বোনের কাছেই থাকতাম। কোন অসুবিধা হতো না। ডাক্তার সাহেব আমার চক্ষু অপারেশন করতে বললেন। দেরি করলে আমি অন্ধ হয়ে যেতে পারি। আমাকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দিলেন। ভোর ন’টায় অপারেশন হবে। আমি ভয় পেয়ে পালাতে চেষ্টা করতে লাগলাম। কিন্তু পারলাম না। আমাকে অপারেশন ঘরে নিয়ে যাওয়া হল। দশ দিনের মধ্যে দুইটা চক্ষুই অপারেশন করা হল। তাই ১৯৩৬ সাল থেকেই চশমা পরছি।’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ. ৯)
১৯৩৭ সালে খোকা আবার লেখাপড়া শুরু করেন। এবার আর পুরানো স্কুলে ভর্তি হন নি, কারণ তাঁর সহপাঠীরা তাঁকে পেছনে ফেলে গেছে। তাঁর পিতা তাঁকে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে ভর্তি করে দেন। পিতা লুৎফর রহমানও আবার গোপালগঞ্জে ফিরে আসেন। এ সময় খোকাকে পড়ানোর জন্য কাজী আবদুল হামিদ মাস্টার সাহেবকে গৃহশিক্ষক হিসেবে রাখা হয়। তাঁর জন্য একটা আলাদা ঘরও তৈরি করে  দিলেন খোকার পিতা। গোপালগঞ্জের বাড়িটা খোকার পিতাই নির্মাণ করেছিলেন।
চার.
খোকা ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত প্রকৃতির হলেও সৎসাহসিকতা ও গরিব  মানুষের প্রতি তাঁর যে মানবিকতাবোধ তা কৈশোরেই প্রস্ফুটিত হয়। প্রথমে খোকার সৎসাহসিকতা প্রসঙ্গে একটি ঘটনা উপস্থাপন করছি। ১৯৩৯ সালের ঘটনা। খোকা তখন গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলের ছাত্র। মাঘ মাসের কোনো একদিন। স্কুল পরিদর্শনে আসেন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং তাঁর মন্ত্রিসভার বাণিজ্য ও পল্লী উন্নয়ন উন্নয়ন মন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। খোকা ভাবে, এইতো সুযোগ- মুখ্যমন্ত্রী স্কুল পরিদর্শনে এলেই স্কুলের ছাদ মেরামতের কথা বলতে হবে। পরদিন যথাসময়ে মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ও তাঁর মন্ত্রী সভায় সদস্য হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মিশন স্কুল পরিদর্শন করেন। কিন্তু এ সময় কেউ ছাদ মেরামতের দাবির কথা বললেন না। খোকা বন্ধুদের নিয়ে স্কুল ছেড়ে রাস্তায় এসে দাঁড়ালো। পথ আগলে নয়, পুলিশের পাহারার মধ্যে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করল তারা। খোকা তাদের দাবির কথা বিনীত অথচ তেজোদীপ্তভাবে প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী স্কুলের হোস্টেলের ছাদ মেরামতের জন্য বারো শ’ টাকা মঞ্জুর করেন।
আগেই বলেছি, শৈশব-কিশোর থেকেই খোকা মানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন খুব সাহসী। অন্যায়-অবিচার দেখলেই প্রতিবাদ জানাতেন। প্রয়োজনে রুখে দাঁড়াতেন। এবারে খোকার মানবিকতাবোধ সম্পর্কে  একটি উপমা উপস্থাপন করছি। গৃহশিক্ষক কাজী আবদুল হামিদ গোপালগঞ্জে একটি ‘মুসলিম সেবা সমিতি’ গঠন করেন- যার মাধ্যমে গরিব ছেলেদের সাহায্য করতেন। মুষ্টি ভিক্ষার চাল ওঠাবেন সকল মুসলমান বাড়ি থেকে। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘প্রত্যেক রবিবার আমরা থলি নিয়ে বাড়ি বাড়ি থেকে চাল উঠিয়ে আনতাম এবং এই চাল বিক্রি করে মাস্টার সাহেব গরিব লোকদের বই ও পরীক্ষার এবং অন্যান্য খরচ দিতেন। ঘুরে ঘুরে গরিব ছাত্রদের জায়গিরও ঠিক করে দিতেন। আমাকেই অনেক কাজ করতে হত তাঁর সাথে।’
হঠাৎ মাস্টার সাহেব যক্ষ্মা রোগে মারা যান। এরপর এ সমিতির সভাপতি ছিলেন একজন মুসলিম মাস্টার ও সম্পাদক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘যদি কোন মুসলমান চাল না দিত  আমার দলবল নিয়ে তার উপর জোর করতাম। দরকার হলে তার বাড়িতে রাতে ইট মারা হত। এজন্য আমার আব্বার কাছে অনেক সময় শাস্তি পেতে হত। আমার আব্বা আমাকে বাধা দিতেন না।’ বঙ্গবন্ধুর বাবা জানতেন ছেলের দুরন্তপনার আড়ালে মানবসেবার মনোবৃত্তি প্রোজ্জল।
ছোটবেলায় খোকা মানে বঙ্গবন্ধুর প্রতি মা-বাবার ¯েœহ আদর, একই সাথে বঙ্গবন্ধুর সৎসাহস ও মানবিকবোধের প্রতি তাঁদের সমর্থন এবং  মা-বাবার প্রতি বঙ্গবন্ধুর শ্রদ্ধাবোধ, সর্বোপরি বাঙালি জাতির প্রতি তাঁর মমত্ববোধ এবং অধিকার আদায়ের যোগ্য নেতৃত্ব পরবর্তী সময়ে বাঙালি জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের সহায়ক ভূমিকা রাখে
তথ্য সংগ্রহ:
১. বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলার গল্প, খালেদ বিন জয়েনউদদীন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭, ঢাকা
২. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তাঁর পরিবার, বেবী মওদুদ, প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১০, ঢাকা
৩. অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান, তৃতীয় মুদ্রণ, মার্চ ২০১৩, ঢাকা
৪. কারাগারের রোজনামচা, শেখ মুজিবুর রহমান, প্রথম প্রকাশ: মার্চ ২০১৭, ঢাকা
৫. অস্তরাগে স্মৃতি সমুজ্জল/বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার ও আমি, মমিনুল হক খোকা, জানুয়ারি ২০১৬, ঢাকা







সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};