ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
2506
শুরুর দিনগুলো
Published : Wednesday, 19 April, 2017 at 5:12 PM
শুরুর দিনগুলো কুমিল্লার কৃতি সন্তান আসিফ আকবর বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় পপ-ধারার সঙ্গীত শিল্পী। তিনি তার সুরেলা কন্ঠের জন্য দেশ বিদেশে বিশেষভাবে সুপরিচিত। তিনি ২০০১ সালে প্রকাশিত তার প্রথম সঙ্গীত এ্যালবাম 'ও প্রিয়া তুমি কোথায়' এর মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তাঁর ফেসবুক পেজ থেকে আপনাদের জন্য ‘শুরুর দিনগুলো’:

১৯৯৬ সালে ফিকল বয়েজ নামে একটা ব্যান্ড তৈরি করেছিলাম। প্রচুর শো করতাম। একদিন ব্যান্ডের গিটারিস্ট জুয়েল বলল, 'ঢাকায় যাচ্ছি। প্রফেশনাল গিটারিস্ট হিসেবে কাজ করব।' ওর এই কথা শুনে বললাম, 'আমিও যাব। গিয়ে দেখব, প্রফেশনাল মিউজিশিয়ানরা কীভাবে কাজ করে।' এরপর কুমিল্লা থেকে চলে এলাম ঢাকায়। সফর ছিল মাত্র একদিনের। কিন্তু ওর কাজ দেখে থেকে গেলাম ১৫ দিন। ভাবলাম, চেষ্টা করে দেখি, আমিও কিছু করতে পারি কি-না।

এই ভাবনা থেকেই চারজন মিলে একটা মেস ভাড়া করলাম। ঠিকানা হলো ১১৮/১ পশ্চিম রামপুরা। কিন্তু আমার পরিবার তো কুমিল্লায়। তরুণ বয়সে বিয়ে এবং প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগেই এক সন্তানের জনক হয়েছি। তাই কুমিল্লায় ফিরে গেলাম। কিন্তু মাসখানেক পর পরিবার নিয়ে আবার চলে এলাম ঢাকায়।

সেই আগমন আমাকে কতটা সংগ্রামের মুখে ঠেলে দেবে, বুঝিনি। বিশেষ কোনো আয় নেই। ছোটখাটো ব্যবসা করতাম। হাতে কিছু পয়সাও জমেছিল। কিন্তু তা দিয়ে আর কতদিন চলবে। এমনও হয়েছে, ভাড়া বাকি পড়ায় বাসা ছাড়তে হয়েছে। একবার নয়, কয়েকবার। অন্যদিকে সেজ ও ছোট ভাইকে দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল আমার কাঁধে। তাই মা বারবার বলত, 'ঢাকায় থেকে কী করবি, তার পরিবর্তে চাকরি কর।' কিন্তু মায়ের এই অনুরোধ আমি রাখতে পারিনি। চাকরি পেয়েছিলাম চা বাগানের। কিন্তু সেই চাকরি ছেড়েছুড়ে ঢাকায় থাকব বলেই স্থির করেছিলাম।

আমি বরাবরই জেদি। কোনো কাজের শেষ না দেখে হাল ছাড়ি না। প্রয়োজনে নিঃশেষ হবো, তবু পরাস্ত হবো ন- এই আমার নীতি। সেই নীতিতেই অটল ছিলাম। শুরু করেছিলাম সাউন্ড বিজনেস। সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া দিয়ে কিছু আয় হতো। তাতেই চলত সংসার। তখনও অনুমান করতে পারিনি, স্বপ্ন পূরণের পথ থেকে মাত্র কয়েক কদম দূরে দাঁড়িয়ে আছি। প্রয়োজন ছিল কেবল বাঁকবদলের।

অবশেষে জীবনের বাঁকবদল ঘটল, পরিচয় হলো স্বনামধন্য মিউজিশিয়ান পিন্টু ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি একদিন বাসায় ডেকে নিয়ে গান শুনতে চাইলেন। শোনালাম, কিশোর কুমারের 'একদিন পাখি উড়ে' আর উদিত নারায়ণের হিন্দি গান 'পেহলা নেশা'। গান শুনে তিনি বললেন, 'তোমার তো প্লেব্যাকের কণ্ঠ, গানের চর্চা ভালোভাবে চালিয়ে যাও।' তার এই কথা শুনে বললাম, 'আমার তো হাতে সময় কম, হয়তো যে কোনো সময় চাকরিবাকরিতে ঢুকে যেতে হবে, কী করা যায়?'

এ কথা শোনার পরও তিনি গানের চর্চা চালিয়ে যেতে বললেন। আশ্বাস দিলেন এই বলে, 'তোমার পক্ষে প্লেব্যাক সিঙ্গার হওয়া সম্ভব। গায়ক হওয়ার মতো যোগ্যতা তোমার পুরোপুরি আছে।' তার এই কথায় আরও উজ্জীবিত হলাম। সাউন্ড ব্যবসা নিয়ে পড়ে রইলাম ঢাকায়। পিন্টু ভাই পরবর্র্তী সাক্ষাতে আমাকে নিয়ে গেলেন সঙ্গীত পরিচালক শওকত আলী ইমনের বাসায়।

তিনি আমার গান শুনলেন। তিনি বললেন, 'তোমার পক্ষে প্লেব্যাক সিঙ্গার হওয়া সম্ভব।' শুধু এই কথা নয়, আমাকে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দিলেন। দেড় বছর তার সহযোগী হিসেবে কাজ করলাম। শিখলাম প্লেব্যাকের খুঁটিনাটি। যার সুবাদে ১৯৯৮ সালে সুযোগ পেলাম প্লেব্যাক করার। ছবির নাম 'রাজা নাম্বার ওয়ান'। সেই শুরু, এরপর ২০০০ সালের আগ পর্যন্ত ইমন ভাইয়ের সুরে ২৪ গানের প্লেব্যাক করেছি। কিন্তু তখনও আমার আর্থিক টানাপড়েন চলছেই। প্লেব্যাক বা শো করে মাত্র দু-তিন হাজার টাকা পেতাম, তা দিয়ে সংসার চালানো সত্যিই খুব কঠিন ছিল।

তার পরও প্লেব্যাক করে যাচ্ছিলাম। এই প্লেব্যাকের সুবাদে পরিচয় হয় সুরকার ইথুন বাবুর সঙ্গে। মনে আছে, সেদিন আলী আকরাম শুভর সুরে 'ক্ষ্যাপা বাসু' ছবির জন্য একটি গান রেকর্ড করছিলাম। সেই গান শুনে ইথুন বাবু আমাকে অ্যালবাম করার প্রস্তাব দেন। সত্যি বলতে কি, আমি এমনই এক প্রস্তাব পাওয়ার জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ছিলাম। কারণ নিজের টাকায় অ্যালবাম করার সামর্থ্য বা ইচ্ছা কোনোটাই আমার ছিল না।

ইথুন বাবুর প্রস্তাব মেনে নিয়ে ২০০০ সালের মাঝামাঝি শুরু করি 'ও প্রিয়া তুমি কোথায়' অ্যালবামের কাজ। এই গানটি রেকর্ডের পর বিটিভির 'বহুরূপী' ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে প্রচার হয়। আর দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। কিন্তু তখনও আমার অ্যালবামের কাজ শেষ হয়নি। প্রকাশের দিনক্ষণও বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল। ততদিনে দ্বিতীয় সন্তানেরও বাবা হয়েছি। বেড়ে যাচ্ছিল অনটন। অবশেষে ২০০১ সালের জানুয়ারিতে অ্যালবাম প্রকাশ পেল। কিন্তু এলো না আর্থিক সচ্ছলতা। সৌভাগ্যের বার্তা এলো আরও কিছুদিন পর। গানের মতো অ্যালবামও হলো সুপার হিট। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};