ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
176
সমকালের প্রত্যাশা
Published : Tuesday, 18 April, 2017 at 12:00 AM
সমকালের প্রত্যাশাশান্তিরঞ্জন ভৌমিক ||
কুমিল্লার দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য তাঁর ইচ্ছানুযায়ী মেথর সম্প্রদায়কে যথামর্যাদায় একদিন আপ্যায়ন করার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি মেথরদের জন্য পোলাও-মাছ-মাংস-দই-মিষ্টি এবং আহারের পর ব্রাহ্মণ বিবেচনায় বস্ত্র ও  অর্থ দিয়েছিলেন। এই ব্যবস্থাপনার পেছনে একটি ঘটনা ঘটেছিল।
দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য মেথরদের সর্দারকে ডেকে তাঁর ইচ্ছার কথা জানালেন এবং নির্ধারিত তারিখ-বার উল্লেখ করে তাদেরকে নিমন্ত্রণ জানিয়ে উপস্থিত থাকতে বলে দিলেন। মেথররা পরম খুশি হয়ে ঐদিন ¯œান সেরে ভালো পোশাক পরে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে অপেক্ষা করছিল। সকাল সকাল উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তারা দুপুর ১টা বেজে গেছে, আসছে না তারা। মহেশবাবু চঞ্চল হলেন, তিনি তাঁর ম্যানেজার চুনিবাবুকে পাঠালেন। ম্যানেজারবাবু মেথরপট্টিতে গিয়ে দেখেন, সবাই প্রস্তুত। তিনি মহেশবাবুর পক্ষে বললেন-‘কীরে, এখনও যাসনি কেন, বাবু অপেক্ষা করছেন। চল তোরা।’  মেথর সর্দার বলল- ‘বাবু, আপনি হলেন মহেশবাবুর কর্মচারী, আপনার কথায় তো যেতে পারি না। অন্যদিন বাবুর বাড়িতে চেয়ে চিন্তে খাই, পূজায়-নববর্ষে-খাওয়া-দাওয়া করি। আজ বাবু নিমন্ত্রণ করে খাওয়াচ্ছেন, তিনি এসে না বললে যে আমরা যেতে পারি না।’ ম্যানেজার বাবু এ কথা শুনে হতবাক হলেন এবং নিরাশ হয়ে ফিরে এলেন। তিনি ভাবছেন মহেশবাবুকে একথা কীভাবে বলবেন। তিনি একা ফিরে এসেছেন দেখে মহেশবাবু জানতে চাইলেন- ‘মেথররা কোথায়?’ ম্যানেজারবাবু আমতা আমতা করে ঘটনাটি তুলে ধরলেন। মহেশবাবু উপলদ্ধি করলেন- তা তো ঠিকই। আজ তো তিনি তাদের নিমন্ত্রণ করেছেন, তারা অতিথি। অতিথি হলো সাক্ষাৎ নারায়ণ। অন্যদিনের মতো তাদের তো অবহেলা করা উচিত নয়। তাই তিনি নিজে মেথর পল্লীতে গিয়ে হাতজোড় করে বললেন- ‘ওরে, তোরা কে কোথায় আছিস, অনুগ্রহ করে আমার সঙ্গে চল, আমি তোদের নিতে এসেছি। আমার ভুল হয়ে গেছে, আমাকে মাপ করে দে।’ মেথররা আনন্দে বলে উঠে- ’বাবু এসেছেন-আয় আমরা যাই।’ মহেশবাবু যথারীতি মেথরদের প্রতি অতিথি বিবেচনায় আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন। শুনেছি- গলায় গামছা রেখে জোড় হাত করে তাদের দেখভাল করেছিলেন, তাদের যেন কোনো প্রকার অমর্যাদা না হয়, তা কঠোরভাবে পালন করেছিলেন। সেদিন মেথররা ছিল তাঁর কাছে অতিথি। মানবিক বিবেচনায় এ বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও জীবনচর্চায় ব্যতিক্রম হিসেবেই ধরে নেয়া হয়। কিন্তু মহেশবাবুর জীবনচর্চায় এরূপ বহু ঘটনা রয়েছে যা অনুকরণ বা অনুসরণ করলে দেশ নয়, জাতি নয় জগতটাই সুন্দর হয়ে যেতো।
আমাদের বাড়িতে ছয়টি পরিবার ছিল, যাকে বলা হতো ছয় ঘর বা ছয় হিস্যা। এখন নেই। তখন আমাদের খুড়া অর্থাৎ কাকা (চাচা) বয়সের তুলনায় ছোট ছিলেন। আমরা কাকা সম্বোধন করতাম কিন্তু ‘তুমি’ বলতাম। তাঁরাও আমাদের নাম ধরে ডাকতো, ‘তুই’ না বলে ‘তুমি’ বলতেন। কোনো কারণে আমাদের সম্মুখে তাঁরা উপস্থিত হলে আমরা দাঁড়িয়ে যেতাম ও আমাদের বসার আসন ছেড়ে দিতাম। এমন কী কথাবার্তায় তাঁদের মতামতের প্রতি সম্মান জানাতাম। এটাই রীতি ছিল। বয়সে কম হওয়ায় তাঁদের অমর্যাদা আমরা মেনে নিতাম না। তাঁদের উপস্থিতিতে কোনো মতামত দিতে গেলে আমরা যথাসম্ভব তাঁদের সম্মতি নিতেও পেছপা হতাম না। বুঝতাম- আমাদের বক্তব্যই প্রাসঙ্গিক, তবু খুড়াদের সম্মানের বিষয়টি ছিল অগ্রগণ্য।
ষাটের দশকে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তখন জগন্নাথ হলে থাকার সময় দেখেছি বয়সের তারতম্য যা-ই থাকুক না কেন, সিনিয়রকে জ্যেষ্ঠ ভাই এর মর্যাদা দেওয়া হতো, তাঁদের উপস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো হতো, বিনয়ের সাথে কথাবার্তা হতো। এতে শৃঙ্খলা বজায় থাকতো এবং মূল্যবোধের স্বচ্ছ চর্চা করা হতো। ফলে একধরনের সৌহার্দ্য ভাব সকলের মনে ও আচরণে বিচরণ করতো। মোটকথা, যথাব্যক্তিকে যথাস্থানে যথা বিবেচনায় গ্রহণ করতে পারলে কোনো সংঘাত যেমন ঘটার সম্ভাবনা থাকে না, তেমনি কারো মর্যাদাহানি হবার কারণও থাকতে পারে না।
এত সব কথা কেন লিখছি, তার একটি কারণ নিশ্চয়ই আছে। আমরা জানি- চীন-ভারত-যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া পৃথিবীর বুকে বিরাট দেশ। তাদের বিরাট শক্তি, ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নতি, প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ইত্যাদি। এই তুলনায় আমার স্বদেশ বাংলাদেশের অবস্থান নির্ণয় করার কোনো বাসনা আমার নেই। আমি জানি- আমার দেশ স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র। আমার জাতীয় পতাকা আছে, জাতীয় সঙ্গীত আছে, নিজস্ব পরিচিতি তথা সংস্কৃতি আছে। পৃথিবীর অন্য স্বাধীন দেশের মতো মর্যাদা ও অবস্থান আছে। আমার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী, চীনের প্রেসিডেন্ট, ভারতের প্রধানমন্ত্রী সমকক্ষ হচ্ছেন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী। এ মর্যাদা আমাদের আছে এবং জগৎসভায় তা দিতে হবেই। এ কোনো ব্যত্যয় ঘটলে আমরা মানতে বাধ্য নই। হতে পারি গরিব দেশের নাগরিক, হতে পারে দুর্বল অর্থনীতি কিন্তু এখন নয় এখন আমরা বিশ্বের কাছে রোল মডেল। হতে পারে শিল্পে অনুন্নত অথবা অন্যকিছু; কিন্তু তা সত্বে¡ও মর্যাদায়-বিবেচনায়-আচরণে অন্যদেশের কাছ থেকে অব্যশই সম-অধিকার পাওয়ার যোগ্য সর্বক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে কোনো আপোষ নেই। তারপরও এত কথা কেন ?
কয়েকদিন আগে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চারদিনের জন্য ভারত সফর করে এলেন। এ নিয়ে দেশের জনগণ এবং কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এ সফরের ফলে কতটুকু পাওয়া গেল , কোনো কিছু পাওয়া গেল কিনা, এ সফর সার্থক না অসার্থক এ নিয়ে বহু কথা বহু আলোচনা বহু বিতর্ক হয়েছে এবং চলছে। সরকার পক্ষ বলছে যেসকল চুক্তি এবং সমঝোতা হয়েছে তা অনেকটাই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট। যেহেতু তিস্তা চুক্তি হয় নাই সুতরাং এ সফর ব্যর্থ। কিন্তু আমরা সাধারণ নাগরিক এ নিয়ে কি ভাবছি। আমাদের ভাবনার ক্ষেত্রটি পূর্বে যেখানে ছিল এখনও সেখানেই আছে। আমরা এতটুকুই বুঝি ভারত তার স্বার্থ দেখবে, বাংলাদেশ তার স্বার্থ দেখবে। এ অবস্থান থেকে কেউ এক বিন্দুও কাউকে ছাড় দেবে না, দিতে পারে না, দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। লাভ-ক্ষতি কাগজপত্রে, আলোচনায় এবং বিতর্কে। তারপরেও কথা থেকে যায়। একটা দেশের প্রাপ্তির যে ন্যায্য অধিকার তা থেকে বঞ্চিত হলে স্বাভাবিকভাবে বন্ধুত্বের ঘাটতি হয়। ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী এবং পরীক্ষিত বন্ধু। কিন্তু তাই বলে বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুত্ব ছাড়াও যদি কোন অহমিকা ভাব প্রদর্শণ করা হয় তা জনগণ কোনদিনই মানবে না। আমরা জানি একটা রাষ্ট্র মহেশবাবুর মত উদার হতে পারে না। কিন্তু অপর দেশের প্রতি মহানুভব এবং এই মহানুভবকে সুদৃঢ় করার জন্য  অবশ্যই কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। কথাটা এজন্যই বললাম বৃহৎ ভারতবর্ষের অন্যতম রাজ্য হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। এই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এতটাই নাজুক কেন এবং যার ফলে তিস্তা চুক্তি সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছাকে একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিবন্ধকতায় বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। এটা কি রাজনীতি না দুর্বলতা। আমাদের বক্তব্য ভারত তার নিজের দেশে রাজনীতির খেলায় মশগুল থাকুক আমাদের এতে কিছুই যায় আসে না। কিন্তু তাদের এ খেলায় যেন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত না হই বা অন্য কোন দেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এটা বিবেচনায় থাকা উচিত। বিশ্ব এগিয়ে চলেছে, শুভ চিন্তা এবং শুভ কাজ রাষ্ট্রযন্ত্রের দ্বারা পরিচালিত না হলে পৃথিবী বসবাসযোগ্য হবে না, হতে পারে না।





সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};