ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
সুখের নাম সোনার হরিণ
Published : Friday, 17 March, 2017 at 12:00 AM
সুখের নাম সোনার হরিণরাজিয়া সুলতানা ইলি ।।
অনার্স ৩য় বর্ষে কাশ নিতে নিতে নার্গিস আড়চোখে ঘড়ির দিকে তাকালো। কি সর্বনাশ। আঁতকে উঠলো নার্গিস। একটা প্রায় বাজতে চলেছে। কাশ শেষ করে বাড়ি যেতে যেতেতো অনেক  সময় লেগে যাবে। আজকাল রাস্তায় যে জ্যাম। রাস্তাতেই কাটে অধিকাংশ সময়। ওদিকে বাড়িতে কলের মিস্ত্রি এসে বসে থাকবে। আজ কদিন বাথরুমের কল নষ্ট। অবর্ণনীয় কষ্ট যাচ্ছে। বাথরুমে পানি টেনে নিয়ে গোসল করতে হচ্ছে। অপু দীপুর নাকি কান্না শুরু হয়েছে। ওদের এক বদঅভ্যেস। যে কোন ব্যাপারে মার কাছে প্যান প্যান। কেন? তোদের বাবা নেই? বাবাকে বলতে পারিসনা? জুতো সেলাই থেকে চ-ীপাঠ  সব কি মাকেই করতে হবে? বলতে বলতে মুখে ফেনা উঠে গেলেও কোন লাভ নেই। ফারুকও তেমনি। বাচ্চাদের প্যানপ্যানানির তো শুনতে পাচ্ছে। কিন্তু টুশব্দ করবেনা। মুখে কুলুপ এটে বসে থাকবে। ওর নিজের ও কি কষ্ট হচ্ছে না? আসলে নাম্বার ওয়ান খবিস একটা। গোসল না করে দিব্যি দিনের পর দিন কাটিয়ে দেয়। তবু একটা মিস্ত্রি ডেকে কাজটা করাবেনা। এদিকে নার্গিস যেমন গোসল ছাড়া এক দিনও থাকতে পারেনা, অপু দীপুও হয়েছে তেমনি। ঢং ঢং করে ঘন্টা বাজলো। ব্যাগটা নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে নার্গিস ছুট লাগালো গেইটের দিকে। আজ আর কিছুতেই স্টাফ রুমে যাবেনা। একবার আড্ডায় বসলে অনেক দেরী হয়ে যাবে। না বিচ্ছু দুটো ঠিক দেখে ফেলেছে। মায়া তাসু চিৎকার দিয়ে ওকে ডাকতে ডাকতে গেইটের দিকে আসতে লাগলো। ওরা বোধহয় নার্গিসকে পাহারা দিচ্ছিল। নইলে স্টাফরুমের ভেতর থেকে ওকে দেখতে পাওয়ার কথা নয়। নার্গিস ফিরে দাঁড়িয়ে দেখলো মায়া তাসু ছুটে আসছে। হায় আল্লাহ। কি হবে এখন। দেরীর উপর দেরী। আজ এই পিরিয়ডে তার কাশ ছিলনা। হঠাৎ করে কানন ছুটি নিলো। ও নাকি খুব বেশি অসুস্থ। প্রিন্সিপাল স্যার কাননের একটা কাশ নার্গিসকে, আর একটা কাশ নীলুকে দিয়েছেন। এদিকে নার্গিস কলের মিস্ত্রিকে সময় দিয়ে রেখেছে। বারোটায় আসতে বলেছে মিস্ত্রিকে। এখন পেয়ারা (কাজের বুয়া) যদি বুদ্ধি করে কোন রকমে মিস্ত্রিকে একটু আটকে রাখে। নার্গিস মায়া তাসুর সঙ্গে স্টাফরুমের দিকে ফিরে চললো। মায়া তাসুর কথা থেকে নার্গিস বুঝতে পারলো এই মুহূর্তে স্টাফরুমে ভীষণ উপভোগ্য একটা নাটক চলছে। সে যদি না যায়, তাহলে সাংঘাতিক মিস করবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কামাল আর হিস্ট্রির শেফার মধ্যে যে একটা সম্পর্ক আছে, এটা শিক্ষকদের মধ্যে কম বেশি সবাই জানে। কামাল বিবাহিত। তার দুটি সন্তানও আছে। এসব জানা সত্ত্বেও শেফা কি করে তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারে, এটা নিয়ে স্টাফরুমে গুঞ্জন চলে। এটা কি সত্যি প্রেম, নাকি নিছকই সময় কাটানো, ভেবে পায়না কেউ। কামালের বউ শিমু মাঝে মাঝে কলেজে আসে। শিক্ষকদের সকলের সঙ্গেই তার ভালো সম্পর্ক। সে যদিও কলেজে আসবার সপক্ষে নানা অছিলা দেখায়, তবু সবাই আসল কারণটা ঠিকই বুঝতে পারে। এই মুহূর্তে শিমু এবং শেফা, দুজনেই স্টাফরুমে বসে আছে। অন্য দুএকজন শিক্ষকের সঙ্গে শিমু হেসে হেসে কথা বলছে। এই পিরিয়ডেই শেফার কাশ। তাই অস্বস্তি বোধ করা সত্বেও শেফা এতোক্ষণ চলে যেতে পারেনি। বসে বসে শিমুর দৃষ্টি বাণে বিদ্ধ হয়েছে। অবিশ্যি এটা মায়া তাসুদের ধারণা। শিমু শেফার দিকে মোটেই তাকাচ্ছেনা। স্টাফরুমে এসে মায়া তাসু নার্গিস দেখলো, শেফা নেই। সম্ভবত: কাশ নিতে গেছে। এতোসুন্দর নাটকটা এতো দ্রুত শেষ হয়ে গেল বলে ওরা আফসোস করতে লাগলো। যাই হোক, মায়া, তাসুকে অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে নার্গিস ছাড়া পেলো। দ্রুত রওনা হল বাড়ির দিকে। তবু ভিড় টিড় কাটিয়ে বাড়িতে পৌঁছুতে পৌঁছুতে প্রায় আধঘটা লেগে গেল। তবুও যাহোক, আল্লাহর রহমতে পেয়ারা ঠিকই বুদ্ধি করে মিস্ত্রিটাকে বসিয়ে রেখেছে। সকালের নাশতার দুটি পরোটা ছিল। বাসি মাংশ গরম করে, চা করে মিস্ত্রিকে খেতে দিয়েছে। পেয়ারার রান্না বান্নাও শেষ। এখন মনের সুখে দাঁত বের করে হেসে হেসে গল্প করছে মিস্ত্রির সঙ্গে। পেয়ারা বেশ চালাক চতুর। সব কথা সবসময় বলে দিতে হয়না। নিজেই বেশ বুদ্ধি খাটিয়ে অনেক কাজ করে। পেয়ারার কাজকর্ম, রান্না বান্নাও বেশ ভালো। কাজও করে হাসিমুখে। দোষের মধ্যে একটাই। একটু হাতটানের অভ্যাস আছে। তবে বড় সড় কিছু নেয়না। ছোট খাট চুরি করে। নার্গিস যথাসাধ্য সাবধান থাকতে চেষ্টা করে। আজকাল বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির কল্যাণে কাজের মানুষ পাওয়া যায়না। আর যদিই বা পাওয়া যায়, পেয়ারার মত ভালো হবে, তার গ্যারান্টি কি? ফারুক বেরিয়ে যায়, সকাল সাড়ে নটার মধ্যে। বাচ্চাদের স্কুল। তাকেও ছুটতে হয় কলেজে। কখনো নটা সাড়ে নটা। মাঝে মাঝে বিকেলের দিকেও কাশ থাকে। সকালের এই তুমুল ঝড়। একাই সামলায় পেয়ারা। তাছাড়া ঘর দোর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা, গোছানো, বাচ্চাদের টিফিন ইত্যাদি সব ব্যাপারেই নার্গিস নিশ্চিন্ত থাকে। ছোটখাটো দুএকটা জিনিষ গেলেও নার্গিস তেমন গা করেনা। এই যে সে কাশ শেষে স্টাফ রুমে বসে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়, পেয়ারা না থাকলে পারতো এমন নিশ্চিন্ত মনে আড্ডা দিতে? মাঝে মাঝে বন্ধুরা মিলে ধারে কাছে বেড়ানোর প্রোগ্রামও করে। আসলে মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত। বাচ্চারা ছোট। দূরে কোথাও যাবার মত তেমন সঙ্গতিও নেই। তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো। কল ঠিক করে দিয়ে মিস্ত্রি চলে গেল। কড়কড়ে কতগুলো টাকা দিতে হল। বড় কষ্টের টাকা। প্রতি মাসেই কিছু না কিছু নষ্ট হবেই। এই নষ্ট হওয়ার খাতে একটা এমাউন্ট রাখতেই হয়। আর এসব খরচ নার্গিসকেই করতে হয়। ফারুক একদম নির্বিকার যেন সংসারটা নার্গিসের একার। পিঠে বেঁধেছি কুলো। কানে দিয়েছি তুলো। এই হল ফারুকের স্ট্র্যাটেজি। সত্যি এতো রাগ হয়। মাঝে মাঝে মনে ইচ্ছে জাগে বেশ কিছুদিনের জন্য হাওয়া হয়ে যাবো। দেখবে ফারুক কি করে। কিন্তু বাচ্চা দুটো তো তার শিকল। তার বন্ধন। ওদের জন্যই তো নার্গিসের হাত পা বাঁধা। সে তো মা। কোন মা কি কখনো পারে তার নাড়িছেড়া ধনকে অবহেলা করতে। ফারুক সবসময় সংসার খরচের জন্য গোনা কিছু টাকা দিয়ে কর্তব্য সারে। সে কোনদিনও তা করতে পারবেনা। এটা তার সংসার। এই সংসারে সব থাকবে একদম টিপটপ। পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন। ঘর অগোছালো থাকবে, নোংরা থাকবে এটা সে একদম সহ্য করতে পারেনা। কোনদিন যদি পেয়ারা অসুস্থ থাকে, ঘর দুয়ার পরিস্কার করতে না পারে, নার্গিস তক্ষুণি কষে কোমরে কাপড় বেঁধে কাজে লেগে যায়। তার সংসারে কোন জিনিষের প্রয়োজন হলে সে টাকার চিন্তা করেনা। সঙ্গে সঙ্গে কিনে ফেলে। বাচ্চাদের পোশাক আশাকের বেলায়ও তেমনি। ভালো জিনিষটি ওদের জন্য সে নিয়ে আসবেই। এসব নিয়ে মাঝে মাঝে ফারুকের সঙ্গে খটাখটি লেগে যায়। ও যেমন মা, ফারুকও তো তেমনি বাবা। ওর কি কখনো ইচ্ছে করেনা, বাচ্চাদের সুন্দর সাজে সাজাতে। নিজে তো ঠিকই ফিটফাট ফুলবাবুটি। হরদম সিগারেট খাচ্ছে। এসবের বেলায় টাকা আছে। ঈদে প্রচুর বোনাস পায়। কিন্তু গুণে-গুণে কিছু টাকা তুলে দেয় নার্গিসের হাতে। কেন, তুমি পারোনা ওদেরকে সঙ্গে করে দোকানে নিয়ে গিয়ে পছন্দমত পোশাক কিনে দিতে। দুই ছেলের জন্মদিনে অবিশ্যি ভালো গিফট দেয়। তবে ওইটুকুই। ওদের জন্মদিনের সব আয়োজন নার্গিসই করে। তবু নার্গিস কিছু বলেনা। এমনিতে ফারুককে মনে হয় যেন ভেজা বেড়ালটি। সাত চড়েও রা করেনা। কিন্তু কখনো যদি নার্গিস রেগে গিয়ে কিছু বলে, ব্যস অমনি শুরু হয়ে যায় ফারুকের তীক্ষè বাক্যবান। অপু দীপু কষ্ট পাবে ভেবে নার্গিস চুপ করে থাকে। ফারুক এসবের পরোয়া করেনা। গলা চড়িয়ে বলে, ‘ঐ একটা চাকরি ছাড়া আর কি আছে তোমার? শরীরে তো হাড্ডি ছাড়া কিছু নেই। তোমাকে ছুলে আমিই ব্যথা পাই। আমি বলে টিকে আছি। অন্য পুরুষ হলে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতো। চাকরির রোয়াব দেখায় আমাকে। দুটি পয়সা রুজি করে বলে ধরাকে সরা মনে করে।’ যেদিন ফারুক এই মূর্তি ধরে, সেদিন নার্গিস আর একটা কথাও বলেনা। তার ভদ্রতায় বাঁধে। রুচিতে বাঁধে। সে প্রাণপণে চেষ্টা করে, অপু দীপুর কানে যেন এসব কথা না যায়। শুধু নীরবে অশ্রু ঝরতে থাকে তার দুচোখ দিয়ে। এই সংসারটা সে আগলে রেখেছে শ্রম দিয়ে, অর্থ দিয়ে। তারপরেও এই কদর্য বদনাম। নার্গিস ভেবে পায়না, আর কি করলে ফারুককে সন্তুষ্ট করা যাবে। একটা কুকুর বেড়াল পুষলেও তো মানুষের মনে মায়া জন্মায়। আর সে তো জলজ্যান্ত একটা মানুষ। ফারুকের মনে কি এতটুকু ভালোবাসাও নেই তার প্রতি। গ্রাম থেকে মাঝে মাঝে শাশুড়ি আসেন। ফারুকের এই ব্যবহার তাঁরও চোখে পড়েছে। তিনি স্পষ্টবাদী। ফারুককে সোজাসজি বলেন, ‘ফারুক, তোর ব্যাপারটা কি বলতো। এই সংসারটা কি শুধু অপুর মার? তুই দেখি গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াস। অপুর মা ঘরে বাইরে একাই সব সামলাচ্ছে।’ ফারুকের মুখ কালো হয়ে যায়। কিন্তু মা দুদিনের জন্য এসেছেন ভেবে সে রাগটা কোনমতে দমন করে। তবু দেঁতো হাসি হেসে বলে, হ্যাঁ, তোমার বউমা তো রসোগোল্লা। ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানেনা। এখানে থাকোনো তো বেশিদিন। থাকলে জানতে পারতে ওর আসল রূপটা।’ এসব কথা শুনে মুহূর্তে নার্গিসের চোখের সামনে আলো ঝলমল পৃথিবীর সবটুকু আলো নিভে যায়। এই কুৎসিত পৃথিবীতে তার আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করেনা। কিন্তু শাশুড়ি মমতাভরে বলেন, ‘বউমা, আমি নিজের ছেলেকেও চিনি। তোমাকেও চিনি। আমি জানি, সব ওর বানানো কথা। তুম খামাখা কষ্ট পেয়োনা।’ কলেজে ইংরেজি বিভাগে তাহসিন আরা ইশিতা নামে নতুন একজন ম্যাডাম এসেছেন। বয়সে নার্গিসদের চেয়ে ছোট। কালোর মধ্যে মিষ্টি চেহারা মেয়েটির। ইশিতা অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতির মেয়ে। অল্প সময়েই সে কলেজের বড় ছোট সব শিক্ষকদের মন জয় করে নিলো। ইশিতার স্বামী শাকিল চৌধুরী একটা বিদেশি কোম্পানীতে চাকরি করে। তার পোস্টিং ঢাকায়। ইশিতা বাসা ভাড়া নিয়েছে। শাশুড়ি আছেন তার সঙ্গে। প্রতি সপ্তাহে তার বর আসে। ওরা চেষ্টা করছে ঢাকার কোন কলেজে পোস্ট খালি হলে সেখানে ট্রান্সফার নিতে। মায়া তাসু নার্গিসের সঙ্গে খুব বন্ধুত্ব হয়েছে ইশিতার। আসলে ইশিতার গুণেই হয়েছে সকলকে আপন করে নেবার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে মেয়েটির। এক ছুটির বিকেলে মায়া, তাসু, নার্গিস ইশিতার বাসায় বেড়াতে গেল। কাজের মেয়েটি ওদেরকে ড্রয়িং রুমে বসালো। ছোটর মধ্যে ঘরটিকে বেশ সুন্দর করে সাজিয়েছে ইশিতা। সর্বত্র একটা রুচির ছাপ। ওরা বসে বসে নিজেদের মধ্যে ইশিতার  প্রশংসা করছিলো। হঠাৎ একটি পুরুষ কণ্ঠের গর্জনে ওরা চকিত হয়ে কান পাতলো। মনে হচ্ছে ইশিতার বর শাকিল এর গলা। বেশ গলা চড়িয়ে সে বলছে,‘ কি আমার রূপের ধুচুনিরে। একদম মা কালীর কার্বণ কপি। ইংলিশের প্রফেসর। অহঙ্কারে মাটিতে পা পড়েনা। রং টা যদি ফর্সা হত, তাহলে কি করতো কে জানে। এই রূপেই কলেজের সবগুলি পুরুষের মাথা চিবিয়ে খাচ্ছে। এখানে থাকিনা বলে কি কোন কথা কানে আসেনা? সব জানি। সব শুনি। খবরদার বলছি, আর একদিন যদি এসব কথা কানে আসে, তাহলে চাকরি ছাড়িয়ে ঠ্যাং ভেঙ্গে ঘরে বসিয়ে রাখব। টাকার দরকার নেই আমার। ভেবেছিলাম, প্রফেসর। সম্মানের চাকরি। কারো কাছে বলতেও গর্ব হয়। কিন্তু সেই  জায়গায় এই নষ্টামি শুরু হয়েছে।’ এবারে মহিলা কণ্ঠ শোনা গেল ‘বাবু, চুপ করবি তুই? বাসায় মেহমান এসেছে। শুনতে পাসনি? কি শুরু করেছিস তুই? বউমা, তুমি যাও। বসবার ঘরে মেহমানদের কাছে যাও।’ ওরা তিনজন হতভম্ব। পরস্পরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে। নার্গিস ভাবলো, ‘হায়রে কপাল। সে তাহলে একাই নয়। তার মতো ভাগ্যহীনা তাহলে আরো কেউ আছে। যতই শিক্ষা দীক্ষা থাকুক, রূপগুণ থাকুক, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এসবের কোন মূল্যই নেই। অবলা নারী চিরকাল অবলাই থাকবে। আচ্ছা, সে না হয় বাচ্চাদের কথা ভেবে জোড়াতালি দিয়ে সংসার চালাচ্ছে। ইশিতার তো এখনো পথ খোলা আছে। এখনো বাচ্চা কাচ্চা হয়নি। ও ইচ্ছে করলে এখনো বিয়েটা ভেঙ্গে দিতে পারে। নার্গিস আরো ভাবলো, কলেজে যে মিষ্টি মেয়েটিকে চঞ্চল প্রজাপতির মত ঘুরে বেড়াতে দেখে, যে মেয়েটির মুখে কখনো বিষণœতা দেখেনি, নির্মেঘ নীল আকাশের মত সদাই যার উজ্জ্বল আনন্দিত হাসি মুখ, তার ভেতরের ইতিহাস এই। এতো দুঃখ, এতো অপমান। এতো লাঞ্চনা। মায়া তাড়া দিলো, ‘এই চল্ চল্। ইশিতা আসবার আগেই পালাই চল। ওকে আর বিব্রত করবার দরকার নেই।’ ওরা উঠে পড়লো।
মুঠো ফোন
০১৭৪১১০২১২৯




সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};