ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে তথ্য
Published : Tuesday, 14 February, 2017 at 1:14 PM, Update: 14.02.2017 1:51:25 PM
কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে তথ্য
গোমতী-মেঘনা-তিতাস-ডাকাতিয়া বিধৌত কুমিল্লা একটি প্রাচীন জনপদ। এ জেলায় লালমাই, ময়নামতি, শালবন বিহার, শাহ সুজা মসজিদ, কোটিলা মুড়া, চণ্ডীমুড়া, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওয়ার সিমেট্রি, ধর্মসাগর, রাণীর দীঘিসহ নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে যা আকর্ষণ করে ইতিহাসবিদ ও পর্যটকদের। সংগীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মন, রাজনীতিবিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, কুমিল্লা মডেলের পথিকৃত ড. আখতার হামিদ খান প্রমুখের স্মৃতি বিজড়িত কুমিল্লা দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।




* এক নজরে কুমিল্লা জেলা



শিক্ষা-শিল্প-সাহিত্য- সংস্কৃতির পাদপীঠ কুমিল্লা প্রাচীন ঐতিহ্য সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে এ উপমহাদেশে সুপরিচিত। কুমিল্লার খাদি শিল্প, তাঁত শিল্প, কুটির শিল্প, মৃৎ ও কারু শিল্প, রসমালাই, মিষ্টি, ময়নামতির শীতল পাটি ইত্যাদি স্ব-স্ব ঐতিহ্যে স্বকীয়তা আজও বজায় রেখেছে। কালের বিবর্তনের ধারায় এসেছে অনেক কিছু, অনেক কিছু গেছে হারিয়ে, হারায়নি এখানকার মানুষের আন্তরিকতাপূর্ণ আতিথেয়তা ও সামাজিক সম্প্রীতি।

* অবস্থানঃ ২৩০-১" হতে ২৪০-১১" উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০০-৩৪" হতে ৯১০-২২" পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
* সীমানাঃ- উত্তরে ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া জেলা, দক্ষিণে ফেনী ও নোয়াখালী জেলা, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা, পশ্চিমে চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা।
* আয়তনঃ ৩০৮৭.৩৩ বর্গ কিলোমিটার।
* আন্তর্জাতিক সীমান্ত দৈর্ঘ্যঃ ১০৬ কিলোমিটার।
* প্রশাসনিক কাঠামোঃ
* উপজেলা : ১৬ টি (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, বরম্নড়া, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, চান্দিনা, তিতাস, দাউকিান্দি, হোমনা, মেঘনা, মুরাদনগর, দেবিদ্বার, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া)
* থানা : ১৬ টি
* পৌরসভা : ১০ টি
* ইউনিয়ন : ১৭৮ টি
* গ্রাম : ৩,৬৮৭ টি
* জোত : ৫,৩৪,৩০৭ টি
* মৌজা : ২,৬০৩ টি
* ইউনিয়ন ভূমি অফিস : ১৭২ টি
* হাট-বাজার : ৫৫৫ টি
* জনসংখ্যা (২০০১ সালের আদমশুমারী অনুয়ায়ী ) :
* মোট জনসংখ্যা : ৪৫,৯১,৩৪০
* পুরুষ : ২৩,১০,৯৪০
* মহিলা : ২২,৮০,৪০০
* জনসংখ্যার ঘনত্ব ( প্রতি বর্গ কি:মিঃ ) : ১৪৮৭ জন (প্রায়)
* জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার : ১.৮% (প্রায়)
* শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যঃ
* বিশ্ববিদ্যালয় : ০১ টি
* মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ৫১৮ টি
* উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ৯০ টি
* মাদ্রাসা : ৩৫৯ টি
* সরকারী মেডিক্যাল কলেজ : ০১ টি
* ক্যাডেট কলেজ : ০১টি
* মেডিক্যাল কলেজ (বেসরকারী) : ০২ টি
· প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ
* সরকারী প্রাথমিক : ১৩৩৩ টি
* রেজিস্টার্ড : ৪৪৯ টি
* আনরেজিস্টার্ড : ১০ টি
* কমিউনিটি : ২০২ টি
* কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় : ২২৬ টি
* অন্যান্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ
০ কেজি : ৩৩৭ টি
০ উচ্চ মাধ্যমিক সংযুক্ত : ১৬ টি
০ পি টি আই সংযুক্ত : ০১ টি
০ এন.জি.ও পরিচালিত : ৫৪৩ টি
০ সংযুক্ত ইবতেদায়ী : ১৭১ টি
০ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী : ৭১ টি
০ আনন্দ স্কুল : ৪৭৬ (চান্দিনা + নাঙ্গলকোট-৩২৯)
* শিক্ষার হারঃ ৬০.৩% (২০০১ সালের শিক্ষা জরীপ অনুযায়ী)
* স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যঃ
* হাসপাতাল
ক) ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল : ০১ টি
খ) ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালঃ ০১ টি
গ) পুলিশ হাসপাতাল : ০১ টি
ঘ) জেল হাসপাতাল : ০১ টি
ঙ) সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল : ০১ টি
* উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কমপ্লেক্সঃ ১১ টি
* পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্র : ০১ টি
* টি,বি, ক্লিনিক : ০১ টি
* স্কুল হেলথ ক্লিনিক : ০১ টি
* উপ -স্বাস্থ্য কেন্দ্র : ৪
* ডায়াবেটিক সেন্টার : ০১ টি
* ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র : ১২৩টি
* জম্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হারঃ ৬৭.১৫%
* যাতায়াত ব্যবস্থাঃ
* মহাসড়কঃ-১৩২.০০ কি:মি:
* সড়ক ও জনপথ বিভাগঃ-
* পাকা : ৬৪১.০০ কি:মি:
* আধাপাকা : ১৩৬.০০ কি:মি:
* কাঁচা : ৩১০.০০ কি:মি:
* স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগঃ
* পাকা : ৭৬৫.০০ কি:মি:
* কাঁচা : ২৪৪৮.০০ কি:মি:
* জেলা পরিষদ সড়কঃ
* পাকা : ২০২৩.০৮ কি:মি:
* কাঁচা : ৪৫২.৩১ কি:মি:
* কুমিল্লা পৌরসভা সড়কঃ
* পাকা : ১১০.০০ কি:মি:
* কাঁচা : ৫.০০ কি:মি:
* লাকসাম পৌরসভা সড়কঃ
* পাকা : ৩২.০০ কি:মি:
* কাঁচা : ৯২.০০ কি:মি:
* রেলপথঃ ২১২.০০ কি:মি:
* ফেরীঘাটঃ ৩৪ টি
* নদীবন্দরঃ ০১ টি
* যাত্রী ছাউনিঃ- ১৪ টি
* প্রধান নদী : মেঘনা, গোমতী, তিতাস, ডাকাতিয়া, কাঁকড়ী।
* ভূমি সংক্রান্ত তথ্যঃ
* মোট ভূমি : ৭,৬০,১৭৫ একর
* চাষাবাদযোগ্য ভূমি : ৫,৯৩,৩৮০ একর
* চাষের অযোগ্য : ১,৫৩,৯৩৩ একর
* এক ফসলী : ১,৩১,০৬২ একর
* দোফসলী : ৩,৫৫,০৩৭ একর
* তিন ফসলী : ১,০৬,৯৯৪ একর
* সেচের আওতায় : ৩,১৯,৯৪৭ একর
* মোট বনভূমি : ২,১৮১ একর
* শিল্প সংক্রান্ত তথ্যঃ
* বৃহৎ শিল্প :
বস্ত্রকল : ০৭ টি
পাটকল : ০৪ টি
ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্টীল : ৪৯৯টি
পানীয় : ০১ টি
হিমাগার : ২৮ টি
গার্মেন্টস : ০১ টি
সিনেমা হল : ১৯ টি
* ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পঃ
মোট ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পঃ ১২৫৭০ টি
ক্ষুদ্র শিল্প : ২১৬৯ টি
কুটির শিল্প : ১০৪০১ টি
* শিল্প নগরী : ০২ (দুই) টি
বিসিক শিল্প নগরী, কুমিল্লা
বিসিক শিল্প নগরী, চৌদ্দগ্রাম
* কুমিল্লা রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকাঃ কুমিল্লা ই পি জেড এ ৬০টি শিল্প ইউনিট সহ ২০৮টি প্লট তৈরীর পরিকল্পনা আছে যেখানে ৪০,৫০০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যায়।
* প্রাকৃতিক সম্পদ :
কুমিল্লায় রয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিঃ এর মূল স্থাপনা এবং গ্যাস ফিল্ড
* বর্তমান গ্যাস কূপ : ০৮ টি
* প্রথম উৎপাদন : ১৯৮৪ সাল
* আনুমানিক গ্যাস মজুদ : প্রতিদিন ৩০/৩৫ মিলিয়ন কিউবিক ফিট উত্তোলনযোগ্য।
* ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানঃ

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, ময়নামতি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও যাদুঘর, ময়নামতি যুদ্ধ সমাধি ক্ষেত্র (ওয়ার সিমেট্রি), বোটানিক্যাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানা, কুমিল্লা পৌর উদ্যান, শাহ সুজা মসজিদ, ধর্মসাগর দীঘি, বলেশ্বর দীঘি, রূপবানমুড়া, চন্ডিমুড়া, লালমাই বৌদ্ধ বিহার, লালমাই পাহাড়, ময়নামতি পাহাড় প্রভৃতি।
* সেনানিবাস : ০১ টি (ময়নামতি, কুমিল্লা)।
* বিডিআর সেক্টর হেড কোয়ার্টারঃ ০১ টি (কোটবাড়ী, কুমিল্লা)।
* কেন্দ্রীয় কারাগার : ০১ টি
* নগর মিলনায়তন : ০১ টি
* আধুনিক মিলনায়তন : ০১ টি


* কুমিল্লা জেলার পটভূমি


বর্তমান কুমিল্লা চট্টগ্রাম বিভাগের অধীন একটি জেলা। প্রাচীনকালে এটি সমতট জনপদের অন্তর্গত ছিল এবং পরবর্তীতে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ হয়েছিল। কুমিল্লা নামকরণের অনেকগুলো প্রচলিত মতের মধ্যে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় চৈনিক পরিব্রাজক ওয়াং চোয়াঙ কর্তৃক সমতট রাজ্য পরিভ্রমণের বৃত্তান্ত থেকে। তার বর্ণনায় কিয়া-মল-ঙ্কিয়া (Kiamolonkia) নামক যে স্থানের বিবরণ রয়েছে সেটি থেকে কমলাঙ্ক বা কুমিল্লার নামকরণ হয়েছে বলে পন্ডিতেরা অভিমত দিয়েছেন। এ অঞ্চলে প্রাপ্ত প্রাচীন নিদর্শন‍াদি থেকে যতদূর জানা যায় খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতাব্দী থেকে ত্রিপুরা গুপ্ত সম্রাটদের অধিকারভুক্ত ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে সপ্তম থেকে অষ্টম শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত এ অঞ্চলে বৌদ্ধ দেববংশ রাজত্ব করে। নবম শতাব্দীতে কুমিল্লা হরিকেলের রাজাগণের শাসনাধীনে আসে। প্রত্নপ্রমাণ হতে পাওয়া যায় যে, দশম হতে একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত প্রায় দেড়শ বছর এ অঞ্চল চন্দ্র রাজবংশ দ্বারা শাসিত হয়েছে।



মধ্যবর্তী সময়ে মোঘলদের দ্বারা শাসিত হওয়ার পরে ১৭৬৫ সালে এটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর অধীনে আসে। রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে কোম্পানী ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দ প্রদেশে একজন তত্ত্বাবধায়ক (Superintendent) নিয়োগ করে। তখন কুমিল্লা ঢাকা প্রদেশের অন্তর্গত ছিল। ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে কুমিল্লাকে কালেক্টরের অধীন করা হয়। ১৭৯০ সালে ত্রিপুরা জেলা গঠনের মাধ্যমে ত্রিপুরা কালেক্টরেটের যাত্রা শুরু হয়। ১৭৯৩ সালে তৃতীয় রেগুলেশন (Regulation III) অনুযায়ী ত্রিপুরা জেলার জন্য একজন দেওয়ানি জজ নিযুক্ত করা হয় এবং সে বছরই তাকে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতা দেওয়া হয়। ১৮৩৭ সালে ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টরের পদগুলিকে পৃথক করা হয়। ১৮৫৯ সালে আবার এই দুটি পদকে একত্রিত করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরবর্তী সময়ে ১৯৬০ সালে ত্রিপুরা জেলার নামকরণ করা হয় কুমিল্লা এবং তখন থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর পদটির নামকরণ হয় জেলা প্রশাসক (Deputy Commissioner)। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লার দু'টি মহকুমা চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে পৃথক জেলা হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়।



দেশের বিভিন্ন আন্দোলনের সাথে কুমিল্লার সম্পৃক্ততার ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ।
১৭৬৪ সালে সমশের গাজীর নেতৃত্বে সংঘটিত ত্রিপুরার রাজাদের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন কুমিল্লার ইতিহাসে উজ্জ্বল ঘটনা। প্রিন্স ওয়ালেসের ভারত ভ্রমণের প্রতিবাদে ২১ শে নভেম্বর ১৯২১ সালে দেশব্যাপী আহুত ধর্মঘটে কুমিল্লাবাসী সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে। সে সময় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন এবং তিনি বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা লিখে কুমিল্লার জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। গান্ধী অভয়াশ্রম নামের প্রতিষ্ঠানটি এসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মহাত্না গান্ধী কুমিল্লা ভ্রমণ করেন। ১৯৩১ সালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় মোহিনী গ্রামের প্রায় চার হাজার চাষী রাজস্ব প্রদানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এসময় ব্রিটিশ গুর্খা সৈনিকরা বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করলে চারজন চাষী প্রাণ হারান। ১৯৩২ সালে লাকসামের হাসনাবাদে কৃষকদের বিশাল মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হলে বেশ কিছু লোক প্রাণ হারান। কুমিল্লার জনগণ কখনই কোন অন্যায় শোষনকে মেনে নেয়নি এবং সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। যেসকল বীর এসব প্রতিবাদে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন তাঁদেরকে কুমিল্লাবাসী গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কুমিল্লার জনগণ অংশগ্রহণ করেছে। কুমিল্লায় বেশ কয়েকটি স্থানে গণহত্যা সংঘটিত হয় যেমন, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট, লাকসাম, হোমনা, বেলতলী এবং রসুলপুর। বেতিয়ারা, মুদাফ্‌ফরগঞ্জ নগরিপাড়া, ক্যান্টনমেন্ট, কৃষ্ণপুর, ধনঞ্জয়, দিলাবাদ ও লাকসাম বিড়ি ফ্যাক্টরিতে গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়।

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে এখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশনসমূহ। এ জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে বহু মূল্যবান পুরাকীর্তি ও ঐতিহাসিক স্থানের সন্ধান পাওয়া গেছে। তেমনি এক ঐতিহাসিক স্থানের সন্ধান পাওয়া যায় লালমাই ময়নামতি পাহাড়ের ধ্বংসাবশেষ থেকে। এখনকার মাটি খুঁড়ে প্রাচীন সভ্যতার চিহ্ন খুজেঁ পাওয়া গেছে। এ পাহাড়ের পুরাকীর্তিগুলোর মধ্যে শালবন বিহার, কুটিলা মুড়া, চন্দ্রামুড়া, রূপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, সতের রত্নমুড়া, রাণীর বাংলোর পাহাড়, আনন্দবাজারের প্রাসাদসমূহ, চন্ডীমুড়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব স্থান হতে উদ্ধারকৃত প্রত্নসম্পদ যেমন মূর্তি, ধাতব তৈজসপত্র ও অন্যান্য নিদর্শনসমূহ বর্তমানে ময়নামতি জাদুঘরে রক্ষিত আছে। অন্যান্য ঐতিহাসিক নির্দশনের মধ্যে রয়েছে সপ্তরত্ন মন্দির (জগন্নাথমন্দির), শাহ সুজা মসজিদ, ধর্মসাগর, চন্ডীমাতার মন্দির (বরুড়াতে লালমাই পাহাড়ের উপরে অবস্থিত), চান্দলা শিবমন্দির (ব্রাহ্মণপাড়া, অষ্টাদশ শতাব্দী), সতিশালা জামে মসজিদ, শশীদলের পাঁচ পীরের মাজার, হরিমঙ্গল মাঠ, রামগর বড়মাঠ, সাইতশালা রামমোহন মন্দির, হাসনাবাদ মাঠ এবং হাতিয়াভাঙ্গা দূর্গ। কুমিল্লার প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষ্য বহনকারী এসব স্থান পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় । এছা‌ড়াও কুমিল্লায় আগত পর্যটকগণ কোটবাড়ি, ক্যান্টনমেন্ট ইত্যাদি ঘুরে আনন্দ লাভ করেন। কোটবাড়িতে অবস্থিত বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে গঠিত ময়নামতি ভ্রমণপিপাসু পর্যকটকগণের প্রধান আকর্ষণ। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ৩.১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিহত সৈনিকদের সমাধিক্ষেত্রটিও (ওয়ার সিমেট্রি) একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বার্মা অধিগ্রহণকারী জাপানী সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার সামরিক স্থাপনা ছিল। কুমিল্লার অপর একটি ঐতিহ্য পশ্চিমগাঁও নবাববাড়ি।
কুমিল্লা তথা দেশের প্রথম নারী নবাব ফয়জুন্নেসা, যিনি একাধারে কবি, শিক্ষাবিদ এবং মহৎ হ্নদয়ের অধিকারী তিনি এখানে বাস করতেন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার জীবনের বেশ কিছু সময় এখানে বসবাস করেছেন। তাঁর দুই স্ত্রী প্রমিলা দেবী এবং নারগিস উভয়েই কুমিল্লার অধিবাসী ছিলেন। দেশবিখ্যাত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ এবং কুমিল্লা জেলা স্কুল এখানকার সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।


বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (BARD) কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ একাডেমী। গোমতীর তীরে অবস্থিত কুমিল্লা শহরে বেশ কয়েকটি বিখ্যাত জলাশয় রয়েছে। যেমন: ধর্মসাগর, রানীর দীঘি, নানুয়ার দীঘি, উজির দীঘি ইত্যাদি। কুমিল্লায় বহু মনীষী জন্মগ্রহণ করেছেন যারা বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও আন্তজার্তিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। নবাব সিরাজুল ইসলাম, হরদয়াল নাগ, মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য, নবাব স্যার সামশুল হুদা, রায় বাহাদুর অমিন্দচন্দ্র রায়, সৈয়দ আবদুল জব্বার, বসন্ত কুমার মজুমদার, ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত, শচীন দেব বর্মন, এম এ আযম প্রমুখের সমাজসেবা, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অবদানের কথা কুমিল্লাবাসী কখনও ভুলবেনা। ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন, ফজলে নিজামি এবং ফুলেন্দু দাস কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। এছাড়া বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ডঃ আখতার হামিদ খান তার উদ্ভাবিত কুমিল্লা মডেল এর সফল ব্যবহারের মাধ্যমে আর্ন্তজাতিকভাবে সুনাম অর্জন করেছেন। কুমিল্লার মুরাদনগর উপেজলায় বাখরাবাদে দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস ফিল্ড রয়েছে। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝমাঝিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কুমিল্লা শহরের দক্ষিণে একটি বৃহৎ কটনমিল স্থাপন করে। সে সময়ে এখানে উৎপদিত সুতি বস্ত্র অন্যান্য জেলায় বিক্রি হত। কুমিল্লার খদ্দর যেমন সারাদেশে বিখ্যাত তেমনি দেশে-বিদেশে বিজয়পুরের মৃৎশিল্পের সুখ্যাতি রয়েছে। অন্যান্য কুটির শিল্পের মধ্যে বেতের কাজ, শীতল পাটি, হুকা, মাদুর ইত্যাদি বিখ্যাত।


কুমিল্লা তার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সম্পদ, সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এখানকার জনগণের উষ্ণ আন্তরিকতা দিয়ে সবাইকে সাদর সম্ভাষণে প্রস্তুত।



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};