ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
আমার দেখা রউফ ভাই
Published : Sunday, 5 February, 2017 at 2:08 AM
আমার দেখা রউফ ভাইমফিজুর রহমান বাবলু ||
রউফ ভাই নেই। এটা একটা শাশ্বত সত্য। রউফ ভাই পরপারে চলে গেছেন প্রায় এক বছর হতে চলেছে। রউফ ভাই’র সাথে আমার পরিচয় ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনের সময়। লেখাপড়ার ও বয়সে উনি আমার এক বছরের সিনিয়র। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকা-ে আমরা দু’জন একই নৌকার মাঝি। ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রদের আন্দোলনের এক আলোকবর্তিতা; কেননা আইয়ুবের মার্শাল ল প্রত্যাহারের জন্য নয় নেতার বিবৃতি ও আন্দোলন পরবর্তী ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন। এর ফলশ্রুতিতে ধীর লয়ে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে। তখনকার কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতাদের মধ্যে প্রয়াত শেখ ফজলুল হক মনি, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক কুমিল্লার সন্তান এনায়েতুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লুৎফুর হাই সাচ্চু, শওকতুল আলম সগীর, কে. এম ওয়ায়দুর রহমান, সিরাজুল আলম খান, মাজহারুল হক বাকি, আবদুর রাজ্জাক, খালেদ মোহাম্মদ আলী, আনোয়ার হোসেন (মঞ্জু) ইত্তেফাক সম্পাদক এদের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বাম ঘরানার কমরেড ফরহাদ, কাজী জাফর, রাশেদ খান মেনন, মাহফুজা খানম, মতিয়া চৌধুরী, সাইফুদ্দিন মানিক, রংপুরের সামসুদ্দোহা প্রমুখ।
অনুরূপভাবে কুমিল্লায় মাহাবুব ভাই, আবুল কাশেম, এ. কে মজিবুর রহমান মজিব ভাই, হাবিবুল্লাহ চৌধুরী, জহিরুল হক চৌধুরী, রউফ ভাই আমি স্বয়ং। পরবর্তীতে রুস্তম, পাখি, সেলিম, শাহ আলম, আনসার দুলাল, বাহার, আকবর কবির, দিপক আরো অনেকে। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই রউফ ভাই’র সাথে আমার পরিচয়। আমরা উভয়ে শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি এই মূলনীতিতে উজ্জীবিত ছাত্রলীগের কর্মী। জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি যখন দায়িত্ব পালন করছিলাম ঠিক ঐ মুহূর্তে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কে. এম ওবায়দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জনাব সিরাজুল আলম খান। উক্ত সম্মেলনে রউফ ভাই এবং আমাকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে রউফ ভাই কলেজ ছাত্র সংসদের ভি.পি নির্বাচিত হন। আমরা দীর্ঘদিন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি এবং দেশে চলমান আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করি।
অনেক স্মৃতি আজও আমাকে কাঁদায়। প্রতিদিনই আমরা ছাত্র রাজনীতির কারণে ব্যস্ত থেকেছি। সে মধুময় স্মৃতিগুলো আজো অমলিন।
বর্তমান যে ছাত্র রাজনীতি আমাদের সময়কার ছাত্র রাজনীতির সাথে তার আকাশ পাতাল তফাৎ। তখনকার দিনে ছাত্ররাই ছাত্র রাজনীতি করত। কোনও অছাত্রের বা ছাত্র নামধারী কারও ছাত্র রাজনীতি করার সুযোগ ছিল না। আমরা প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ছাত্রলীগ কার্যালয়ে পাঠচক্রের আয়োজন করতাম। এর মধ্য দিয়েই ছাত্রলীগের নতুন কর্মী খোঁজে পেতাম। তখনকার দিনে কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগ কার্যালয় ছিল আমার ফুপুর বাসা কান্দিরপাড়স্থ কাঞ্চন ভিলায়। নিত্যদিন আমরা বিভিন্ন ইস্যুর ওপর হাতে লেখা পোস্টার, সুভেনির ইত্যাদি বের করতাম। ৬০’র দশক ছিল ছাত্র আন্দোলনের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তখনকার দিনে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র শক্তি, ইসলামী ছাত্র সংঘ ছাত্ররাজনীতিতে ক্রিয়াশীল ছিল। প্রতিদিন ছাত্র ইউনিয়নের সাথে সংঘর্ষ বাধতো। ছাত্র ইউনিয়নের অফিস ছিল কান্দিরপাড়স্থ সাবেক পুরাতত্ত্ব প্রেস। ছাত্রলীগ কর্মীরা বসত সিটি সুইটস এ যা বর্তমানে জেলা বি.এন.পি অফিস। প্রায় প্রতিদিনই আমাদের ছাত্র ইউনিয়নের সাথে সংঘর্ষ, বাদ বিবাদ হত। তখন দেখা যেত আমরা ছাত্রলীগ কর্মীরা সবাই সংঘর্ষে লিপ্ত টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে রউফ ভাই পরিস্থিতি সামাল দেবার জন্য চেষ্টায় রত। কিন্তু উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কে শোনে কার কথা। এই নিয়ে আমাদের ভেতর অনেকেই রউফ ভাইকে পরিহাস করত। বিশেষ করে আফজল ভাই কুমিল্লার ভাষায় বলতো, ‘আমরা মাইরপিট করমু আর তুই বক্তৃতা দিবি! এইডা অইতন!’ রউফ ভাইর পরে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমরা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দাঁড়ানোর কথা ছিল রেজা ভাই ও আমার। আফজল ভাই’র ইচ্ছা ছিল ছাত্র সংসদ এর ক্রীড়া সম্পাদক হওয়া। কেননা তদানীন্তন আমলে ক্রীড়া সম্পাদক পদটি বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কেননা তখনকার ক্রীড়া সম্পাদক এর বাজেট ছিল পঁচিশ হাজার টাকা। সে সময় পঁচিশ হাজার টাকা অনেক টাকা। এ টাকা দিয়ে হকিস্টিক কেনা যেত। এবং আমানিয়া হোটেলে মজা করে খাওয়া যেত। ছাত্রলীগের একটা গোলমালের পরিপ্রেক্ষিতে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম ভি.পি পদে আফজল ভাইকে মনোনীত করার। তখনকার দিনে ভিক্টোরিয়া কলেজে চৌদ্দগ্রামের ছাত্র ছিল বেশি। তাই আমি সুলতান আহমদ কে জি.এস পদে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম। সুলতানকে মানুষ একসময় ডাকাত সুলতান হিসেবে জানত। কারণ ১৯৫৮ সনে তাদের বাড়িতে ডাকাত পড়েছিলো। সে একহাতে দুইজন ডাকাতকে ধরে রেখেছিলো। তার জন্য কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মহকুমা প্রশাসক সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পুরস্কৃত করেছিলো। সেই সুলতান আজ আমাদের মাঝে নেই। নির্বাচন চলাকালীন সময় দেখা গেল রেজা ভাই উনার আদি নিবাস যশোরের নড়াইলে চলে গেলেন। ছাত্র ইউনিয়ন প্রচার করল আমরা রেজা ভাইকে হাইজ্যাক করে নিয়ে গেছি। যাক! নির্বাচনী যুদ্ধের শেষ মুহূর্তে অনেক চেষ্টা করে আমরা রেজা ভাইকে হাজির করে প্রমাণ করলাম আমরা হ্যাইজ্যাক করিনি। নির্বাচনে আফজল খান ভি.পি নির্বাচিত হলেন। সুলতান হেরে গেল। তখনকার দিনে কলেজ ছাত্র সংসদে একটা নিয়ম ছিল বাজেট অধিবেশনে পাস করতে হবে। বাজেট অধিবেশন ডাকা হল। অধিবেশনে আমরা অনেক আনন্দচিত্তে গেলাম বাজেট পাশ করানোর জন্য। কিন্তু ছাত্র ইউনিয়নের বিরোধীতার কারণে বাজেট মিটিং এ প্রচ- মারপিটের মধ্যে দিয়েও আমরা বাজেট পাশ করলাম। তখন জি.এস পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের আইয়ুব। সে পরবর্তী জীবনে বাংলাদেশ সরকারের এক উচ্চপদস্থ আমলা ছিলেন। সেউ আজ প্রয়াত। এভাবে ধীরে ধীরে রউফ ভাই’র সাথে সখ্যতা বেড়ে উঠল। ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলনে রউফ ভাইসহ আমরা অনেকে অংশগ্রহণ করি। প্রতিদিন রাত্রেই বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত পোস্টার লেখা হত। দেয়ালে সাঁটা হত। এভাবে আন্দোলন নতুন রূপ পেতে থাকে। ৬ দফা আন্দোলন ছিল বাঙ্গালী জাতির মুক্তি সনদ। যার ফলে পাকিস্তানী শাসক শেখ মুজিবকে বারবার গ্রেফতার করে কারান্তরীন করে রাখে। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজের বিরুদ্ধে দুর্জয় প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এইসব আন্দোলনের কর্মসূচিতে রউফ ভাই আমাদের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিল। ইতোমধ্যে আরেকটা বিষয় উল্লেখ করতে চাই সারা পাকিস্তানব্যাপি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিরোধী দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কায়েদ এ আজম জিন্নাহ’র ভগ্নী মোহ্তারম ফাতেমা জিন্না। এ জাতীয় নির্বাচনেও পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ এ গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখে। নির্বাচন ছিল “ইধংরপ উবসড়পৎধপু ঝুংঃবস” এর। যেখানে সরাসরি জনগণের অংশ গ্রহণ ছিলনা। সারা পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে ৮০ হাজার বেসিক ডেমোক্রেসির সদস্য ছিল। তাদের ভোটেই আইয়ুব প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। ফাতেমা জিন্নাহ হেরে যায়। এসব নির্বাচনগুলো আমাদের মনের মনিকোঠায় আজও উজ্জল। রউফ ভাইসহ আমরা প্রত্যেকে জীবন বাজী রেখে এ নির্বাচনে কাজ করেছি। এর অনেক স্মৃতি আজও দগদগ করে জ্বলে ওঠে। রউফ ভাই ব্যক্তিগত জীবনে এক অমায়িক ভদ্রলোক ছিলেন। তার চলন বলন কথাবার্তা এসবে মার্জিত রুচির আমরা সন্ধান পাই। শহরের পূর্ব অঞ্চলে ওনার বাসস্থান। ঐখান থেকে এ জাতীয় ছেলে খোঁজে পাওয়া অনেক কষ্টকর। এটা একটা ব্যতিক্রম বিষয়। আমাদের কলেজ জীবন শেষ হল। আমি রউফ ভাই এক বছর আগে ও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। ইতোমধ্যে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। আমি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজ কল্যাণ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হলাম। রংপুরের আবদুর রউফ সভাপতি, খালেদ মোহাম্মদ আলী সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান জাসদ নেতা আবদুর রব দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন। তখন ৬ দফা আন্দোলন তুঙ্গে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কারাগারে আন্তরীন অবস্থায়। আগরতলা ষড়যন্ত্র নামক এক মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। ঐ সময়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন ফেরদৌস আহমদ কোরেশী, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক। এই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনেও প্রত্যেক হল থেকে ছাত্র সংখ্যার ভিত্তিতে নি¤েœ ২জন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে আসত। আমি এবং মোস্তাক এলাহী ফজলুল হক হল থেকে ডাকসু সদস্য নির্বাচিত হই। ঐবার ভি.পি হবার কোঠা ছিল ইকবাল হলে। সৌভাগ্য বশত: ইকবাল হলের কোঠায় ২জন প্রতিনিধিই ছিল ছাত্রলীগের। তারা হলেন যথাক্রমে তোফায়েল আহমেদ ও মাহবুবুল হুদা ভূইয়া। তখন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তোফায়েল আহমেদ কে ভি.পি হওয়ার জন্য মনোনীত করে। তোফায়েল আহমেদ যথারীতি ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়। আমি তোফায়েল আহম্মেদের প্রস্তাবক ছিলাম। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের এক নতুন অধ্যায় সুচিত হয়। যা পরবর্তীতে ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান হিসেবে পরিগণিত হয়। যার ফলে আইয়ুব খান শেখ মুজিবকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য হয়। এখানে দুঃজনক বিষয় হল মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরকে বিনা অজুহাতে গুলি করে হত্যা করা হয়। ৬৯ এর ১লা জানুয়ারি এন.এস.এফ এর সরকার বিরোধী গ্রুপ বটতলায় এক সভা আহবান করে। এ সভা থেকে হঠাৎ পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোঁড়া শুরু হয়। এতে পুলিশ বিক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় টিয়ার গ্যাস ছোঁড়া শুরু করে। এতে সারা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়ার আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এ যুদ্ধ থামার পর আমরা সম্মিলিতভাবে বেরিয়ে পড়ি। বিভিন্ন হলে মিছিল করে গিয়ে ছাত্রদেরকে পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজপথে সংগ্রামের জন্য আহবান জানাই। পরদিন বটতলায় বিপুল সংখ্যক ছাত্র সমাবেশ ঘটে। এবং প্রতিদিন চলতে থাকে। ২০ শে জানুয়ারী’৬৯ সে এক বিশাল মিছিল যার পরিধি নীলক্ষেত থেকে শুরু করে ঢাকা আরামসি লেন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মিছিলের মধ্যভাগে মেডিকেল কলেজের সামনে গুলি চলে। এতে লুটিয়ে পড়েন ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আসাদ। তাৎক্ষণিক শহীদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে তাৎকালীন ডাকসু ভি.পি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে মিছিল বের হয়। এ ভাবেই ৬৯ এর ২৪ শে জানুয়ারি নবকুমার ইনস্টিটিউটের ছাত্র শহীদ মতিউর পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। আন্দোলনের ফলে আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইস্তফা দিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ইয়াহিয়া খানকে দেশের শাসনভার বুঝিয়ে দেন। সারা দেশে মার্শাল ল জারী হয়। এর পরে ইয়াহিয়া খান দেশে এল.এফও র অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এই সব কারণে সব ছাত্রনেতাদেরকে বঙ্গবন্ধু স্ব স্ব এলাকায় প্রেরণ করেন। সারাদেশে তখন আওয়ামীলীগের ডাকে এক অভূতপূর্ব গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী সংকট প্রবল ছিল। এমতাবস্থার প্রেক্ষিতে কুমিল্লায় আওয়ামীলীগের অবিসংবাদিত নেতা কাজী জহিরুল কাইয়ুম রউফ ভাইকে প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচনে প্রার্থী করার লক্ষ্যে চিওড়া কলেজের অধ্যাপনার দায়িত্বে নিয়োগ দেন। তখন আওয়ামীলীগের সভায় অধ্যাপক কিংবা অধ্যক্ষ পদধারী লোকের সংখ্যা অপ্রতুল ছিল। সেই থেকেই রউফ ভাই অধ্যাপক। পরবর্তী জীবনে কুমিল্লা নৈশ কলেজের সাথে সম্পৃক্ত হবার মাধ্যমে অজিতগুহ কলেজে অধ্যক্ষ হিসাবে অধ্যক্ষ ওয়াজউদ্দিন স্যারের স্থলাভিষিক্ত হন। এখান থেকে উনার পেশাগত জীবনের বিকাশ। ৭২ এ কুমিল্লা জেলার আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। পরে রাজনীতির গতিধারায় বার বার মত ও পথের পরিবর্তন করেছেন। যার ফলে তিনি কখনও বাকশাল কখনও অন্য দল এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। যাদের মাধ্যমে উনার রাজনৈতিক মত ও পথের বিকাশ ঘটেছিল সব সময় উনি এর বিপরীতে কাজ করেছেন। আমার মতে উনার জীবদ্দশায় সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ১৯৭৯ সনের পৌরসভার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা। সে নির্বাচনে উনি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। যে নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী ৬২ ভোটে পরাজিত হন। এরপর অনেক ইতিহাস। উদয়পুর থেকে ভেসে আসা গোমতী নদীতে অনেক স্রোত বয়ে গেছে। রাজনীতিতেও অনেক উত্থান পতন হয়েছে। কুমিল্লার বর্তমান সাংসদ আ. ক. ম বাহাউদ্দিন বাহারের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় রউফ ভাই কখনও ছিলেন না। এটি ইতিহাসের নির্মম সত্য। পরবর্তীতে ২০০৯ এর নির্বাচনে বাহার তার সমস্ত উদারতা দিয়ে রউফ ভাইকে সমর্থন করে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করে আনার মধ্য দিয়ে এক বিরল সম্মান প্রদান করেন। যা একজন রাজনৈতিক কর্মীর জীবনে মাইল ফলক। এ কারণে আমরা সকল রাজনৈতিক কর্মী বাহারের নিকট কৃতজ্ঞ।
স্মারক গ্রন্থটি প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করে ¯েœহভাজন হাসান ঈমাম ফটিক ইতিহাসের দায় মিটিয়েছেন। আমি রাজনীতির লোক মাঠের মানুষ, লেখক নই। তথাপিও ফটিকের বারবার তাগাদার কারণে রউফ ভাইকে নিয়ে আমার এই ক্ষুদ্র স্মৃতিচারণ। বর্তমান রাজনীতি অতীতের রাজনীতির মাঝে অনেক তফাত। বর্তমান রাজনীতি লোভ লালসায় পূর্ণ। রউফ ভাই এই লোভ লালসার উর্ধ্বে থেকে রাজনীতি করেছেন। কবি শেখ সাদী (রাঃ) মতে, “লোভীদের পাত্র হবে না কভু পূর্ণ, ঝিনুক যদি না হয় স্বল্পে তুষ্ট, হবেনা মুক্তপূর্ণ।” (বুস্তা)





সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};