ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
আহসান হাবীব ও শওকত ওসমান এবং...
Published : Monday, 9 January, 2017 at 1:14 AM
আহসান হাবীব ও শওকত ওসমান এবং...শান্তনু কায়সার ||
[২০১৬-র ২রা জুলাই আমার ধারাবাহিক কুমিল্লায় বসবাসের তিরিশ বছর
ছাড়িয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে আমার নানা ভাবনা ও মন্তব্য]
এ বছরের শুরুতেই (২রা জানুয়ারি, ২০১৭) আমাদের দুজন লেখকের জন্মশতবর্ষ: আহসান হাবীব ও শওকত ওসমান। আহসান হাবীব প্রধানত কবি, শওকত ওসমান, কথাসাহিত্যিক। শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেছেন, আহসান হাবীব পূর্ববাংলায়। কিন্তু উভয়ের কর্মজীবন শুরু কলকাতায়। পাকিস্তানোত্তরকালে এঁরা পূর্ববাংলায় চলে আসেন এবং সেখানেই স্থিত ও প্রতিষ্ঠিত হন।
গত ৪ঠা জানুয়ারি বাংলা একাডেমি এবং শওকত ওসমান জন্মশতবর্ষ উদযাপন নাগরিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে বিকেলে একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে জন্মশতবর্ষের যে প্রবন্ধপাঠ ও আলোচনাসভা হয় তাতে আমি মূল প্রবন্ধ তথা জন্মশতবর্ষ স্মারক বক্তৃতা ‘শওকত ওসমান:জীবন ও বিশ্ব-পাঠশালার ছাত্র’ উপস্থাপন করি। বক্তৃতা করবার আগে আহসান হাবীবেরও জন্মশতবর্ষের উল্লেখ করে তাঁদের দুজনের স্মৃতির প্রতি আমার শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ লেখক যে শতবর্ষ আগে একই দিনে, ১৯১৭-র ২রা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন সেটা হয়তো সব সাহিত্যপাঠক সবসময় মনে রাখেননি। এখন হয়তো তাঁদের তা মনে পড়বে।
আমার সৌভাগ্য যে, তাঁদের দুজনের সঙ্গেই আমার নিকট ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই ‘দৈনিক পাকিস্তান’ থেকে ‘দৈনিক বাংলা’ পর্যন্ত আহসান হাবীবের সাহিত্য-সম্পাদকের ছোট ঘরে দীর্ঘদিন প্রচুর আড্ডা দিয়েছি। আর শওকত ওসমান ছিলেন ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে আমাদের অধ্যাপক। ফলে কৈশোর-তারুণ্যের একটি একটি সময়ে তাঁদের উভয়ের সঙ্গে যে সম্পর্কের শুরু তা তাঁদের মৃত্যু পর্যন্ত অক্ষুণœ ছিল। জন্মদিন এক হলেও আহসান হাবীবের মৃত্যু হয় ১৯৮৫ ও শওকত ওসমানের ১৯৯৮ সালে।
কিন্তু আজ উভয়ের জন্মশতবর্ষে তাঁদের সান্নিধ্য আমি গভীরভাবে অনুভব করি। আহসান হাবীবের মৃত্যুর পর বত্রিশ বছর এবং শওকত ওসমানের মৃত্যুর পর আঠারো বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। আহসান হাবীব ও তাঁর সতীর্থরা চল্লিশের দশকে কলকাতায় কবিতার যে ধারা গড়ে তুলেছেন তা আজও বাংলাদেশে উত্তরসূরিদের মধ্যে নানাভবে প্রবহমান রয়েছে। আহসান হাবীবদের পরবর্তী ধারা হিসেবে আমরা পেয়েছি শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদদের মতো শক্তিমান কবিদের ধারা। একুশ শতকের দ্বিতীয় শতকে বাংলাদেশের কবিতা যে জায়গায় এসে পৌঁছেছে তাতে আহসান হাবীবের গুরুত্বের কথা আমাদের বারবারই স্মরণ করতে হবে।
১৯৪৭-এ প্রকাশিত তাঁর কবিতার বই ‘রাত্রিশেষ’ অথবা কবিতা ‘রেডরোডে রাত্রিশেষ’ কবির আশাবাদী মনোভাবকেই প্রকাশ করে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ পর্বে তাঁর ‘আশায় বসতি’ অথবা ‘মেঘ বলে চৈত্রে যাবো’ কাব্যগ্রন্থে নতুনতর বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আহসান হাবীবরা কলকাতায় যে কমরেড পাবলিশার্স গড়ে তুলেছিলেন তার মধ্য দিয়ে যেমন গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের প্রকাশ ঘটেছে তেমনি তাঁরা অগ্রসর সামাজিক দায়িত্বও পালন করেছেন।
এ প্রসঙ্গে একথাও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন। আহসান হাবীবের গদ্যেরও নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল। গল্প- উপন্যাস ছাড়াও তাঁর সাংবাদিক ও কেজো গদ্যেও মাধুর্যের সঙ্গে ছিল নানামাত্রিক যুক্তি-পরম্পরা।
বাংলাদেশে আমরা বহুবার দেখছি শওকত ওসমান লেখা নিয়ে যাচ্ছেন ‘দৈনিক বাংলা’য় আহসান হাবীবের কাছে। আমরা তখন বুঝেছি, দুই বন্ধু ও সাহিত্য-সতীর্থ দীর্ঘক্ষণ আড্ডা দেবেন এবং জীবনের নানা পর্বের স্মৃতিচারণ করবেন। আজ এই জন্মশতবর্ষে তাঁরা যখন কেউই নেই তখন তাঁদের স্মৃতির সুরভি আমাদের প্রাণ-মন ভরিয়ে দিচ্ছে।
শওকত ওসমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এবার তাঁকে নিয়ে অন্তত দুটি স্মারকগ্রন্থ, ফটো-অ্যালবাম ইত্যাদি প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ও সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সম্পাদিত ‘শওকত ওসমান জন্মশতবর্ষ স্মারকগ্রন্থ’ এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য। বহু বছর আগে তুশার দাশ আহসান হাবীবের মূল্যায়ন করে একটি যে বই লিখেছিলেন (‘বজ্রে চেরা আধাঁর’ কি?)। তারও প্রকাশক ছিল বাংলা একাডেমি। তা ছাড়া জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আহসান হাবীবের ওপর কিংবা তাঁকে নিয়ে কোনো বই প্রকাশিত হয়েছে কি? আশা করতে নিশ্চয়ই পারি। সামনের অমর একুশে বইমেলায় তাঁর ওপর কোনো গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশিত হবে।
একাডেমির ‘শওকত ওসমান জন্মশতবর্ষ স্মারকগ্রন্থ’টিতে বেশ কিছু স্মৃতিচারণ, মূল্যায়নধর্মী লেখা এবং নিবেদিত কবিতা রয়েছে। আমার স্মারক-বক্তৃতাটিও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমার লেখাটিতে তাঁর শিক্ষকতার চেয়ে ছাত্রত্বের ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করে আমি বলেছি, তিন প্রজন্ম ধরে ধাববান শওকত ওসমান নিজে অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও ছাত্র হিসেবেই বরং জীবনের পাঠ নিয়েছেন। কারণ, শিক্ষকরা সাধারণত অলস কর্মবিমুখ ও অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী এবং অর্জনের আগেই বিতরণে উৎসাহী। ফলে তাঁদের ফাঁক ও ফাঁকির মধ্য থেকে প্রধানত যা পাওয়া যায় তা হচ্ছে অন্ত:সারশূন্যতা। অন্যদিকে ছাত্ররা প্রধানত থাকে সদা-সতর্ক ও মনোযোগী। তাই তারা অর্জনেই প্রধান মনোযোগ দেয়। বর্জ্যকে জমিয়ে রেখে তারা ফাঁপা ও নি:স্ব হতে চায়না। সেকারণে শওকত ওসমান ছাত্রদের ‘পড়াননি’, অনুপ্রাণিত করে তাদের হয়ে উঠতে সাহায্য করেছেন, যে কাজটি তিনি মূলত করেছেন তাঁর সাহিত্যে।
আহসান হাবীব ও শওকত ওসমানের জন্মশতবর্ষে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, আমরাও কম প্রবীণ হইনি। মাইকেলের প্রহসন ‘বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ’র ভক্তপ্রসাদ তার মায়ের মৃত্যুর কারণ হিসেবে যেমন বলেছিল, ‘মাতাঠাকুরণ বড় প্রাচীন হয়েছিলেন’ তেমনি বলা যায়, আমরাও কম ‘প্রাচীন’ হইনি। কিছুকাল আগে প্রয়াত পশ্চিমবঙ্গের মহাশ্বেতা দেবীর পিতা মনীশ ঘটকের কথা মনে পড়ছে। কন্যা মহাশ্বেতার অনুরোধেও তিনি শেষ পর্যন্ত আত্মজীবনী লেখেননি। বলেছেন, ‘আগে বুড়ো হই, তবে লিখব।’ কন্যা লিখেছেন, ‘তা,সাতাত্তর বছর বয়সেও তিনি বুড়ো হলেন না। লিখলেনও না।’ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে স্বয়ং মনীশ ঘটক লিখেছেন, ‘ছেষট্টিতে আমি যুবা, বিয়াল্লিশে কবি।’
আমিও এখন ছেষট্টি ছাড়িয়ে সদ্য সাতষট্টিতে পড়েছি। মনীশ ঘটকের মতো মনের জোর নেই যে, বলবো, এখনও যুবা আছি। বরং বুঝতে পারি, জীবনে ভাটির টান লেগেছে। কিন্তু তবু হাতের জরুরি কাজটি আগে সারতে হবে। তারপর আত্মজীবনীতে হাত দেব। তা না লিখে যাওয়াটা খুবই অন্যায় হবে। উত্তরপ্রজন্মের জন্য আমার অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিগুলি তো আমাকেই লিখে যেতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};