ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
১৫৬ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে মুরাদনগর ডি আর উচ্চ বিদ্যালয়
Published : Sunday, 8 January, 2017 at 2:15 AM
১৫৬ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে মুরাদনগর ডি আর উচ্চ বিদ্যালয়মুরাদনগর সংবাদদাতা ঃ
কথায় বলে, ‘ধ্যানের চর্চা হয় গুহায়, ধর্মের চর্চা হয় মসজিদ-মন্দিরে, নীতির চর্চা হয় পরিবারে, বিদ্যার চর্চা হয় বিদ্যালয়ে’। বিদ্যা চর্চার এমনি একটি শতবর্ষী বিদ্যাপিঠ ১৫৬ বছর ধরে যে বিদ্যালয়টি আজও আলো ছড়াচ্ছে সেটি হলো কুমিল্লা জেলা তৃতীয় তম প্রাচীন বিদ্যাপিঠ মুরাদনগর উপজেলার ডি আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ট শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় পাচঁ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে এবং শিকের সংখ্যা ১১ জন। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। বইয়ের সংখ্যা তিন হাজার। বিদ্যালয়ে রয়েছে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব। বিদ্যালয়টির জমির পরিমাণ ৩ দশমিক ৮৭ একর। বিদ্যালয়ের স্কুল মূল ক্যাম্পাসের ভিতর ও বাইরে রয়েছে ২টি নিজস্ব খেলার মাঠ, তিন তলা বিশিষ্ট একটি ভবন ও ১৯৮৮ সলে নির্মিত দুতলা একটি আধুনিক ছাত্রবাস। এই ছাত্রাবাস স্থলে পূর্বে শিক্ষকদের থাকার জন্য টিনের একটি ঘর ও ডোবা ছিল।
১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে তৎকারীন ত্রিপুরা জেলার অধীন মুরাদনগর থানার জন্ম হওয়ার পর থানা সদরের প্রানকেন্দ্রে খর¯্রােতা গোমতী নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে প্রথমে এম.ই স্কুলরূপে প্রতিষ্ঠার পর ১৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে ১ মার্চ বিদ্যালয়টি এইচ.ই. (হায়ার ইংলিশ) স্কুলে রূপান্তরিত হয়। ১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে  প্রর্যন্ত অনেক ঘাত প্রতিঘাতের পর তদানীন্তন মুন্সেফ রায় বাহাদুর কালী প্রসন্ন মুখার্জী সি.আই.ই.’র প্রচেষ্ঠায় ও উপজেলার শিক্ষানুরাগী স্বর্গীয় দুর্গা রাম লোধের আর্থিক সহযোগিতা করায় তার নামে নামকরন করে ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ণাঙ্গ হাই স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুর ও কলিকাতা শোভা বাজারের রাজা বিনয় কৃষ্ণ দেব বাহাদুরের আর্থিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠাতা দুর্গা রাম লোদের উত্তরাধিকারী কৈলাশ চন্দ্র দত্ত এবং ততকালীন সাব-রেজিষ্টার মৌলভী রকিব উদ্দিন অহমেদের অকান্ত পরিশ্রমে একটি আর্দশ স্কুল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এবং ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী স্বীকৃতি প্রদান করে। পাকিস্তান প্রতিষ্টার পর ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর বহুমুখী শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যালয়টিকে উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করে অর্থ বরাদ্ধ প্রধান করা হলে সুদৃশ্য দুটি দ্বিতল ভবন নির্মান করা হয়। ১৯৬০ সালে পাইলট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করে ১৯৬১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অসমাপ্ত স্কুল ভবনের নির্মানসহ একটি ব্যায়ামাগার নির্মানের  ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কেএমএম হোসাইন। ১৯৬৬ সালে বাণিজ্য বিভাগ প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বহুমুখী বিদ্যালয়ে উন্নতী হয়। দেশ স্বাধীনতা লাভের পূর্বে ডিআর উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা এক সাথে লেখা পড়া করত। ১৯৭৪ সালে পাশে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে ছাত্রীরা ঐ বিদ্যালয়ে লেখা পড়া শুরু করে। ১৯৮৭ সলে বিদ্যালয়টিকে সরকারি হাই স্কুল হিসেবে রুপান্তর করা হলে মুরাদনগর ডি.আর. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নামে অভিহিত হয়। বর্তমানে ”মুরাদনগর ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” নামে পরিচিত।
এ বিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী দেশে-বিদেশে যেমন সুনাম অর্জন করেছেন,  তেমনি সরকারের উচ্চ পর্যায়েও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এখনো করছেন। বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য কয়েকজন শিক্ষার্থী হলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি একেএম সাদেক, সাবেক মন্ত্রী হাবিব ইল্লাহ খাঁন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী কাজী শাহ্ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, শিল্প মন্ত্রনালয়ের সাবেক সচিব জাকির হোসেন, বাংলাদেশ বেতারের সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক কাজী নুরুল কবীর, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ূম, রাসায়ন শিল্প কর্পোরেশনের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: কায়েত আলম, ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরন কো: লি: পরিচালক (প্রকৌশল) রমিজ উদ্দিন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দিনাজপুর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশরী রেজাউল করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড: সরোজ কুমার সাহা, ঢাকার উইলস লিটন ফাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শাহ্ আলম, লক্ষীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহম্মদ, অধ্যাপক হিসেবে বিমল বিকাশ ভৌমিক, গোরাঙ্গ চন্দ্র পোদ্দার, হারুনুর রশীদ, ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিভাগের অধ্যাপক ডা: মো: এরশাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড: আক্তার হোসেন খাঁন, ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ডা: খোরশেদ আলম, ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা: খাইরুল আলম, ডা: ইফতেখার হোসেন খাঁন, ডা: শরীফুল আলম, ডা: সাদিয়া জেরিফা, ডা: রাশেদুল আলম ডা: শিরাজুল ইসলাম মানিক, বরিশাল মেট্টোর পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির, সহকারি পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ আর্মি কেপ্টেন মহিজ উদ্দিন সায়েম, মেজর জহিরুল ইসলাম, জনপ্রশাসন বিভাগের যুগ্ম সচিব আব্দুর রহিম, প্রাথমিক ও গনশিক্ষা অধিদপ্তর (আইসিটি) পরিচালক তাসলীমুল ইসলাম, সমাজ সেবা মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব মিজান-উল-আলম, ত্রান ও পূর্নবাসন মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব কামরুল আলম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহ: সচিব জহিরুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় উপ সচিব মনিরুল আলম, উপ সচিব খন্দকার নুরুল হক, মানিকগঞ্জ জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট র্মোশেদ আল মামুন ভূইয়া, হবিগঞ্জ জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওছার আলম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের ইকনোমিক কাউন্সিলর কেএম মজিবুল হক, বাংলাদেশ এগ্রো বেইজড প্রোডাক্ট প্রডিইসার এন্ড মার্চেন্টাস্ এসোসিয়েশন (বাপামা)’র চেয়ারম্যান মুহা. রুহুল আমিন, রপ্তানীযোগ্য দ্রব্যাদি প্রস্তুত ফ্যাক্টরীরর মালিক খাদেম রসুল ভূইয়া, রপ্তানীযোগ্য সুয়েটার নির্মাণ ফ্যাক্টরীর মালিক তারেক আব্দুল্লাহ, প্রগ্রেসিভ গ্রুপের অর্থ পরিচালক অনিল সাহা, দৈনিক ইত্তেফাকের মুরাদনগর উপজেলা সংবাদদাতা মোশাররফ হোসেন মনির এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সমিতিরি সভাপতি ও ছাত্র অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শাহ্ আলম বলেন, এই স্কুলে পড়ালেখা করে আমি ঢাকার উইলস লিটন ফাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হয়েছি। আমাদের স্কুলের ছাত্ররা অনেকে ভালো জায়গায় চাকরি করছে। এখনো আমরা গর্বের সঙ্গে বলি আমরা মুরাদনগর ডিআর উচ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। আশারাখি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরো এগিয়ে যাবে।
বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইফুল আলম জানায়, কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে তুমি কোন স্কুলের ছাত্র। তখন জেলার তৃতীয় তম প্রাচিন ঐতিহ্যাবাহি ডি আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র বললে নিজের মধ্যে খুবই তৃপ্তি পাই। প্রাচিনতম এ বিদ্যাপিঠে পড়তে পেরে আমি গর্বিত।
ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক  মো: শাহজাহান জানান, দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছর কুমিল্লা জিলা স্কুলে কর্মরতের পর কিছুদিন পূর্বে এ বিদ্যালয়ে আমি যোগদান করেছি। সেই অভিগ্যতাকে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাজে লাগাবো। এই বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী একদিন দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব দিবে বলে মনে করি। এই বিদ্যালয়টি মানুষ গড়ার কারখানায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ল্েয কাজ করে যাব।





সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};