ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
শ্রেষ্ঠ সন্তানরা শ্রেষ্ঠ সেবাটি পাক
Published : Sunday, 8 January, 2017 at 2:15 AM
শ্রেষ্ঠ সন্তানরা শ্রেষ্ঠ সেবাটি পাকমোস্তফা হোসেইন ||
ভোরে জাগার অভ্যাস নেই আমার। ঢাকাস্থ বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া পেশাজীবী কল্যাণ পরিষদের বার্ষিক বনভোজনে অংশ নেয়ার জন্য জাগতে হয়েছে। মোবাইলে ফেবু চেক করতে গিয়ে চট্টগ্রামের শিশুসাহিত্যিক আক্তার হোসাইনের একটি স্ট্যাটাস দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। একটি মৃত্যু সংবাদ। খুবই সাধারণ একজন মানুষের মৃত্যু। আবার দেশের অসাধারণ এক রতেœর বিদায়। এক মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণ। আব্দুল মালেক নামের এক মুক্তিযোদ্ধা গত হয়েছেন শুক্রবার।
না, মৃত্যুটাও স্বাভাবিক রোগেই। কিন্তু অস্বাভাবিক ঠেকেছে তার চিকিৎসা নিয়ে। দেশের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে খ্যাত এই মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে চট্টগ্রামের একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধায়। আক্তার হোসাইন বলেছেন, এই মুক্তিযোদ্ধার সুচিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালের ডাক্তারের মা শিশুসাহিত্যিক ড. আনোয়ারা আলম তার ছেলেকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আক্তার হোসাইন নিজেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মেঝেয় শুয়ে থাকা এই বীর যোদ্ধার সুচিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। চিকিৎসক সুচিকিৎসায় এগিয়েও এসেছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে একজন ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা কী হতে পারে তা বোধ করি বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রশ্নটা সেখানেই। যাকে আমরা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান বলে কথায় কথায় সম্বোধন করি সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানটির চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো থাক দূরের কথা ঢাকার ক্যান্সার হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি ভালো কিনিকে আনা কি সম্ভব হয়নি? রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদা শ্রেষ্ঠ সন্তানের মর্যাদাপ্রাপ্ত বলে আমরা প্রায়ই বলি, এই কি রাষ্ট্রীয় শ্রেষ্ঠ সন্তানের পাওনা?
কেউ হয়তো বলতে পারেন, মুক্তিযোদ্ধাদের এখন ভাতা দেওয়া হয় সন্তোষজনক। স্বীকার করি এই সময় মুক্তিযোদ্ধারা ৪৫ বছরের মধ্যে কিছুটা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। বিশেষ করে তাদের জন্য যে ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে সেটা এই বয়সে তাদের জন্য খুবই উপকারী। কিন্তু রাষ্ট্রের সন্মানী ব্যক্তিদের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের চিকিৎসা।
আব্দুল মালেকের প্রিয়জন হিসেবে আক্তার হোসাইন এগিয়ে এসেছেন। ড. আনোয়ারা আলমের সন্তান সেই চিকিৎসালয়ের চিকিৎসক হওয়ার কারণে বিনা পয়সায় ওষুধও পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক। কিন্তু শত শত মুক্তিযোদ্ধা বার্ধক্যজনিত নানা রোগে এখন গ্রামে গ্রামে কাতরাচ্ছেন। তাদের আক্তার হোসাইন কিংবা আনোয়ারা আলমের মতো মুক্তিযুদ্ধ প্রেমিক কোনো মানুষ নেই। তাদের অবস্থাটি কি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেঝেয় পড়ে থাকা রোগীর চেয়ে বেশি কিছু হওয়ার কথা?
এটা অপ্রত্যাশিত। কতজন মুক্তিযোদ্ধা আর এখন বেঁচে আছেন। একের পর এক তারা আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তাদের ছেড়ে যাওয়ার এই সময়টুকু কি একটু সুবিধা তারা পেতে পারেন না? এই মুহূর্তে শ্রেষ্ঠ এই মানুষগুলোর চিকিৎসার উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তাই আমি মনে করি যেখানেই মুক্তিযোদ্ধারা অসুস্থ হবেন সেখানে যদি পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকে তাহলে তাদের প্রয়োজনে বিদেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা সম্ভব না হলে অন্তত সুচিকিৎসার জন্য দেশের যে জায়গাতেই পাঠানো দরকার তাই করতে হবে। সেটা করতে হবে রাষ্ট্রকে। এই কাজের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।
আব্দুল মালেকের মৃত্যুর পর তার কফিন জাতীয় পতাকায় ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাকে সশস্ত্র সালাম জানিয়েছেন। এটাকে নেতিবাচক মনে করি না। কিন্তু এই উপজেলা প্রশাসন যদি উদ্যোগ নিয়ে আব্দুল মালেককে প্রয়োজনীয় ক্যামো দেওয়ার ব্যবস্থাসহ আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতো তাহলে আব্দুল মালেকের স্বজন ও সহযোদ্ধারা অন্তত একটু শান্তি পেতো। আব্দুল মালেকও মনে করতে পারতেন- যাক মৃত্যুকালে এই দেশ তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
এই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে বাবার চিকিৎসার ব্যয় চালাতে তার ভাতা থেকে অর্থ ব্যয়ের কথা বলেছেন। অথচ এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতিটি ক্যামোতেই ১২ হাজার টাকা ব্যয়ের কথা। দৈনন্দিন জীবন চালানোর পর অত্যন্ত গরিব এই মুক্তিযোদ্ধা কি ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় করতে পেরেছেন? তাহলে তাঁর চিকিৎসা ব্যয় মিটবে কিভাবে? এটাতো সবাই জানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কি ধরনের ওষুধ থাকে। আর ক্যামো দেওয়ার রোগীকে পল্লী এলাকার ওই চিকিৎসা কেন্দ্রে কি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব? ডাক্তারের আন্তরিকতা হয়তো তিনি পেয়েছেন কিন্তু ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চিকিৎসা যে সম্ভব হয়নি তা সহজেই অনুমান করা যায়।
প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যকর। দেশের অনেক জেলায় এমন মুক্তিযোদ্ধা সংসদে যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে। আমার দেখা সংসদগুলোর কোথাও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ছাড়া সাধারণ তথ্যভা-ারও নেই। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তথ্যভা-ার তৈরি করে নিতে পারে। সেই অনুযায়ী প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার সহযোগিতা কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা খুবই জরুরী।
এই লেখা শেষ করে আমি প্রস্তুতি নেব গাড়িতে ওঠার। উদ্দেশ্য আনন্দভ্রমণে অংশ নেয়া। এই আনন্দময় সময়, সেটুকু সম্ভব হয়েছে যে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে। সেই মহান মানুষগুলোর মৃত্যুকালে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। আমরা যারা কলমজীবী আছি তাদেরতো ক্ষমতা নেই দুই কলম লেখা ছাড়া। আমাদের এটুকু দায়িত্বও যেন আমরা সবাই পালন করি।
লেখক- সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক।
মুঠোফোন- ০১৯১৮ ১৮৮ ৯৪৮




সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};