ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
যে স্মৃতি ধূসর হয়নি
Published : Saturday, 7 January, 2017 at 2:11 AM
যে স্মৃতি ধূসর হয়নিশওকাত আহসান ফারুক ।।
১১.
কিভাবে পার্ক হলো
ধর্মসাগর আমাদের প্রাণ। ধর্মসাগরবিহীন কুমিল্লা ভাবা যায় না, অনেকটা কুমিল্লার সমার্থক নাম, রানীর কুটিরের দক্ষিণে, শহরের প্রাণ কেন্দ্রে ধর্মসাগর অবস্থিত। পূর্ব পাড়ে কুমিল্লা জিলা স্কুল, স্টেডিয়াম ও ঈদগাহ্, দক্ষিণে বাদুরতলা,
মনোরম সাগরের মতই ব্যপকতা কুমিল্লায় হৃদয়ে।
মন ভালো রাখার টনিক, একটু পাশে বসো, মনের সব দুঃখ ভুলে যাবে নিমিষেই। আমাদের বাসার কাছেই নিয়মিত যাই বিকেলে।
একদিন দেখি  কয়েকটা পাম্প বসানো হচ্ছে, সাগর সেচবে।
খননের পর কখনো সেচার প্রযোজন হয়নি, পশ্চিম পাড়ে  রিটার্নিং ওয়াল দিবে, অনেকটা জয়গা ভরাট করবে,
প্রায় দুই মাস ২৪ ঘন্টা সেচার পর পানি কমে এলো, তবুও  মাঝের পানিটা শুকায়নি।
ধর্মসাগর সেচতে কেউ দেখেনি। দক্ষিণ পাশটা শুকিয়েছে, আমরা এখন আর কান্দিরপাড় ঘুরে স্কুলে যাইনা, বাদুরতলা থেকে শুকনো সাগর হেঁটে পাড়ি দিয়ে যাই স্কুলে।
নুতন সবুজ চিকন ঘাস গজিয়েছে, ধর্মসাগরের মাঝে, কিছুটা উত্তরে একটা গাছের গুঁড়ি ছিলো সেই প্রথম থেকে। এটার রহস্য কারো জানা নেই, বর্ষায় ডুবে যায়, সুদিনে  দেড় দুই ফুট জেগে থাকে। কেউ বলে সিন্দুক আছে শিকলে বাঁধা, কেউ বলে গুপ্তধন আছে, কেউ কোনদিন সাহস করে কাছে যায়নি। এবার যখন পানি কমছে সবাই দেখবে ওটা কি?
নৌকা নিয়ে কাছে গিয়ে কেটে আনল সেই রহস্যময় বস্তটি। সবাই দেখলাম, একটা বিরাট বেলগাছের গুঁড়ি।
বেলগাছ বলেছে, কৃষি বিভাগের লোকজন পরীক্ষা করে। সব রহস্যের অবসান হলো। ধারণা করা হয় মাটি ঘননের সময় মাটি কাটার পরিমাপে জন্য, সাক্ষী হিসাবে এটা ব্যবহৃত হয়েছিলো। কোথায় গুপ্তধন, কোথায় শিকল বাঁধা সিন্দুক, সাত রাজার ধন। শত বৎসরের একটা রূপকথার অবসান হলো।
#
মাছধরা
ঘোষণা এলো, আজ ধর্মসাগর মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত, সবার জন্য। মাছ ধরতে, হাজার হাজার লোক নেমে গেলো।
কেউ এলো জাল নিয়ে, কেউ এলো পলো নিয়ে, কেউ এলো কোঁচ নিয়ে, যার যা আছে নিয়ে নেমে পড়লো, তখনো মাঝে বুক পানি, গামছা শাড়ি নিয়ে ছোটরাও নেমে পড়লো, কুমিল্লার ছেলে মেয়েরা মোটামুটি সবাই সাঁতার জানে, সবার বাড়িতেই পুকুর আছে। আমিও নামি খালি হাতে সবার সাথে তাল মিলিয়ে। কাদাপানি হাতিয়ে দুইটা ছোট নলা মাছ ধরি।
প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে, অনেকে বাজারেও বিক্রি করেছে।
এতো বড় গণমাছ ধরার দৃশ্য কেউ কখনো, কোনদিন দেখেনি।
#
চিঠিটা তার পকেটে ছিলো
'কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি ডালের বড়ি
শুকিয়ে রেখেছি....
খোকা তুই কবে আসবি!
কবে ছুটি

চিঠিটা তার পকেটে ছিলো,
ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা।'

দেখতে দেখতে রিটার্নিং ওয়ালের কাজ শেষ মাটি ভরাট চলছে, পশ্চিম পাড়ে, পুরানো  পথটা দেয়াল দিয়ে আলাদা করে দিলো। ধর্মসাগরের পশ্চিমপাড়, উত্তরে ব্যঙ সাগর, জামতলা, রানীর কুটিরের সামনের বাগান  থেকে স্টেশন ক্লাব পর্যন্ত নিয়ে হলো,  কুমিল্লা পার্ক। আর হবে না কেন, দায়িত্ব নিয়েছেন একজন কবি, আবু জাফর ওবায়েদউল্লা খান।

কবি যখন জেলা প্রশাসক  সুনিপুণ ভাবেই, পার্কটার জন্মহলো।

দারুণ ভাবে মনে কাড়ে দেয় সেই কবিতা।
কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাটায়
ভরে গেছে গাছটা --

অসম্ভব সুপুরুষ, নীতিবান জেলা প্রশাসক। নিজের প্রয়োজনে কখনো অফিসিয়াল গাড়ি ব্যবহার করেন না।আকাশী রঙের ভক্সওয়াগন নিজের, নিজেই ড্রাইভ করেন পাশে 'পুতুল' নামের সুন্দরী স্ত্রী।
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পায়জামা পাঞ্জাবি পড়ে আসেন, টাউন হলে আসেন সাধারণ শ্রোতা হয়ে, কবি হয়ে কবিতা পড়েন।
তিনি যে জেলা প্রশাসক কখনো বুঝতেও দেননি এমনি সাধারণ, সত্যি অসাধারণ।
সেই কবির প্রচেষ্টায় হলো, কুমিল্লা পৌর উদ্যান, আমাদের মিলন মেলা হলো, পার্কটা কবির পকেটে ছিলো।
ধর্মসাগর তখনো শুকনো, দেখতে দেখতে বর্ষা এলো, কিছুটা জলে পূর্ণ হলো, সেই আগের অবস্থানে আসতে দুই তিন বর্ষা সময় নিলো।
#
রাজকুমার
স্কুলের প্রধান দপ্তরি, স্কুল কম্পাউন্ডে বাসা, পরিবার নিয়ে বসবাস, লম্বা গড়ন ছিপছিপে ধুতি ফতুয়া পড়ে, একটু ঝুকে ঝুকে হাঁটে, বয়সের ছাপ আছে, নাকটা উচু দেখতে লাগে অনেকটা 'শেরেগুল'।
শেরেগুল তখন পাকিস্তানি উর্দু  সিনেমার কমেডিয়ান।
নাম 'নজর', কোন সিনেমায় নাম ছিলো শেরেগুল সেই থেকে নজর নামটা হারিয়ে হয়ে গেলো শেরেগুল।
স্কুল ছুটির পর তালা লাগানো, আবার সকালে তালা খোলা। এ ছাড়া মূল কাজটা ছিলো ঘড়ি দেখে ঘন্টা বাজানো।
রাজকুমারের ঘন্টা, বড়ই স্মৃতিময়, অনেক ঘন্টার কথা বলেছি, তবে রাজকুমারেটা সম্পূর্ণ আলাদা।
পড়া পারি নাই ব্যাক বেঞ্চে দাঁড়ানো কখন বাজবে ঘন্টা।
টিফিন পিরিয়ডে চানাচুর, আইসক্রিম খাবো, কখন বাজবে ঘন্টা। আজ ম্যাটেনি শো, 'চন্দ্রলেখা' দেখতে হবে, পালাতে হবে, কখন বাজবে ঘন্টা। ফুটবল নিয়ে কাদা মাটিতে মাখামাখি, কখন বাজবে ঘন্টা।
ছূটির ঘন্টা ছিলো, অনেক প্রতীক্ষার, ঢং ঢং ঢং ঢং।
রাজকুমারের সাথে বিশেষ ভাব ছিলো আমরা ক'জনের। অনেক সময় স্কুল পালানো সময়, বই নিয়ে বের হওয়া সম্ভব ছিলো না। ছুটির পর রাজকুমার বই নিয়ে বাসায় রাখতো। পরদিন একটু আগে, স্কুলে গিয়ে বই নিয়ে নিতাম।
একবার ক্লাশ টিচারের কাছে জমা দিয়েছিলো, উত্তম-মধ্যম জুটেছিলো। তারপরেই ভাবটা করে নেই।
এতো স্কুল পালাও কেন খোকা?
সিনেমা দেখি।
নাম রাজকুমার বাজায় ছুটির ঘন্টা।
আমাদের তখন বয়োস্কোপের নেশা।
#
আকাক্সক্ষা
একটা সাইকেল যার আছে সে হিরো, সারা শহর ঘুরে বেড়াবে।
যখন যেখানে খূশী চলে যাবে, ক্লাশ নাইনে উঠলে সাইকেলটা আমার হবে। সেই সাইকেল, এখন ছোট মামার দখলে, প্রায়ই চালাই তবে আমার নয়, পরীক্ষার পর আমার হবে। বাবার সেই ২৫৮ টাকার মেড ইন ইংলেন্ড, সিংহ মার্কা ফিলিপস্ বাই সাইকেল। একটা বিরাট প্রাপ্তি, অনেক দিনের লালিত স্বপ্ন, আমার একটা বাই সাইকেল হবে।
#
রোমিও
নুতন একটা পোষাকের চল হলো টেডি।
টাইট প্যান্ট, ছোট শার্ট নয়তো টার্কিস গেঞ্জি, জুতাও টেডি সামনে সরু। শহরে বেশ ক'জন টেডি বয় ছিলো, কেউ সাইকেল, কেউবা ভেসপা চলে। সাইকেলে মেয়েদের স্কুল বাসের পেছনে, অনেকই নিয়মিত ছিলো যেন পৌঁছে দেবার দায়িত্ব নিয়েছে।
#
প্লেবয় বাবর
বারব ভাইয়ের ছিলো হলুদ ভেসপা, সবাই চিনে সে সময়ের সেরা রোমিও। সম্ভ্রান্ত ঘরের ছোট ছেলে, বাবা আতাউর রহমান রিটায়ার্ড এসডিও, কোর্ট রোডে বাড়ি, আমার খুব পরিচিত বাড়ি, ছোট থেকেই দেখে এসেছি, মিশনারি স্কুলের পাশের বাড়িটা, আমার প্রথম স্কুল।
ক্রিকেট মাঠে ও সেরা, প্রথম বলেই হেকে দিলো ছক্কা। সেরা স্কোরটা বাবর ভাইয়ের ছিলো ছয় বলে চারটা ছয় মারার রেকর্ড ছিলো প্লেবয়ের  দখলে। দারুণ চঞ্চল, ঝটপটে মুখে হাসি, চাল চলনে সিনেমার হিরো।
মাউথ অর্গান বাজাতেন, সোলবাসাল সিনেমার দেবান্দন যেন, গলায় মেলোডি ছিলো, তবে গান হতো ঘরোয়া আড্ডায়। শহর ঘুরতো হিরোর মতো, নজর কাড়া সুন্দর, করো দিকেই নজর দিতেন না, প্লেবয় সবার নজরে ছিলো।
তেমনি কিছু জুলিয়েট আমাদের মনে, ফাগুনের বাতাস হয়ে হৃদয় ছুঁয়ে যেতো।
#
অপেক্ষা
কদিন বাদেই পরীক্ষা, নাইনে উঠবো। অনেক প্রাপ্তি আছে, দারুণ প্রতীক্ষা। একদিন আবার ফেসে গেলাম ঐচ্ছিক বিষয় আরবীতে। এইট পিরিয়ড, শেষ ক্লাশ, সবাই কে আরবী  রিডিং পড়তে দিয়ে ঝিমুচ্ছেন স্যার।
সব মৌলভী টিচার কেন যে ঘুমায়? এটাও কি তাহাদের ঐচ্ছিক বিষয়, কথাটার জবাব পাইনি কখনো।
সেদিন স্কুল পালাইনি, বসেছি ব্যাক বেঞ্চে, স্যার বললেন নেক্সট। যে পারে পড়ো না পারলে বেঞ্চে দাঁড়িয়ে যাও। আমার পালা এসে গেলো, আমি এবং বেশ ক'জন সাধারণতঃ ঝামেলা এড়িয়ে যেতাম, পড়ার অপচেষ্টা না করে দাঁড়িয়ে যেতাম। এটাই ছিলো প্রথা, সেই সিক্স থেকে। অনেকেই একটা প্রসেস বের করেছে, নুতন নোটবই বেড়িয়েছে পুঁথিঘর থেকে, বাংলাতে আরবী লেখা। বইয়ের উপর নোট রেখে পড়া যায়, জানতাম তবুও এড়িয়ে যেতাম সরাসরি বেঞ্চে,  ক্লাশে একটু দাপটও ছিলো, স্যার একেক দিন একেক দিক থেকে পড়া ধরতো, আমি স্যারের ঝিমানোর সুযোগে সিট পাল্টে নেই, যেন আমার পালা না আাসে।
সেদিন এসে গেলো আমার পালা,আমি সুযোগ বুঝে নোট বই উপরে  রেখে প্রথম ট্রায়েল দিলাম।
আমার পড়া শুনে, চকিেেতই স্যারের ঘুম ভেঙ্গে গেলো, তাকিয়ে দেখে আমি আরবী পড়ছি, হতবাক!
কখনো যা হয়নি সে পড়ছে আরবী, উঠে এলেন আমার কাছে, বইটা দেখত চাইলেন, নোটটা সরানোর সুযোগ পাইনি।
হাতে তুলে দিলাম নোট সহ বই, দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
এটা কি, এতো সাহস, নোট দেখে পড়ছো?
হাত কচলাতে কচলাতে বল্লাম,
স্যার অনেকেই এভাবে পড়ে, আমি আাজই প্রথম ট্রায়েল দিলাম।
তাইতো আমার ঘুম কেটে গেলো, তুমি পড়ছো যা কোনদিন দেখিনি, তাই পরখ করলাম ব্যাপারটা।
কি কঠিন শাস্তির বিধান আজ রয়েছে জানা নেই, অপেক্ষায় আছি।
ঠিক তখনই,
রাজকুমারের ছুটির ঘন্টা,
অলৌকিক ভাবে বেজে উঠলো।
ঢং ঢং ঢং ঢং।
#
দ্বিতীয় অধ্যায়
এখন ক্লাশ নাইনে, একটু সেয়ানা হয়েছি। এমনিতে বখে যাওয়া, বখাটে। বিষয় নিলাম সায়েন্স। বড় ধরনেরর একটা পোলারাইজেশন  হলো, কেউ অন্য সেকশনে চলে গেলো কেউবা নুতন এলো।
জীবনের লক্ষ্য কি?  নির্ধারণের প্রথম পদক্ষেপ।

নুতন বইয়ের গন্ধ দারুণ লাগছে ক্লাশ নাইন সেকশন বি।
ক্লাশ টিচার মোহম্মদ আলী, সিনিয়র ইংলিশ টিচার, বগিচাগাঁও নিবাস। ছোটখাটো মানুষ আসাধারণ ব্যক্তিত্ব, সবাই সমীহ করে, হাসিখুশি ভাব, আমাকে চেনে, বাবার পরিচয়ে, তাতে হিতে বিপরীত হলো, নজরটা আমার প্রতি একটু বেশিই দিলেন।
ঊহমষরংয ঢ়ড়বস
প্রথমেই পড়ালেন ডরষষরধস ডড়ৎফংড়িৎঃয এর উধভভড়ফরষং.
চড়বঃ ড়ভ ঃযব হধঃঁৎব, ডরষষরধস ডড়ৎফংড়িৎঃয. এর ব্যপারে অনেক ভুমিকা দিলেন, স্যারের কাছে কবির কথা শুনে প্রকৃতিকে  ভালোবাসতে শিখি। প্রকৃতির সাথে কবির নিবিড় সম্পর্ক, এবং তার প্রকাশ কবিতায় কিভাবে ফুটে উঠেছে সহজ কথায় বুঝিয়ে দিলেন।
নিজেও সুন্দর করে যখন পড়তেন,
ও ধিহফবৎফ ষড়হবষু ধং ধ পষড়ঁফ
ঞযধঃ ভষড়ধঃং ড়হ যরময ড়'বৎ াধষবং ধহফ যরষষং
ডযবহ ধষষ ধঃ ড়হপব ও ংধি ধ পৎড়ফি,
অ যড়ংঃ, ড়ভ মড়ষফবহ ফধভভড়ফরষবং,
কতগুলি নুতন শব্দের সাথে পরিচয় হলো।
নৎববুব,
ঞরিহশষব ড়হ ঃযব সরষশু ধিু.
সম্পুর্ন বিদেশি একটা ফুল চোখের সামনে তুলে আনলেন।
বুঝিয়ে বললেন, হলুদ সর্ষে ফুলে বাতাসের দোলা দেখেছো,
এটাই নৎববুব, হালকা বাতাসের পরশ।
অহফ ঃযবহ সু যবধৎঃ রিঃয ঢ়ষবধংঁৎব ভরষষং
অহফ ফধহপবং রিঃয ঃযব ফধভভড়ফরষবং
প্রকৃতিকে এভাবে কবি দেখেছেন।
প্রকৃতির কবি ডরষষরধস ডড়ৎফংড়িৎঃয'ং কবিতাটা মোহম্মদ আলী স্যার অত্যন্ত আবেগ দিয়ে পড়িয়ে ছিলেন।
অ ঢ়ড়বঃ পড়ঁষফ হড়ঃ নব নঁঃ মধু.
মধু ব্যবহার এখানে কোন অর্থে ব্যবহৃত তাও বলেছেন।
তাতে কি হবে পরীক্ষার সময় প্রথম আট লাইন মুখস্ত লিখতে বেশ বেগ পেতে হতো।
ঊীঢ়ষধরহ: ঞরিহশষব  ড়ভ ঃযব সরষশু ধিু?
সবার একই উত্তর 'পুঁথিঘরের' নোট, শুধু বানান ভুলের জন্য নাম্বারে তফাৎ।
#
আচরণ
জুনাব আলী স্যার আমাদের প্রিয় শিক্ষক। স্কুলের নিয়ম শৃঙ্খলার বিষয় লক্ষ্য রাখেন, দায়িত্ব প্রাপ্ত। প্রধান শিক্ষক নুর আহম্মাদ খানের কাছের লোক, স্কুল হোষ্টেলের সুপার।
একদিন লেজার টাইমে মাঠে হাঁটছি, সাথে কে ছিলো মনে নেই। রাজকুমার ঘন্টা বাজছে ক্লাশে যাই। দপ্তরি ডেকে পাঠালো স্যার ডাকছেন।
ভাবছি কেন ডাকলো, আজ তো হাফটাইমে কম্পউন্ডের বাইরে যাইনি? মাঝে মাঝে টিফিন পিরিয়ডে বাইরে যাই, 'মিনার্ভা সুইটমিটে' চা সিগ্রেট ফুকতে, স্কুলে একটা স্মোকার্স গ্রুপ ছিলো, দোকানের  পিছনের কিচেনে ছিলো আড্ডা।
কয়েক দিন বেশ কড়াকড়ি টিফিন পিরিয়ডে, বাইরে যাওয়া যাবেনা। মিনর্ভা সুইটমিটের খবরটা জানাজনির পর নুতন নিয়ম। সালাম দিয়ে ডুকলাম টিচার্স রুমে। সব টিচার ক্লাশে গেছেন টিচার্স রুম মোটামুটি ফাকা।
এটা স্কুল আড্ডা মারার জায়গা নয়, তোমাকে আজ দেখলাম মাঠে কাঁধে হাত দিয়ে ঘুরছো?
অত্যন্ত দৃষ্টিকটু ণড়ঁ ধৎব হড়ঃ মধু?
কিছুই বুঝলাম না, সেদিন পড়লাম।
অ ঢ়ড়বঃ পড়ঁষফ হড়ঃ নব নঁঃ মধু.
সেদিন জানলাম, ছেলেদের কাধে হাত দিয়ে চলাফেরা করা,  অশোভনীয়।
#
সিলেবাসের বাইরে
সাইকেলটা এখন আমার। স্কুলে প্যান্ট পরা নিষেধ, স্কুল ড্রেস সাদা পাজামা আার আকাশী সার্ট। তাই স্কুল থেকে বাসায় ফিরে সার্ট প্যান্ট পরে আমরা যারা সাইকেল চালাই বেরিয়ে পড়ি শহর ঘুরতে। পাশের বাসার খোকন, জামিল আরো কেউ ছিলো মনে নেই সাইকেলে ঘুরি। কখনো চলে যাই এয়ারপোর্ট, সেখানে ছিলো চওড়া পিচঢালা পথ। সাইকেল রেস সেখানে হতো। জামিলের সাইকেলে একটা নম্বার প্লেট ছিলো ০০৭.
#
০০৭
ওঅঘ ঋখঊগওঘএ'ঝ
উজ.ঘঙ.
ঝঊঅঘ ঈঙঘঘঊজণ ধং ০০৭.সল্প পোশাকে টজঝটখঅ  অঘউজঊঝঝ,
ঞঐঊ ঋওজঝঞ ঔঅগঊঝ ইঙঘউঝ ঋওখগ!
সিনেমার জগতে একটা নুতন অধ্যায়ের সুচনা হলো।
সারা বিশ্বে  হলিউডের সিনেমাটা সাড়া ফেলেদিল উজ.ঘঙ.
চিত্রালী পড়ে জানতে পারি এসব তথ্য, গোয়েন্দা ও থ্রিলার সিমেমার প্রতি সবার আকর্ষণ বাড়লো।
ওধহ ঋষবসরহম'ং সব বইয়ের বিক্রি বেড়ে গেলো।
সেক্স সিম্বল টৎংঁষধ অহফৎবংং, চষধুনড়ু পড়াবৎ ংঃড়ৎু. এমনিতে বিখ্যাত। নামটা বোধ হয় ঠিকই ছিলো।
অ বদলে ট  হয়ে
অহফৎবংং নবপড়সবং টহফৎবংং.
#
অরণি
মঞ্জু মাসীর মেয়ে অরণি, প্রায়ই বাসায় আসে। আমার ঘুম ভাঙ্গানোর পাখি। এটা কখনো অরণিকে বলিনি, আগে বাসায় এসে ভিতরের ঘরে যেত, পরে আমার ঘরে আসে।
এখন সরাসরি আমার কাছেই আসে, আমার পড়ার টেবিলটা অরণির খুব প্রিয়, এসেই চেয়ারে বসে, এটা ওটা দেখে ড্রয়ার খুলে রঙ পেনসিল, ড্রইং খাতা, নুতন বই, সবই তার দেখতে হবে।
কাল বিকালে বাসায় এলেনা যে?
মা বললো দেখে আয় ছেলেটা কোথায়, তাই এলাম।
গোমতীর পাড়ে গিয়েছিলাম, সাইকেলে, ফিরতে সন্ধ্যা হলো।
সাইকেল পেয়ে সব ভুলে গেছো, আজই মাসীমাকে বলছি।
কি বলবি?
তোমার ছেলে বখে যাচ্ছে, সাইকেলটা সিজ করো।
বলো, মা কিছুই বলবেনা, আজ বিকালেই আসবো, তোকে দেখতে।
কচু, তুমিতো মাকে দেখতে যাও।
নারে অরণি , আমি তোমাকেই দেখতে যাই।
বিকালে এসো কিন্তু।
বলে দ্রুত চলে গেলো, লজ্জায় অরুণিমা সান্যালের ঠোঁটটা কেঁপে উঠলো,
ধরা পরার ভয়ে, মুখ লুকালো।
অরণিকে বোধহয় ভালোবাসি। (চলবে)



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};