ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
নিয়তি
Published : Friday, 6 January, 2017 at 1:57 AM
নিয়তিরাজিয়া সুলতানা ইলি ||
ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে পরী সাজছিলো। চোখে কাজল দেয়া শেষ। হালকা একটু পাউডার বোলালো মুখে। গোলাপী শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে হালকা গোলাপী লিপস্টিক দিলো ঠোঁটে। সবশেষে তার প্রিয় সুগন্ধী স্প্রে করলো সারা গায়ে সেন্ট না দিলে তার সাজ কখনোই পুরো হয়না। এই হালকা সাজেই পরীকে লাগছে উর্বশীর মত। আকাশ ঢুকলো ঘরে। মুখ গম্ভীর। তীক্ষèদৃষ্টিতে তাকালো পরীর দিকে। বললো,- ‘এই সময়ে তুমি কোথায় যাচ্ছো ?’। পরী আকাশের প্রশ্নের কোন জবাব দিলোনা। শেষবারের মত আয়নাতে দেখে নিল তার সাজগোজ কোথাও কোন ত্রুটি আছে কিনা। আকাশ রেগে গেল। গলা চড়িয়ে বললো,- ‘পরী, আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করেছি।’ পরী বললো, ‘প্রশ্ন করলেই জবাব দিতে হবে, এমন কোন আইন নেই। তাছাড়া আমি কোথায় যাচ্ছি সেটা জেনে তোমার কি লাভ ?’ আকাশ বললো,- ‘লাভ ক্ষতি যাই হোক, আমি তোমার স্বামী। আমার জানবার অধিকার আছে তুমি কখন কোথায় যাচ্ছো না যাচ্ছো।’ পরীর লাস্যময় ঠোঁট দুটি বেঁকে গেলো। বললো,- ‘তুমি স্বামীত্বের অধিকার ফলাচ্ছো আমার উপর ?’ গম্ভীর কন্ঠে আকাশ বললো,- ‘হ্যা, ফলাচ্ছি। আমাকে না জানিয়ে তুমি কোথাও যেতে পারবেনা।’ পরীর শানিত কন্ঠে ব্যঙ্গ ঝলছে উঠলো,- ‘ইস্ কি আমার স্বামীরে। আমি কিচ্ছু বলবনা। কি করবে তুমি ? আমি তোমার স্ত্রী। কেনা বাদী নই। আমারও চলাফেলার স্বাধীনতা আছে।’ আকাশ দুপা এগিয়ে এলো। পরীর সামনে দাঁড়িয়ে হিসহিস করে বললো,- ‘অবশ্যই স্বাধীনতা আছে। কিন্তু তুমি যেখানেই যাও, আমাকে জানিয়ে যেতে হবে।’ পরীর উত্তপ্ত কন্ঠে বললো,- ‘না, আমি জানাতে বাধ্য নই।’ আকাশ ঠাশ করে পরীর গালে চড় বসিয়ে দিলো। পরীর দিকে স্থিরচোখে তাকিয়ে বললো,- ‘পরী, আমি কিন্তু ভালোর সঙ্গে ভালো। খারাপের সঙ্গে খুবই খারাপ। তুমি আমার ভদ্রতা দেখেছো। হয়তো ভেবে নিয়েছো আমি একটা বোকা হাবলা। এবারে দেখবে আমার খারাপ দিকটা। এটা করতে তুমিই আমায় বাধ্য করেছো। এতোদিন আমি তোমায় সময় দিয়েছি। চুপচাপ শুধু দেখিছি।’ পরী ফুসে উঠলো,- ‘হাত ছাড়ো অসভ্য কোথাকার। গায়ের জোর দেখাচ্ছো ?’ আকাশ নিরুত্তাপ কন্ঠে বললো,- ‘এতোদিন তো ভদ্র ব্যবহার করেছি। কিন্তু দেখলাম, আমার ভদ্র ব্যবহারের তুমি কোন মূল্যই দিচ্ছোনা। শেষের ব্যবহারটাই তোমার জন্যে প্রযোজ্য। যে রোগের যে দাওয়াই।’ পরীর হাত ছেড়ে দিয়ে আকাশ বেরিয়ে গেল। আকাশের সঙ্গে পরীর বিয়ে হয়েছে মাত্র ছমাস হল। আকাশের মা নেই। বাবা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। শহরের বাসায় তিনি থাকতে চান না। আকাশ মাস্টার্স শেষ করে চাকরির লাইনে গেলনা। গ্রামের কিছু জমি বিক্রি করে ব্যবসা শুরু করলো। তার ব্যবসা এখন রমরমা। ব্যবসা যখন দাঁড়িয়ে গেল, তখন আকাশের মন হল এবার বিয়ে করা যেতে পারে। পেশাদার এক ঘটকের মারফত সে দুজন বন্ধু নিয়ে পাত্রী দেখতে গেল। প্রথম দেখাতেই পরীকে তার পছন্দ হয়ে গেল। অবিশ্যি পছন্দ করবার মতই মেয়ে পরী। বিয়ে হয়ে গেল। আকাশ একটা বোকামি করেছে। পরীর সম্পর্কে কোনরকম খোঁজ খবর নেয়া প্রয়োজন মনে করেনি। পরীদের মধ্যবিত্ত পরিবার। পরী সবে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে। আকাশের বোঝা উচিত ছিল, এই বয়সের একটি রূপসী মেয়ের পিছনে অনেক ছেলে লাইন দিতে পারে। আসলে মেয়েদের ব্যাপারে তার কোন অভিজ্ঞতাই ছিলনা। সে একমনে পড়াশোনা করেছে। তারপর ব্যবসাটা দাঁড় করাতে অকান্ত পরিশ্রম করেছে। তার পরিশ্রমের ফল সে পেয়েছে। বিয়ের জন্য বাবাও ঘ্যানঘ্যান করেছিলেন বউ দেখে বাবারও পছন্দ হয়েছে। বিয়ের তিন মাসের মাথায় সে জানতে পারলো, সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবার পরই পরীও বেরিয়ে যায়। অয়ন নামে একটি ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে। প্রথম শুনে তো সে হতভম্ব কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারেনি। তার বয়সটা হয়োত পরীর তুলনায় একটু বেশি। ব্যবসাটাকে দাঁড় করাতে কোথা দিয়ে সময় কেটে গেছে। সে ধীরে ধীরে পরীর অনেক আচরণের ব্যাখ্যা খুঁজে পেলো। সে পরীকে কিছু না জানিয়ে নিজে পাহারা দিয়ে বুঝতে পারলো বন্ধুদের কথা সত্যি। অয়নকেও সে দেখলো। প্রচ- মানসিক আঘাত পেল আকাশ। কি করবে, কি করা উচিত, কিছুই বুঝতে পারছিলোনা সে। আসলে গত কয়েকমাসে সে পরীকে প্রচ- ভালোবেসে ফেলেছে যাকে ভালোবাসে, তাকে কি করে আঘাত দেবে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলো। না: একটা এসপার ওসপার করতেই হবে। ব্যবসাতেও সে আজকাল মন দিতে পারছেনা। আকাশ বেরিয়ে যাবার পর পরী গুম হয়ে বসে রইলো। একবার মনে হল, সে একেবারে চলে যাবে। পরমুহূর্তে মনে পড়লো, বাবা তাকে নরমে গরমে অনেক বুঝিয়েছেন। বলেছেন,- ‘অনেক সোয়াব করলে এমন জামাই পাওয়া যায়। যদি কোনদিন তোর সম্পর্কে কোন কথা কানে আসে, তাহলে কিন্তু তোকে জানে মেরে ফেলব।’ এখন সে বাবার বাড়িতে গেলেও জায়গা পাবেনা। বাবা তাকে নির্ঘাত এ বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে যাবেন। আসলে সে মুখে যাই বলুক, মানুষ হিসেবে আকাশ যে সত্যিকারের একজন খাঁটি মানুষ, একথা তো সে অস্বীকার করতে পারবেনা। গত ছমাসে পরীদের পরিবারের প্রতি আকাশের যে মমতা, যে ব্যবহার, কারণে অকারণে সবাইকে বিভিন্ন উপহার দেয়া, এসব তো ভুলে যাবার কথা নয়। তাছাড়া উপহার দেবার মধ্যেও তার যে নম্রতা, ভদ্রতা, বিনয় এবং সৌজন্য তাতে পরীদের বাড়ির সবাই মুগ্ধ। পরীর সঙ্গেও সে কখনো জোর করে স্বামীত্ব ফলাবার চেষ্টা করেনি। পরীই অসুস্থতার ভান করে তাকে এড়িয়ে গেছে। এই করতে করতে সে আজ কান্ত। কি করবে সে। ভালাবাসবে একজনকে। দেহ দান করবে আর একজনকে। এমন দ্বিচারিনী সে হবে কিভাবে। তার সমগ্র দেহ মন এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। অয়নের এখনো বিয়ের দায়িত্ব নেবার মত সংগতি হয়নি। এদিকে পরীর বাবার প্রচ- চাপে পরী বাধ্য হয়েছে বিয়ে করতে। অবসন্ন পরী নীরবে বিছনায় শুয়ে পড়ে। চোখের জলে বালিশ ভিজে যায়। আকাশ আজ অন্যদিনের চেয়ে আগে বাসায় ফিরলো। প্রচ- বিষণœতায় আক্রান্ত সে। কি করে সে পারলো পরীর সঙ্গে এমন ব্যবহার করতে ? সে তো মানুষ নামের অযোগ্য। পরী একটা বাচ্চা মেয়ে। যদি কোন ভুল করেও থাকে, তাহলেও তাকে আদর করে বোঝানো উচিত ছিল। আর সে কিনা পরীর গায়ে হাত তুললো। আকাশ বেডরুমে ঢুকে দেখলো পরী ওপাশ ফিরে খাটে শুয়ে আছে। আকাশ ধীরে ধীরে পরীর পাশে বসে পরীর মাথায় হাত রাখলো। এক ঝটকায় পরী উঠে বসলো। বললো,- খবরদার তুমি আমাকে ছোবেনা।’ মৃদু হেসে আকাশ বললো,- ‘আমার বউকে আমি একশবার ছোব।’ পরী বললো,- ‘তোমার মত গু-ার বউ হতে চাইনা আমি। টাকার গরমে মাটিতে পা পড়েনা। মানুষকে মানুষ মনে করেনা। সামান্য ছুতোতেই মেয়েদের গায়ে হাত তোলে।’ আকাশ ব্যথিত কন্ঠে বললো,- ‘পরী আমি সত্যি দু:খিত ক্ষমা করো আমায়। আমার মাথাটা হঠাৎ এমন গরম হয়ে গেলো। খুবই অন্যায় করেছি আমি। লক্ষিটি আমায় ক্ষমা করো।’ পরী কিছু বললোনা। নীরবে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো। আকাশ দেখলো, পরীর চোখ দুটি টকটকে লাল। মুখটা ফুলে গেছে। তার মনটা আবার অনুশোচনায় ভরে গেল। পরী আর কিছু না বলে আকাশের সঙ্গে খেতে বসলো। আকাশ লক্ষ্য করলো পরী কিছুই খাচ্ছেনা। ভাত নাড়াচাড়া করছে। আকাশ ব্যথিত কন্ঠে বললো,- ‘একি পরী। তুমি তো কিছুই খাচ্ছোনা। এখন আমায় ক্ষমা করতে পারছোনা। তাইনা ? পরী মৃদুকন্ঠে বললো,- ‘খেতে পারছিনা। আমার ভীষণ মাথা ব্যথা করছে।’ আকাশ ব্যস্ত হয়ে বললো,- ‘তাইতো। আমার আগেই খেয়াল করা উচিত ছিল। তোমার চোখ দুটি ভীষণ লাল। মুখটাও  ফুলে গেছে। কিন্তু মাথা ব্যথার ওষুধ তো খালি পেটে খাওয়া যাবে না। কষ্ট করে একটু খেয়ে নাও।’ কয়েকটা দিন বেশ ভালোভাবেই কেটে গেলো। আকাশ- ভাবলো,- যাক, ফাঁড়াটা তাহলে কেটে গেছে। নিশ্চিন্তমনে আকাশ তার ব্যবসার কাজে ফিরে গেল। গত কিছুদিনে যা ক্ষতি হয়েছে, তা আবার পুষিয়ে নিতে হবে। ব্যবসার কাজে আকাশকে চারপাঁচদিনের জন্য দেশের বাইরে যেতে হল। আকাশ চলে গেলে পরী অয়নকে ফোন করলো। অয়ন ফোন ধরে বললো,- ‘কি ব্যাপার আজকাল যে একদম ডুমুরের ফুল গেছো। ফোনটাও অফ করে রেখেছো।’ পরী বললো,- রাখি কি আর সাধে? অয়ন, আমি আর পারছিনা। যে করে হোক তুমি একটি ব্যবস্থা করো।’ অয়ন বললো,- ‘লক্ষিটি, আর একটা বছর ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করো। এর মধ্যে মাস্টার্সটা শেষ করে একটা চাকরি বাকরি ঠিক জুটিয়ে নেবো। এখন আর একটু কষ্ট করো। জানোতো টাকাপয়সা না থাকলে ভালোবাসাও জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়।’ পরী উত্তপ্তকন্ঠে বললো তাই বলে আমাকে পড়ে পড়ে চোরের মার খেতে হবে ? একজনের স্ত্রী হয়ে থাকব। অথচ স্বামীর অধিকার দেবনা। দিনের পর দিন আমি এটা আর চালিয়ে যেতে পারছিনা।’ অয়ন রাগ করে বললো,- ‘তখন বিয়েটা করেছিলে কেন ? পই পই করে বারণ করিনি তোমায় ? বলিনি, মুখ বুঝে আর দেড়টা দুইটা বছর কাটিয়ে দাও। আমার কথা তো শুনলেনা। এখন বোঝ মজা।’ পরী তেমনি রাগত কন্ঠে বললো,- ‘আমার বাবাকে তো চেননা। পড়তে আমার বাবার হাতে। তো বুঝতে কত ধানে কত চাল। থাকগে শোন, আকাশ চারপাঁচদিনের জন্য বাইরে গেছে। এ বাড়িতে আমার সময় কাটেনা। কোন কাজও করতে হয়না। শুয়ে ঘুমিয়ে টিভি দেখে দেখে একদম বোর হয়ে যাচ্ছি। দেখা করার একটা ব্যবস্থা করো।’ অয়ন বললো,- ‘আকাশ যখন নেই, তখন ও বাড়িতেই আসি’। পরী বললো,- ‘মাথা খারাপ। বাড়িতে ড্রাইভার, দারোয়ান, দুজন কাজের লোক। হাজার হাজার চোখ। হাজারো সাক্ষী।’ অয়ন হাসতে হাসতে বললো,- ‘বাব্বাহ। তুমি তো দেখছি ও বাড়িতে রানীর হালে আছো। মুখের সামনে সব হাজির। অভ্যাস তো খারাপ হয়ে যাচ্ছে। শেষে কি এই গরিবের বাড়িতে মন টিকবে ?’ পরী রেগে গিয়ে বললো,- ‘আজে বাজে কথা বলবেনাতো। আমার সর্বনাশ। আর তোমার পৌষমাস। তাই না ? যাকে ভালোবাসিনা, তার সঙ্গে রাতের পর রাত কাটানো, কি দু:সহ যন্ত্রণার, সেটা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবেনা।’ অয়ন ব্যথিত কন্ঠে বললো,- ‘পরী, আমি সব বুঝি। তুমি কি ভাবো আমার কষ্ট হচ্ছে না ? তুমি আমার। অথচ তোমাকে থাকতে হচ্ছে অন্য পুরুষের সঙ্গে। আমি একজন পুরুষ। অথচ আমার পুরুষত্ব অপমানিত হচ্ছে প্রতি পদে।’ পরী বললো,- ‘তুমি যতই বলো, আসলে তোমার কষ্ট কেউ বুঝবে না।’ অয়ন বললো,- ‘পরী, আমাকে আর লজ্জা দিয়োনা। কবি যে বলেছেন, হে দারিদ্র্য তুমি মোরে করেছো মহান।’ কথাটা যে কত মিথ্যে সেটা আমার জীবনে আমি যতটা অনুভব করেছি, দোয়া করি আর কারো যেন আমার মত এতবড় দুর্ভাগ্য না হয়। গোলাপের মত ফুটফুটে সুন্দরী একটি মেয়েকে আমি শুধু আমার দারিদ্র্যের কারণে পেয়েও পেলামনা। তুমি তোমার কষ্টের কথা বলছো। আমি তো আমার মর্মান্তিক কষ্টের কথা মুখ ফুটে বলতেও পারছিনা।’ পরীর এবার কান্না পেয়ে গেল। সে ভাঙ্গাগলায় বললো,- ‘অয়ন, প্লিজ কষ্ট পেয়োনা। আর কখনো বলবোনা।’ অয়ন বললো,- পরী আমার পরী, কেঁদোনা। আমাদের এই দু:খের নিশি কেটে একদিন ভোরের সোনালী সূর্য্য হাসবে। পরী আগামীকাল পরশু এই দুদিন গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি একটা জরুরি কাজে এরপরদিনই এসে তোমায় ফোন করব।’ সৌভাগ্যক্রমে আকাশের পাঁচদিনের কাজ দুদিনেই শেষ হয়ে গেল। তিন দিনের দিন সে ফিরে এলো। আজ সে ভীষণ আনন্দিত। পরীর জন্য সে অনেক গিফ্ট নিয়ে এসেছে। সে জানে, বিদেশি জিনিষ পরীর খুব পছন্দ। তাই সে অনেক ঘুরে ঘুরে সেরা জিনিষটিই কিনেছে। পরীর খুশিতে উজ্জ্বল অপরূপ  মুখটি কল্পনা করতে করতে সে বাড়িতে ফিরলো। ঘড়িতে দেখলো রাত প্রায় এগোরোটা। গেইটের সামনে সে ট্যাক্সি থেকে নামলো। ভাড়ার ট্যাক্সিতে সে এসেছে। নিজের ড্রাইভারকে সে পাঁচদিনের ছুটি দিয়ে গেছে। সে দেশে পৌঁছে ফোন করলে ড্রাইভার চলে আসবে। সে একটু অবাক হল। বাড়ির সামনেটা একদম অন্ধকার। সে কলিংবেল টিপলো। দুই তিনবার টিপবার পর রুস্তম (কাজের লোক) এসে গেইট খুললো। আকাশ জিজ্ঞেস করলো, ‘আক্কাস (দারোয়ান) কোথায়?’ রুস্তম বললো,- ‘আক্কাসকে বেগম সাহেব পাঁচদিনের ছুটি দিয়েছেন। রুস্তম গেইট বন্ধ করে আকাশের স্যুটকেস তুলে নিলো। নিজের ঘরের দিকে যেতে যেতে আকাশ বললো,- ‘আজ বাড়ির সব বাতি নেভানো কেন ?’ রুস্তম বললো,- ‘বেগম সাহেব বলেছেন,- সব বাতি জ্বালিয়ে রাখবার দরকার নেই। খামাখা বিল উঠবে।’ আকাশ কিছু বললোনা। ভাবলো পরী তো বেশ হিসেবী মেয়ে। আকাশের খরচ কমাবার জন্য সে লক্ষী বউয়ের মত চেষ্টা করছে। বেশ বেশ। মৃদু হাসি ফুটে উঠলো আকাশের মুখে। বেডরুমের সামনে এসে আকাশ দরজায় নক করলো। কতক্ষণ অপেক্ষা করে একটু জোরে আবার নক করলো। সে একটু অবাক হল। পরী কি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে। সে এবার আরো জোরে নক করলো। এতোক্ষণে পরীর কন্ঠ শোনা গেল। ‘কে’? আকাশ বললো,- পরী, দরজাটা খোল। আমি আকাশ।’ একটু পরে পরী দরজা খুললো। ভিতরে অন্ধকার। আকাশ বললো,- ‘একি ঘর অন্ধকার করে রেখেছো কেন ?’ বলে এগিয়ে গিয়ে সে সুইচ টিপলো। মুহূর্তে আলোয় উদ্ভাসিত হল ঘর। সেই উদ্ভাসিত আলোয় আকাশ সবিস্ময়ে দেখলো তার খাটে বসে আছে অয়ন। মুহূর্তে আকাশ জমে পাথ হয়ে গেল। নিজের দৃষ্টিকে সে যেন বিশ্বাস করতে পারলোনা।
মতামত জানাতে
০১৭৪১-১০২১২৯




সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};