ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
মুক্তি সংগ্রামী অধ্যাপক আ ম ম শহীদুল্লা বৃহত্তর কুমিল্লার একজন আলোকিত শিক্ষাবিদ
Published : Friday, 6 January, 2017 at 1:57 AM
মুক্তি সংগ্রামী অধ্যাপক  আ ম ম শহীদুল্লা বৃহত্তর কুমিল্লার একজন আলোকিত শিক্ষাবিদ ঠাকুর জিয়াউদ্দিন আহমদ ||

অধ্যাপক আ ম ম শহীদুল্লা(১৯৩৩-২০১০) ---
জীবনালেখ্যঃ ঐতিহাসিক সরাইল পরগনার মোগল রাজত্বকালের বহু ঐতিহাসিক স্মৃতি চিহ্ন এখনও বিদ্যমান। তার মধ্যে আরিফাইলের মসজিদ এবং হাটখোলা মসজিদ অন্যতম । ঐতিহাসিক হাটখোলা মসজিদের প্রথম ইমাম হযরত মাওলানা হাফেজ আব্দুল কুদ্দুস দেহলভী (রাঃ)-এর আগমন সুদূর দিল্লী থেকে। তিনি ছিলেন দিল্লী জামে মসজিদের ইমাম। এই হযরত মাওলানা হাফেজ আব্দুল কুদ্দুস দেহলভী(রাঃ)-এর অধ:স্থন পুরুষ প্রয়াত অধ্যাপক আ.ম.ম শহীদুল্লা( আশেক মুর্শেদ মোহাম্মদ শহীদুল্লা) ওরফে মুর্শেদ-এর জন্ম সরাইল থানার অন্তর্গত নিজসরাইল মোল্লা বাড়ীতে ১৯৩৩  সালের ২১ জুলাই। পিতা-মরহুম এম. আশেক উল্লাহ, মাতা বাংলাদেশ-ভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত কালীকচ্ছ গ্রামের লস্কর পরিবারের সন্তান স্বদেশী আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী সরাইল অন্নদা হাই স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক আব্দুর নূর লস্করের ছোট বোন হাসিনা বানু।
পিতা মরহুম এম আশেক উল্লাহ ছিলেন উদার ধর্মপ্রাণ পুরুষ। বিশিষ্ট সমাজ সেবক, বিদ্যুৎসাহী ও সচেতন ব্যক্তিত্ব। তিনি এলাকার নারী শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে কুসংস্কার  ও সংকীর্ণ মনোভাব বিদূরনে সমাজে সহশিক্ষার প্রচলনে সাহসী ভূমিকা পালন করেন। তিনি তখন তাঁর নিজ কন্যা আমাতুল্লাহ বিলকিসকে ঐতিহ্যবাহী সরাইল অন্নদা বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে  ভর্তি করান। এ নিয়ে তৎকালীন রক্ষনশীল মুসলিম সমাজ সমালোচনা মূখর হয়ে উঠে। তবে শেষ পর্যন্ত মরহুম এম আশেক উল্লাহ-এর উদ্যোগ জয়ী হয়েছিল।
এমন এক যোগ্য পিতার  সুযোগ্য সন্তান আ ম ম শহীদুল্লা নিজসরাইল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাইমারী শিক্ষা গ্রহন করেন। ঐতিহাসিক সরাইল অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করে ভর্তি হন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে । শিক্ষা জীবনের প্রতিটা ধাপ তিনি উত্তীর্ণ হায়েছেন কৃতিত্বের সাথে । শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করে যোগদান করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষকতা পেশায়। সারাটা জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন মানুষ গড়ার কাজে। জীবনের সুদীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকতায়। ইতোমধ্যে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন একই বিশ^বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অপর শিক্ষক  বর্তমানে  অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা যোবেদা আখতারের সাথে। ব্যক্তিগত  জীবনে তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তার জামাতা ডঃ মুস্তাফিজুর রহমান বর্তমানে নিবার্হী পরিচালক হিসেবে সি.পি.ডি-তে কর্মরত আছেন। 
দেশ মাটি মানুষের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনের সুতিকাগার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের   সুশিক্ষিত শিক্ষক সমাজের ভূমিকা সর্বজন বিদিত। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁদেরই একজন অধ্যাপক আ ম ম শহীদুল্লা। তিনি তখন ছিলেন মুক্তিসংগ্রাম-আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু তৎকালীন ইকবাল (বর্তমান যা সার্জেন্ট জহুরুল হক) হলের হাউজ টিউটর। আন্দোলন-সংগ্রামরত ছাত্রদের প্রতি ছিল তাঁর সহযোগিতা/সহসমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ। আর সে অপরাধে তাকে সুদীর্ঘ ৩ মাস দখলদার পাকিস্তানী সেনাদের ক্যাম্পে আটকে রেখে চালানো হয় অকথ্য নির্যাতন-নিপীড়ন। অভিজাত অভয়াভব,ঈর্ষণীয় লাবণ্য-এর সাথে মেধা, মনন,যোগ্যতা ও দক্ষতার এক অপূর্ব সম্মিলন ঘটেছিল মরহুম অধ্যাপক আ ম ম  শহীদুল্লার জীবনে। আর তাই আরোহন করেছিলেন জীবনের সর্বোচ্চ স্বার্থক শিখরে। সুদীর্ঘ কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি নানাবিধ সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের/প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ক্লাবের সভাপতি, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান,বাংলাদেশ গণিত সামিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, কুমিল্লার ওল্ড ভিক্টোরিয়ান এসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তিনি ডিগ্রী ক্লাশের গণিত বই রচনা করেছেন পি.কে ভট্রাচার্যের সাথে যৌথভাবে যা এককালে যথেষ্ঠ সুনাম অর্জন  করেছিল। ছাত্র জীবনে অধ্যক্ষ শেখ মোঃ আবু হামেদ এর নেতৃত্বে নিজ এলাকায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘‘সরাইল কালচারাল এসোসিয়েশন’’ যা ভাষা আন্দোলনে সরাইলে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
অধ্যাপক আ ম ম শহীদুল্লা ২৯ সেপ্টেম্বও ২০১০ ইং তারিখে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে তাঁর পিতা-মাতার কবরের  পাশে নিজসরাইল মোল্লাবাড়ির পারিবারিক কবরস্তানে।
(তথ্য সূত্রঃ অধ্যাপক আ ম ম শহীদুল্লা স্মরনে সরাইল থানা সামিতি, ঢাকা কর্তৃক ২৯ নভেম্বর ২০১০ জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকায় আয়োজিত শোক সভা উপলক্ষে প্রচারিত তথ্য)।
জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার প্রতি অনুরাগ আ ম ম শহীদুল্লা-র পারিবারিক ঐতিহ্য। অধ্যাপক শহীদুল্লা ১৯৫২ সালে সরাইল অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৫৪ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। তারপর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে ১৯৫৭ সালে গণিত বিষয়ে অনার্স ও ১৯৫৯ সালে  ¯œাত্তোকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। গণিতশাস্ত্রকে বলা হয়ে থাকে শুদ্ধতম বিজ্ঞান এবং গনিতশাস্ত্রই সকল বিজ্ঞানের ধাত্রী। তাই শুদ্ধতম বিজ্ঞানের সাধনায় তিনি  সারা জীবন আতœনিয়োগ করেন।
নিজের সাধনা এবং অর্জনকে ব্যক্তিজীবনে সীমাবদ্ধ  না রেখে আ ম ম শহীদুল্লাহ তা প্রজন্মন্তরে  ছড়িয়ে দেবার ব্রত গ্রহন করেন। এই লক্ষে শিক্ষকতার মহান পেশায় তিনি আতœনিয়োগ করেন। তাঁর কর্মজীবন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ^বিদ্যালয় পর্যন্ত ব্যপ্ত। শিক্ষকতা কেবল তার পেশা নয়, নেশা এবং সাধনা। তাই ছাত্র জীবনে ভাল ফলাফল করেও তিনি বিত্ত-বৈভব অর্জনের অন্য পেশায় নিয়োজিত  না হয়ে আজীবন  জ্ঞানসাধনার লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষকতার পেশা বেছে নেন । ছাত্র জীবন শেষ করে আ ম ম  শহীদুল্লা নিজ জন্মস্থানের  ও নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরাইল অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর জননেতা মাওলানা ভাসানীর  আহব্বানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মৌলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ কাগমারিতে বিনা পারিশ্রমিকে কলেজ শিক্ষকতায় যোগ দেন। পরবর্তীতে রাজশাহী সরকারী কলেজে কিছুদিন শিক্ষাদান শেষে ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক হিসাবে যোগদন করেন। তিঁনি ছিলেন  ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের তৎকালিন হাউজ টিউটর। আধ্যাপক আ ম ম শহীদুল্লার সুদীর্ঘ চার দশকের শিক্ষকতার জীবন ১৯৬০ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত। ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যনের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি পি.এইচ.ডি ডিগ্রী অর্জনের জন্য যুক্তরাজ্য গিয়েছিলেন। কিন্তু শ^াশুরীর অকাল মৃত্যুতে ১৯৭৫ সালে এম.এস করে দেশে ফিরে আসেন। তিনি উচ্চ এলজাব্রা-সহ ডিগ্রী ও অনার্সের পাঠ্য -বইসহ বেশ কয়েকটি গণিত বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেন।

অধ্যাপক আ ম ম শহীদুল্লা  একজন সমাজ ও রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিত্ব  এবং  বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের   চেতনার ধারক। ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন , ৬৬-র ৬দফা আন্দোলন,৬৯-এর ১১ দফা  আন্দোলন ও গণ অভূথান,৭০-এর সাধারন নির্বাচন এবং সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অত্যন্ত  সাহসী ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী অধ্যাপক আ ম ম শহীদুল্লাসহ ৬ জন শিক্ষক-কর্মকতাকে গ্রেফতার করে। তিনি শত্রু সেনাদের হাতে অকথ্য নির্যাতনের শিকার হন। প্রায় তিন মাস তিনি বর্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের হাতে কারারোদ্ধ ছিলেন।  অধ্যাপক আ ম ম শহীদুল্লা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ক্লাবের রেজিষ্টার হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি ক্লাবের প্রচার প্রকাশনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইংরেজির বদলে বাংলা ভাষা প্রচলনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ঢাকাস্থ সরাইল সমিতির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে উপদেষ্ঠা এবং বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা সামিতির সক্রিয় সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট  এবং উভয় সংস্থায় গুরুত্বপূর্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। ইহা ছাড়া তিনি কুমিল্লার ওল্ড ভিক্টোরিয়ানের  সঙ্গে  জন্মলগ্ন থেকে আমৃত্যু সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
(তথ্য সূত্রঃ বিশেষ প্রকাশনা , সরাইল সাংস্কৃতিক ফোরাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া )
উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্বর পাকিস্তানী  হানাদার বাহিনী অধ্যাপক আ ম ম শহীদুল্লার  সহকর্মী কুমিল্লার সন্তান শরাফত আলীকে নির্মমভাবে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে হত্যা করে। এ সংক্রান্তে ‘আমার সহকর্মী’ নামে তিনি একটি   প্রবন্ধ তিনি লিখিয়াছেন যা  বাংলা একাডেমী, ঢাকা থেকে “স্মৃতি-৭১”-এর ৬ষ্ঠ খন্ডের ১০২,১০৩,১০৪ পৃষ্টায় ছাপা হইয়াছে।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক এম শামসুর রহমান তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন  “ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় চত্বরে এক সুপরিচিত নাম অধ্যাপক আ ম ম শহীদুল্লা। কাজী মোতাহের হোসেন ভবন, কার্জন হল, প্রশাসন ভবন, শিক্ষক ক্লাব সর্বত্রই অধ্যাপক শহীদুল্লার স্বচ্ছন্দ বিচরণ। তাঁর কর্মজীবন যেন ছিল বহুমুখী। ছাত্র-শিক্ষক-অফিসার-কর্মচারী সবাই তাদের প্রিয়জন এই সুদর্শন শিক্ষকের শিষ্ট আচরণে মুগ্ধ হতেন। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ সমাজসেবকও। মানুষের সমস্যা নিরসনে,মানুষের কল্যাণে তিনি তার অকৃপন সাহায্যহস্ত বাড়িয়ে দিতেন । একজন স্পষ্টবাদী রূপে অধ্যাপক শহীদুল্লার বিশেষ পরিচিতি ছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার কন্ঠ ছিল সোচ্ছার। বৃক্ততা-বিবৃতিতেও তিনি ছিলেন পরাঙ্গম। শহীদুল্লা ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেশের স্বাধীনতার সপক্ষে তিনি প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। বলা অত্যুক্তি হবে না, অধ্যাপক  শহীদুল্লা  একজন মানবতাবাদী ও সচেতন নাগরিক ছিলেন। এই মানুষটির প্রতি  ছাত্র-ছাত্রীদের ভালবাসা ছিল অগাধ,শ্রদ্ধা ছিল গভীর”। ( তথ্য সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ০৮ অক্টোবর-২০১০। )
অধ্যাপক আ ম ম শহীদুল্লা  ছিলেন আমার খালত ভাই। মৃত্যুর পূর্ব পযর্ন্ত তিনি আমাকে নানা বিষয়ে উপদেশ দিয়ে গেছেন। তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে বিশেষভাবে গরীব  ও নির্যাতিত মানুষকে ভালবাসতে ও তাদের উপকার করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন। তিনি প্রায়ই আমাকে বলতেন তাঁর পূর্ব পুরুষরা ইরান-ইরাকের সীমান্ত এলাকা হইতে সুদীর্ঘ  অনুমান ৪০০ বছর পূর্বে ভারত উপমাহাদেশের প্রথমে দিল্লী ও পরে  বাংলায় আসিয়া বসতি স্থাপন করিয়াছেন।  দীর্ঘ দিন বাংলায় বসবাস করিয়া বর্তমানে তাঁরা শতভাগ  বাঙ্গালী জাতি।   তিনি নিজেকে  একজন খাঁটি বাঙ্গালী বলিয়া  পরিচয় দিতে গর্ববোধ করিতেন। জননেতা মাওলানা ভাসানী এবং স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের  স্থপতি ও জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের প্রতি তিনি ছিলেন গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পবিত্র  সংবিধানের চারটি মূল নীতি তথা জাতীয়তাবাদ,ধর্ম-নিরেপক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের প্রতি তাঁর ছিল একনিষ্ট সমর্থন এবং সকল প্রকার দূর্নীতি ও সন্ত্রাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। তিনি স্বপ্ন দেখতেন একটি শোষনহীন  সমাজ ব্যবস্থার। আমরা আশা করি তাঁর স্বপ্ন ভবিৎষতে বাস্তবায়িত হইবে।  কুমিল্লার প্রতি তাঁর ছিল অকৃত্রিম ভালবাসা। ঢাকায় তিনি বসবাস করার সময় নিজেকে বৃহত্তর কুমিল্লার সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করিতেন। তাঁর প্রতি আমাদের বিন¤্র শ্রদ্ধা।
লেখকঃ  অনুসন্ধানী  পাঠক ও সংস্কৃতিকর্মী, “প্রাক্তন রিডার” পুলিশ সুপার-এর কার্যালয়, কুমিল্লা-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া।





সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};