ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
নতুন ক্যালেন্ডারের ফুলে মালা গাঁথবে কে
মোস্তফা হোসেইন ||
Published : Sunday, 1 January, 2017 at 1:59 AM
নতুন ক্যালেন্ডারের ফুলে মালা গাঁথবে কেনতুন ক্যালেন্ডার লেগেছে দেয়ালে। নতুন আশা কতটা সঙ্গে নিয়ে? বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের ইতিহাসে সিঁড়ি ডিঙ্গানোর পালা বলা যায় এই পরিবর্তনকে। সামনে বিশাল ক্ষেত্র আমাদের। সেখানে রোপণ হবে নানা ফসল। সুবজইতো চোখে ভাসে কর্ষিত ভূমির কথা ভাবতে গেলে।
দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সবচেয়ে বেশি ছিল গত বছর। নিষ্ক্রিয় প্রায় বিরোধী দল বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠকে উত্তাপহীন করে দিয়েছিল। সরকারকে মাথা ঘামাতে হয়নি বিরোধী শিবিরের আন্দোলন ঠেকানোর জন্য। আর সেই নিরুত্তাপ অবস্থা তৈরি হয়েছে কয়েক বছর আগে জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনের জের ধরে। জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন দমন করে যে সাফল্য সরকার এনেছে তারই সুফল বলা যায়- এই শান্তিপূর্ণ অবস্থাকে।
প্রশ্ন হচ্ছে ২০১৭-ও কি এমনই কাটবে? বৃহৎ বিরোধী দল জাতীয়তাবাদী দলের বর্তমান অবস্থা দৃষ্টে মনে হতেই পারে, এবছরটিও তাদের নড়ে ওঠার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। যথেষ্ট সুযোগ থাকার পরও তারা দল সংগঠিত করতে পারেনি। দীর্ঘ প্রতিক্ষা শেষে মহাসচিবকে ভারমুক্ত করার পরও এর কোনো প্রভাব পড়েনি দলের ভিতর। সুবিধাবাদী নেতারা নিজেদের গুটিয়ে ফেলেছেন লন্ডন নির্দেশনার যাতনা সইতে না পেরে। অন্যদিকে লন্ডনী নেতার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এবং ওই নেতার লুকিয়ে থাকার মানসিকতা দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। যে কারণে দলের বিকাশ হয়নি প্রয়োজন অনুযায়ী। বিশাল আকারের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করে দলের নেতাদেরও ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি দলটি দুর্বল নেতৃত্বের কারণে। যে কারণে শক্তিশালী বিরোধী দলের চাহিদা থাকার পরও তারা দুর্বল অবস্থানেই থেকে গেছে। সুতরাং একটি দুর্বল দলের পক্ষে রাজনৈতিক আন্দোলন করার মতো তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
গেলো বছরে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করতে হবে স্বাধীনতা বিরোধী ও বদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী ও বদর নেতা মীর কাশেম আলীর ফাঁসির দ- কার্যকর হওয়াকে। ৪৫ বছর প্রতিক্ষার পর যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী এ দুই অপরাধীর দ- কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে শাসকদল যেমন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে, তেমনি প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র শক্তিতেও বড় আঘাত হানতে সফল হয়েছে। বিগত সময়ে বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রায় সর্বাংশে এ যুদ্ধাপরাধী দলটির ওপর নির্ভর করতো। এমনকি তাদের নির্বাচনী বৈতরণী পারি দিতে গিয়েও অনেকাংশে নির্ভর করেছে এই দলটির ওপর। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ২০১৭-তে ও চলবে। এ বছর যদি যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগের মতো কয়েকটি দলকে শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হয় তাহলে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির রাজনৈতিক শক্তি আরো হ্রাস পাবে। সেক্ষেত্রে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আরো সংহত হবে। তাদের ক্ষমতাকালও নির্বিঘœ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে যে যেভাবেই বিশ্লেষণ করুক না কেন, এটা সত্য এই সরকার আইনানুগ ও নৈতিক দুদিক থেকেই সমর্থন লাভ করে গেছে জনগণের নীরবতার মাধ্যমে। এই সুযোগটি কাজে লাগাতে ত্রুটি করেনি শাসকদলটি। তারা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচন করে নিজেদের আগামীটা প্র্রশস্ত করে দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচন হিসেবে তারা যেমন নিজেদের সাফল্যের দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে, তেমনি আগামী নির্বাচনে স্থানীয় সরকারের সমর্থনের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে। আর এমন সময় জেলা পরিষদ নির্বাচন হলো যাতে করে আগামী সাধারণ নির্বাচন চলাকালেও এই জেলা পরিষদ ক্ষমতাসীন থাকবে।  
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রায় সবকটি জেলা পরিষদেই সরকার দলীয় নেতা কর্মীরা ক্ষমতাসীন। এর আগে দলীয় মনোনয়ন মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদেরও দলভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে শাসকদল। ফলে তাদের আগামীটা নির্ভেজাল হবে মনে করা যায়। রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করে নিজের অবস্থান দৃঢ় করার উপর নির্ভর করে দলীয় সাফল্য। এক্ষেত্রে শাসকদল এখনো অপ্রতিদ্বন্দী।
এই মুহূর্তে বিরোধী দলকে সাফল্য অর্জনের লড়াইয়ের প্রথম ধাপ হিসেবে নেতাদের আড়মোড় ভাঙ্গতে হবে। সেই কাজটি কি করতে পারবে তারা? শীর্ষ পর্যায়ে দিবানিদ্রা যতদিন থাকবে ততদিন শাসকদলকে মোকাবেলা করা কতটা সম্ভব হবে তা অনুমান করা যায় সহজেই।
গেলো বছর ছোট দল হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টি রাজনৈতিক মাঠে কিছুটা সরব ছিল। কিন্তু সেখানেও তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা তাদের এগিয়ে নিতে পারেনি। যদিও তাদের ছাত্র সংগঠনটি মূলত দেশের ছাত্র রাজনীতিতে বলতে গেলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। সেটাও রাজধানী কেন্দ্রিক হওয়ার কারণে অদূর ভবিষ্যতে তাদের মাধ্যমেও রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা খুব একটা সম্ভব হবে না বলেই মনে করা যায়। কমিউনিস্ট পার্টি তাদের দলকে সংগঠিত করার চেয়ে ইসুকে প্রাধান্য দিয়ে আন্দোলনে বেশি সময় দিয়েছে। সুন্দরবন ইস্যুটি তাদের রাজনৈতিক সুবিধা কিছুটা এনে দিতে পারলেও সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে খুব একটা ভূমিকা পালন করতে পারেনি। ফলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কোনো বিরোধী দলের শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এমতাবস্থায় শাসকদল যে ২০১৭ সালেও শক্ত ভিতেরও উপরই থেকে যাবে তা মনে করা যায়।
দুর্বল বিরোধীদল থাকার কারণে  শাসকদলের অধিকতর শক্তি সঞ্চয়ের পথ কিছুটা হলেও রুদ্ধ হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবেলা করার জন্য শাসকদলকে স্থানীয় পর্যায়ে সুসংগঠিত করতে হয়। যেহেতু কেন্দ্র কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী বিরোধী দল অনুপস্থিত তাই স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি দলের সাংগঠনিক কর্মচাঞ্চল্য নেই। এটা সামগ্রিকভাবে দেশের রাজনীতির জন্য শুভ বলে মনে হয় না।
সাধারণত শীতকালে রাজনৈতিক মাঠ সরগরম থাকে। এই মুহূর্তে আবহাওয়ায় শীতের যেটুকু উপস্থিতি আছে রাজনীতির আবহাওয়াটা তার চেয়েও শীতল। এই শীতলভাব রাজনীতির জন্য খুব একটা সুখকর নয়। তবে জনজীবনে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজমান এটা নিশ্চিতভাবে স্বস্তিদায়ক। তাই নতুন ক্যালেন্ডারে যে ফুলের ছবি তা শাসকদলের জন্য মালা গাঁথতেই কাজে আসবে বলে মনে হয়। সেই ফুলের ঘ্রাণ যদি জনগণ গ্রহণ করতে পারে তাহলেই মঙ্গল। খ্রিষ্টিয় নতুন বছরে সবার শুভ হোক।
লেখক- সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক।
মুঠোফোন- ০১৯১৮ ১৮৮ ৯৪৮




সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};