ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
‘একটা কুমিল্লার কাগজ দ্যান’
Published : Thursday, 15 December, 2016 at 2:57 PM, Update: 15.12.2016 3:50:01 PM
‘একটা কুমিল্লার কাগজ দ্যান’জসীম উদ্দিন অসীম।
কুমিল্লার পত্রিকার একটি ষ্টলে দাঁড়িয়ে আছি একদিন। এমন সময় অচেনা একজন লোক এসে দোকানদারকে বললেন, আজকের একটা ‘কুমিল্লার কাগজ’ দ্যান তো।’ ‘কুমিল্লার কাগজ’ পত্রিকা কিনে চলে গেলেন সেই লোক। কিছুক্ষণ পর আরও একজন কিনে নিলেন সেই একই পত্রিকা। কুমিল্লায় আরও দৈনিক পত্রিকা রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ লোক কেন ‘কুমিল্লার কাগজ’ খোঁজ করছে! এবার আমি দোকানদার তপন পালকে বললাম, দাদা কী আছে আজকের ‘কুমিল্লার কাগজ’-এ? তপনদা’ আমার বাবার পরম বন্ধু অশ্বিনী পালের নাতিন জামাই। তাদের দোকান কুমিল্লা শহরের লাকসাম রোডের ‘খাদি জ্যোৎ¯œা স্টোর’। তিনি সেদিনের একটি ‘কুমিল্লার কাগজ’ এগিয়ে দিলেন আমার দিকে। আমি দেখলাম অন্যান্য স্থানীয় দৈনিকগুলোর তুলনায় ছাপা ভালো, কাগজ ভালো, নিউজের মানও ভালো। কিন্তু তুলনায় অনেক বেশি বিজ্ঞাপনে ঠাসা একটি রঙিন ট্যাবলয়েড পত্রিকা ‘কুমিল্লার কাগজ’। তপনদা’কে বললাম, দাদা এতো বিজ্ঞাপন থাকার পরও কেন মানুষ অধিক পরিমাণে ‘কুমিল্লার কাগজ’ পত্রিকার খোঁজ করে? তপনদা’র সহজ উত্তর। এটা কুমিল্লার ‘মাতৃভান্ডার’ এর রসমালাই।
কিন্তু ‘কুমিল্লার কাগজ’ পত্রিকাটি কেন এত জনপ্রিয় হলো! কেন মানুষের মুখে মুখে এর নাম? এটা কি শুধুই ঝকঝকে ছাপার কারণে? কেন তারা তুলনামূলক বেশি বিজ্ঞাপন পায় কিংবা বিজ্ঞাপনের রেটও বেশি রাখে? এর নিশ্চয়ই আরও অনেক কারণ রয়েছে, যা পাঠককে আকৃষ্ট করছে। কারণ পাঠক কারো দাস নন। তারা নিজের টাকায় নিজের চাহিদা মতো নিজের পছন্দের পত্রিকাটিই কিনেন। কুমিল্লার মেয়ে মীম কিংবা ইশানা যখন লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নামেন, তখন এবং অন্যান্য লোকাল ইস্যুতেও পাঠক কুমিল্লার সবগুলো দৈনিক হাতিয়ে দেখেন সর্বোচ্চ মানের কাভারেজটি প্রথমেই এসেছে কোন পত্রিকায়। আর সে ক্ষেত্রে ‘কুমিল্লার কাগজ’ পত্রিকাকে বরাবরই এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। একটি পত্রিকা কিছু সময়ের জন্য সর্বোচ্চ বাজার দখল করে রাখে কিংবা রাখতে পারে। কিন্তু একটি পত্রিকা সব সময়ের জন্য বাজার হয়তো সমান্তরালে ধরে নাও রাখতে পারে। কিন্তু কী সেই ‘কুমিল্লার কাগজ’ এর মূলমন্ত্র, যার কারণে জন্মের পর থেকে বিগত এক যুগ ধরে এই পত্রিকাটিই কুমিল্লার পাঠক চাহিদার এক নম্বর তালিকা দখল করে রয়েছে?
২০০৪ সালের ৮ ডিসেম্বর তারিখে কুমিল্লা মুক্তদিবসে ‘কুমিল্লার কাগজ’ আত্মপ্রকাশ করে। এই আত্মপ্রকাশের দিন নির্ধারণের মধ্য দিয়েও পত্রিকাটি কুমিল্লার ইতিহাসে নিজেকে জড়িয়ে নেয়। শুরুতে ‘কুমিল্লার কাগজ’ এর সঙ্গে আমিও জড়িত ছিলাম। পত্রিকাটির ঘোষণাপত্র প্রাপ্তির পর অনেক পরীক্ষানির্ভর সংখ্যা মুদ্রিত হলেও পাঠককে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫০ পৃষ্ঠার রঙিন ক্রোড়পত্রসহ উদ্বোধনী সংখ্যাটি দেওয়া হয় ৮ ডিসেম্বর তারিখেই। ওই হিসেবে কুমিল্লা মুক্তদিবসের মতো কুমিল্লার কাগজেরও জন্মদিন সেই ৮ ডিসেম্বর তারিখেই। এ বিষয়টি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি পত্রিকাটির সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়েরই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ফসল। কুমিল্লার সাংবাদিকদের মধ্যে বরাবরই মতবিরোধ ছিলো। কিন্তু এই বিরোধিতা ‘কুমিল্লার কাগজ’ এর জনপ্রিয়তা লাভের ক্ষেত্রে বাধা হতে পারেনি। জনগণের সমর্থন পেলে রাজনীতি তুষ্ট হয়, আর পাঠকের সাড়া পেলে পত্রিকা পুষ্ট হয়। ‘কুমিল্লার কাগজ’ সেই পাঠকের সাড়া আদায় করে নিয়ে পুষ্ট হতে পেরেছে। পাঠক ‘হীরা’কে ‘কাচ’ বলে না। ‘কাচ’কেও ‘হীরা’ বলে তুলে নেয় না। পাঠক ভীষণই চালাক। তাদের লাভের ক্ষেত্রে তারাই বিন্দুমাত্রও ছাড় দেয় না। আর নিন্দুকেরা হীরাকেও ঈর্ষায় কাচ বলে কিংবা স্বার্থের লোভে কাচকেও হিটলারের তথ্যমন্ত্রী গোয়েবলসের মতো হীরা বলে চালিয়ে দিতে অপচেষ্টা চালায়।
‘কুমিল্লার কাগজ’ এর একটি বড় কমিটমেন্ট ছিল নিয়মিত প্রকাশিত হওয়া। হরতালে-অবরোধে- বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে-অর্থনৈতিক মন্দায় বরাবরই পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে। গরু-মহিষের শিং রয়েছে, কিন্তু মানুষের নেই। অথচ পৃথিবীতে মানুষই সবচেয়ে বেশি গুতোগুতি করে। আর সে মানুষ যদি হয় সাংবাদিকতা পেশার মতো কূটনৈতিক পেশার লোক, তাহলে তো কথাই নেই। এ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়ও তার ব্যতিক্রম নন। অথচ তিনি মূল কাজটি করার ক্ষেত্রে কখনোই ছাড় দেননি। প্রকৃত ব্যবসায়ী তো তিনিই, যিনি মন্দার বাজারেও তার দোকান খোলা রাখেন।
সাংবাদিক আবুল কাশেম হৃদয়ের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিলো আজ থেকে দুই যুগ আগে। ১৯৯২ সালে। তারপর পেশাদারী সাহস ও দক্ষতার সাথে তার পথ চলা ক্রমাগতই চলতে থাকে। ‘কুমিল্লার কাগজ’ পত্রিকা বাজারে আসার পূর্বেই আবুল কাশেম হৃদয় সাহসী সাংবাদিক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। আর ‘কুমিল্লার কাগজ’ পত্রিকা বাজারে আসার পূর্বে সেই পত্রিকার একটি প্রকাশিত পোষ্টারেও তার জানান দেয়া হয়েছিলো। ‘সময়ের সাহসী সাংবাদিকের সম্পাদনায় বের হচ্ছে কুমিল্লার কাগজ।’ কিন্তু সাহসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হয়। না হলে সমূহ সর্বনাশ। ইরাক যুদ্ধের সময় যখন আল জাজিরা টেলিভিশনের সাংবাদিকদের ঘুমন্ত অবস্থায় গানশিপ চালিয়ে মার্কিন সেনারা  হত্যা করে, তখন সহজেই বুঝতে পারা যায় সাংবাদিকের লাগামহীন সাহস কতোটা আত্মঘাতী। সাংবাদিকগণ রাষ্ট্রীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে নন। আর সেই বৈশ্বিক বা রাষ্ট্রীয় রাজনীতি ভীষণই বৈচিত্র্যময়। যে ফরাসিরা একদিন ইরাককে অস্ত্র যুগিয়েছিল, তারাই আবার যৌথবাহিনীতে যোগ দিয়ে ইরাকের দিকে অস্ত্র তাক করেছিলো। আজ  যে ফ্রান্সসহ সেই সময়কার যৌথবাহিনীর বিভিন্ন দেশে জঙ্গি হামলা চলছে, তাও কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের একসময়কার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব ) মোঃ তাজুল ইসলাম যখন কুমিল্লা সদর উপজেলার ইউএনও ছিলেন, সেই ২০০৩-২০০৪ সালের দিকে, তখন আমি একবার আবুল কাশেম হৃদয়ের সঙ্গে ইউএনও-র কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। তাজুল ইসলাম সেদিন হৃদয়কে বলেছিলেন যেন তিনি পেশাগত সাহস দেখাতে গিয়ে আবার আত্মঘাতী না হয়ে পড়েন। এখন  আমার কাছেও দুঃসাহসের এই পন্থাকে আর সঠিক মনে হয় না। কারণ অস্তিত্ব না বাঁচলে সাহস দিয়ে কী হবে! ব্যাংকের সঞ্চিত টাকা যেমন মূল্যবান, তার চেয়ে কম মূল্যবান কোনোভাবেই নয় সাংবাদিকের প্রাণ। কিন্তু কুমিল্লার এত এত ব্যাংকের এত এত শাখায় এত এত গানম্যান থাকলেও আমার জানামতে কুমিল্লার কোনো সংবাদপত্র অফিসেই একজনও গানম্যান নেই। এখানকার কোনো একটি পত্রিকাও আজ অবধি তাদের জন্য কিংবা তাদের অফিসের জন্য কোনো গানম্যান নিয়োগের বিজ্ঞাপন ছেপেছে বলেও আমার জানা নেই। আমার এটাও জানা নেই কুমিল্লার কোনো সম্পাদকের লাইসেন্সকৃত কোনো শর্ট গান কিংবা পিস্তল রয়েছে কী না। কিন্তু থাকা উচিত। সাংবাদিক আবুল কাশেম হৃদয় একজন মুক্তিযুদ্ধের গবেষক। যে রাজাকাররা আমাদের মায়েদের গনিমতের মাল বলে ফতোয়া দিয়েছিল, বোনদের তুলে দিয়েছিল পাক-জল্লাদদের হাতে, মুক্তিযোদ্ধাদের বলেছিলো কাফের এবং তারা নিজেরা নিয়েছিলো ‘গাজী’র খেতাব, তারা এবং তাদের উত্তরসূরিরা আর তাদের সংগঠনগুলো এই দেশে ভয়ংকর রূপে এখনো বহাল রয়েছে। ১৯৭১ সালের সারাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মতো তাই কুমিল্লার সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর-ধনঞ্জয় গ্রামের ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭১-এর হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস লিখন, মুদ্রণ, প্রকাশ ও প্রচারের কাজটিও কখনোই নির্বিঘœ নয়। প্রকৃত লেখক- সাংবাদিক-গবেষক ও শিল্পীদের জন্য পৃথিবীর সব দেশই সব যুগেই বিপজ্জনক ছিলো। নিষিদ্ধ রাজদ্রোহী সাহিত্য ও সাংবাদিকতার মর্মান্তিক ইতিহাস আমাদের কম বেশি সবারই পড়া রয়েছে। আজকে যদি সংবাদ ছাপা হয় ‘অমুক’ কলেজের লাল-সবুজ পতাকা আলমারিতে বন্দি, আগামীকালই তমুক ভাইয়ের হুমকি পাওয়া সাংবাদিকের জীবনে ফ্রি। কারণ ক্ষমতাবানদের সঙ্গে লড়াই করা সহজ নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকান সৈন্যরা চড়বে বলে ভারতীয়দের ট্রেনে চড়া বারণ ছিলো। কথা না শুনলে কোনো ভারতীয় তাকে ঘোড়সওয়ার বৃটিশ পুলিশ ইচ্ছেমতো ঠেঙ্গাতো। র‌্যাবের হাতে আজ পর্যন্ত যারা মারা পড়েছে, তারা একজনও গডফাদার নয়। গডফাদারদের সৃষ্টি সন্ত্রাসী মাত্র। দেশের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কিংবা গডফাদারগণ এখনো র‌্যাবের বন্দুকের নলের আওতায় আসেনি। সুতরাং সেই গডফাদারদের মুখোশ উন্মোচনে প্রাণ উৎসর্গ করবে ¯'ানীয় কোনো সংবাদপত্র, মনে হয় এইভাবে ভাবার কোনো এই সময়ে বাস্তব কারণ নেই। সাংবাদিকগণ- সম্পাদকগণ এতোটা স্বাধীন নন। নন বিচারকগণও। বিচার বিভাগ এতটা স্বাধীন হলে বিচারগণ যখন তখন ওয়ারেন্ট দিয়ে অনেক এম. পি মন্ত্রীকে নিয়মিত কোর্টে নিয়ে যেতে পারতেন। সুতরাং  ‘কুমিল্লার কাগজ’ পত্রিকার যেখানে সীমাবদ্ধতার শুরু, সেটার  দায় সম্পাদকের একার নয়, রাষ্ট্রের। মুক্তিযুদ্ধকালীন আমাদের জাতীয় পতাকার রূপকার শিবনারায়ণ দাশ কুমিল্লায় দৈনিক পত্রিকা সম্পাদনায় এসেছিলেন। তার প্রতি সর্ম্পূণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তিনি উপলব্ধি করেছেন কুমিল্লায় এখন একটি পত্রিকাকে নিয়মিত মুদ্রণ ও প্রকাশ কতোটা কষ্ট সাধ্য কিংবা অসাধ্য একটি ঘটনা। আর সোসাল- পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট মেনটেইন করা তো আরও পরের কথা। ব্যবসার দুনিয়ার কেউ কাউকে ছাড় দেয় না। আবুল কাশেম হৃদয় এবং তার ‘কুমিল্লার কাগজ’ কেও কেউ ছাড় দেয়নি। সম্পাদক নিজেই এ অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। আজকে পারলে আজকে আমিই তার স্থান কেড়ে নিতে বদ্ধ পরিকর এত ঘনিষ্ট বন্ধু হওয়ার পরও। বাজারের দুনিয়া এতোই হিং¯্র। লিবিয়া পতনের শেষ দিনগুলোতে, এমনকি গাদ্দাফির মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও চীনের একটি কোম্পানী গাদ্দাফির কাছে অস্ত্র বিক্রির আশায় বসেছিল। গাদ্দাফিকে উদ্ধারের কথা কেউ ভাবেননি। অন্যেরা বসেছিলেন তার বড় বড় তেলখনি গুলোর দখল নিতে। সুতরাং আজ যে অজ্ঞাত কিংবা অপরিচিত একজন পাঠক দোকানে এসে প্রতিদিনকার ‘কুমিল্লার কাগজ’ কিনেন এবং বলেন, ‘একটা কুমিল্লার কাগজ দেন’ Ñ তার একমাত্র কৃতিত্ব এই পত্রিকার সম্পাদক এবং প্রকাশক আবুল কাশেম হৃদয়েরই।




সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};